মঞ্চে শেখ হাসিনা-কাদেরের সারিতে বসবেন আ’লীগের ৪ উপদেষ্টা

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০১৯

ডায়ালসিলেট ডেস্ক:আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল আজ। বেলা ৩টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দু’দিনব্যাপী কাউন্সিলের উদ্বোধন করবেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরদিন (শনিবার) সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে কাউন্সিল অধিবেশন।

এবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনের মূল মঞ্চে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সারিতে আসন পাচ্ছেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের চার নেতা।

প্রথম সারির হেড টেবিলে বসবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। একই সারিতে তাদের পাশে উপদেষ্টা পরিষদের চার সিনিয়র সদস্য এবং সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা বসবেন। এর পেছনে দ্বিতীয় সারিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও চার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বসবেন। তৃতীয় সারিতে সম্পাদকমণ্ডলী ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা বসবেন।

এবিষয়ে মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপ-কমিটির সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মির্জা আজম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রথম হেড সারিতে দলীয় সভাপতি ও পার্টির জেনারেল সেক্রেটারির পাশে থাকবেন উপদেষ্টাপরিষদের সিনিয়র চার সদস্য। এর পরের আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ কার্যনির্বাহী সংসদের নেতাদের আসন থাকবে।’

মির্জা আজম আরও জানান, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের ইতিহাসে এত বিশাল আয়োজন কখনও হয়নি। মূল প্যান্ডেলের ভেতরে ৩০হাজার চেয়ার বসানো হবে। এই বাইরে পাশে আরও দশ হাজার থাকবে। প্যান্ডেলের ভেতরে ভিআইপিদের দুই আড়াই হাজার চেয়ারের আলাদা বসার ব্যবস্থা থাকবে। সেখানে আমাদের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের বসার ব্যবস্থা থাকবে। জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক; তাদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা থাকবে।’

২০তম জাতীয় সম্মেলনে দলের উপদেষ্টাপরিষদের সদস্যদের জন্য মঞ্চের সামনে সম্মানিত অতিথির আসন নির্দিষ্ট ছিল। কিন্তু দলীয় সভাপতির সিদ্ধান্তে এবার নিজের পাশেই তাদের বসার আসন রাখা হয়েছে।

এবারের সম্মেলনে পরিষদের সংসদ সদস্য ৪১ থেকে ১০ জন বৃদ্ধি করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট সদস্য করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। এটি পাসের জন্য সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরদের সামনে উত্থাপন করা হবে। এরপর এটি কাউন্সিলরদের ভোটে পাস হলে ৫১সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টাপরিষদ গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত হবে।

৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির চারটি পদ খালি থাকায় মূল মঞ্চে চেয়ার থাকবে ৭৭টি। মঞ্চের সামনে নেতাকর্মীদের জন্য চেয়ার থাকবে ৩০ হাজার। এছাড়া সম্প্রসারিত মঞ্চে চেয়ার দেয়া হবে ১৫ হাজার।

এবার দলের প্রায় ১৫ হাজার কাউন্সিলর এবং প্রতিনিধি অংশ নেবেন। তাদের বাইরেও দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকবেন। সব মিলিয়ে ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত এবং খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।

২৮টি এলইডি পর্দায় দেখানো হবে সম্মেলনের পুরো অনুষ্ঠান। উদ্বোধনের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব আলোর ঝলকানি উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করবে।

রাজসিক সাজে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নয়নাভিরাম দৃশ্যপটের অবতারণা করা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কাউন্সিল স্থল। রঙিন বাতি আর লেজার রশ্মির সমন্বয়ে সেখানে সৃষ্টি করা হয়েছে বাস্তবতার নিরিখে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য।

পদ্মা সেতুর আদলে সম্মেলন মঞ্চ নির্মাণের কাজ শেষ। পদ্মা সেতুর নিচে প্রাকৃতিক দৃশ্য। নদীতে থাকছে অসংখ্য ছোট নৌকা। এর মধ্যে একটি বড় আকৃতির নৌকায় সম্মেলন মঞ্চটি দেখানো হবে। মঞ্চটি করা হয়েছে ডিজিটাল। এর উচ্চতা ২৮ ফুট। দৈর্ঘ্য দেড়শ’ ফুট। প্রস্থ ১৪০ ফুট। ২৮টি এলইডি পর্দায় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান তুলে ধরা হবে।

জাতীয় পতাকা ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ শোভিত সম্মেলন মঞ্চে থাকবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি। মঞ্চের বাম দিকে পর্যায়ক্রমে থাকবে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকসহ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের প্রতিকৃতি।

ডান দিকে পর্যায়ক্রমে থাকবে চার জাতীয় নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানের প্রতিকৃতি।

‘স্বর্ণোজ্জ্বল অতীত/অদম্য উন্নয়নের বর্তমান/বিশ্ব জয়ের লক্ষ্যে আগামী’-স্লোগান লেখা সম্মেলন মঞ্চে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ছবিও শোভা পাবে। আওয়ামী লীগের পতাকাও থাকবে মঞ্চের ডিজিটাল ব্যানারে।

সম্মেলন অঙ্গনেও থাকছে আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক। সচিত্র বিবরণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। স্বৈরাচার সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ছবিও থাকবে।

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছাড়াও সেখানে থাকবে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা হোসেন পুতুল ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির ছবি।

আওয়ামী লীগের সাবেক চার সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল জলিল ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে দলীয় সভাপতির সাংগঠনিক কার্যক্রমের চিত্রও তুলে ধরা হবে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ বিভিন্ন দেশের প্রধান ও বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ছবিও থাকছে।

0Shares