ভারতের নতুন সেনাপ্রধানের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান পাকিস্তানের

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এমএম নারাভানি’র বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। তিনি বলেছেন, নিয়ন্ত্রণ রেখা পরাবর ‘প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’ চালানোর অধিকার আছে নয়া দিল্লির। তার এ বক্তব্যের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ভূখন্ডের ভিতরে অথবা আজাদ জম্মু কাশ্মীরে ভারতের যেকোনো আগ্রাসী তৎপরতাকে রুখে দেয়ার জন্য পাকিস্তান প্রস্তুত। এ বিষয়ে কারো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। বালাকোটে ভারতের ‘মিস অ্যাডভেঞ্চারের’ সমুচিত জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। বিষয়টি কারো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। এতে আরো বলা হয়, ভারতের উস্কানি সত্ত্বেও এ অঞ্চল ও এর বাইরের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সব প্রচেষ্টার প্রতি অব্যাহতভাবে অবদান রেখে যাবে পাকিস্তান।
এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন-এর অনলাইন সংস্করণ।

এতে ফার্স্ট পোস্টকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, মঙ্গলবার ভারতের ২৮তম সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পান জেনারেল নারাভানে। তিনি দায়িত্ব নেয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে বলেছেন, নিয়ন্ত্রণ রেখায় শত্রুপক্ষকে না জানিয়েই অভিযান চালানোর অধিকার আছে নয়া দিল্লির। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই’কে একটি ব্যতিক্রমী সাক্ষাতকার দিয়েছেন নতুন ওই সেনাপ্রধান। এতে তিনি বলেছেন, পাকিস্তান যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাসে মদত দেয়ার নীতি বন্ধ না করে, তাহলে আমাদের অধিকার আছে সন্ত্রাসের উৎসে ‘প্রি-এম্পটিভ’ হামলা চালানোর। সার্জিকেল স্ট্রাইক এবং বালাকোট অপারেশনে আমাদের দেয়া জবাবে তা ব্যাপকভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এর সঙ্গে হিন্দুস্তান টাইমস যোগ করেছে যে, সেনাপ্রধান বলেছেন, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস মোকাবিলায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের মতে, সেনাপ্রধান পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে ভারতের সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জেনারেল নারাভানে। এ ছাড়া তিনি শান্তি, ফিল্ড ও সন্ত্রাস বিরোধী উচ্চ মাত্রায় সক্রিয় কাশ্মীর ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে বিভিন্ন কমান্ড ও স্টাফ অ্যাপয়েন্টমেন্টে কাজ করেছেন। এ ছাড়া তিনি ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান ছিলেন। কমান্ড দিয়েছেন দখলীকৃত কাশ্মীরে রাষ্ট্রীয় রাইফেল ব্যাটালিয়নে। কমান্ড দিয়েছেন ইস্টার্ন ফ্রন্টে ইনফ্যানট্রি ব্রিগেডে।

উল্লেখ্য, সদ্য চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেনারেল বিপিন রাওয়াত। জেনারেল নারাভানের আগে তিনিই ছিলেন সেনাপ্রধান। গত মাসে বিপিন রাওয়াত সতর্ক করেন যে, নিয়ন্ত্রণ রেখায় যেকোনো সময় উত্তেজনাকর অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে, সে দিক থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্সের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসিফ গফুর।

ওদিকে সদ্য সেনাপ্রধানের দায়িত্বে আসা জেনারেল নারাভানের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বলা হয়েছে, তাদের ওই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীকে ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে কোনো ‘ফলস-ফ্লাগ’ অপারেশন চালানোর ইচ্ছা থাকতে পারে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাশ্মীরি জনগণের প্রতি স্বচ্ছ সমর্থন ও সংহতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে। বলা হয়, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু কাশ্মীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা প্রহসন।

0Shares