জনগণকে কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২০

ডায়ালসিলেট ডেস্ক:সুসংগঠিত দল সরকারের জন্য বিরাট শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, একটি সরকার সফলভাবে পরিচালনার জন্য দলকে সুসংগঠিত রাখা জরুরি। গতকাল রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ে ২১তম জাতীয় কাউন্সিলে নির্বাচিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম যৌথসভার শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন। দলের সকল কার্যনির্বাহী সদস্য এবং উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। সভা পরিচালনা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বক্তব্যের শুরুতে শেখ হাসিনা প্রয়াত সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কথা স্মরণ করেন। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই যৌথ সভা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়। কিছুক্ষণ চলার পর যৌথসভা আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, দলের শক্তিটাই সব থেকে বেশি কাজে লাগে একটা দেশকে উন্নত করতে। যেটা আমি নিজে উপলব্ধি করি। যে কারণে আমি সংগঠনের ওপর সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিই। তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, ২০২০ সাল বাংলাদেশের জন্য সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। কারণ, এটা হচ্ছে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী। ১৯২০ সালে তার জন্ম। মনে হয়, তার জন্মটাই হয়েছিল বাঙালিকে জাতি হিসেবে একটা আত্মপরিচয় এনে দেয়ার জন্য।

একটি জাতি রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য। প্রধানমন্ত্রী এ সময় জনগণের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের জনগণের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। কেননা তাদের আস্থা ও বিশ্বাস না থাকলে আমরা এই সুযোগটা পেতাম না। জানি না কী হতো, ইতিহাস বিকৃত করে তার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) নামটাই তো মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের জনগণ আমাদের ২০০৮ সালে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আমরা সরকারে আসতে পেরেছি বলেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করার সুযোগ পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের সৌভাগ্য হলো ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উদযাপনকালেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। তিনি বলেন, ২৩ বছরের সংগ্রাম ও ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে লাখো প্রাণের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা, সেটা ব্যর্থ হতে পারে না। সেটা প্রমাণ করাই আমাদের লক্ষ্য। সেটা যে আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি, সেটা আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে পারব। কিন্তু সেটা আমাদের ধরে রাখতে হবে।

এসময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী সংগঠন। রাজনৈতিক সংগঠন কিভাবে করতে হয়, এ দেশে কেউ শিখিয়ে থাকলে সেটা আওয়ামী লীগই শিখিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি স্কুল জীবন থেকে মিটিং-মিছিলে অংশগ্রহণ করেছি। নিজের কলেজে সক্রিয় রাজনীতি করেছি। সেখান থেকে এত বড় একটা দলের দায়িত্ব নেব কখনও ভাবিনি। এত বড় দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম কাজ ছিল দলকে সুসংগঠিত করা। আজ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী সংগঠন। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। শেখ হাসিনা বলেন, অনেক অপবাদ দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ স্মার্ট না বলেছেন। কিন্তু ক্ষমতায় এসে স্মার্টনেস দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ।

শুধু তাই নয় দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র আওয়ামী লীগই রাজনীতির স্মার্টনেস দেখিয়েছে। দলের ক্রান্তিলগ্নে তৃণমূল আওয়ামী লীগের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। নিজেদের জীবন বিপন্ন করেই তারা এই সংগঠনকে ধরে রেখেছে। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অনেক অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে। কোনো জুলুম-নির্যাতনে-নিপীড়নে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা যায়নি। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মম ভাবে সপরিবারে হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, উদ্দেশ্য একটাই ছিল যে এমনভাবে আওয়ামী লীগকে শেষ করে দেয়া, যেন কোনদিন এই সংগঠন ক্ষমতায় আসতে না পারে। অথবা রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব নিতে না পারে। দেশের সংকটকালে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার প্রেক্ষাপট স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন,১৯৮১ সালে যখন দলের দায়িত্ব নিই তখন এই চিন্তা মাথায় ছিল না যে, কোনো কিছু হতে হবে বা পেতে হবে। শুধু দেশের জন্য কাজ করে যেতে চেয়েছি। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগের পুণরায় সরকার গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ঘাত প্রতিঘাত, চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আমরা ’৯৬ সালে সরকার গঠন করি। বাংলাদেশের জনগণ প্রথম আশার আলো দেখতে পান, তারা প্রথম দেখতে পান যে, সরকার জনগণের সেবক। মানুষ প্রথম উপলব্ধি করে সরকার জনগণের সেবা করে। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এগারো বছর পূর্ণ হলো একটানা। মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেকে বলেছিল- বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে কি হবে, বটমলেস বাস্কেট হবে। আজকে তারা সে কথা বলতে পারবে না। বরং আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল।

বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছি, সেটা শুধু আমাদের এখানেই না, বিশ্বব্যাপী খুবই সমাদৃত এবং স্বীকৃত। ব্যাপকভাবে মুজিব বর্ষ উদযাপনে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১০ জানুয়ারি জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস থেকে আমরা কাউন্টডাউন শুরু করে ১৭ই মার্চ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মুজিব বর্ষ উদযাপন শুরু করবো। বছর ব্যাপী সারাদেশে অনুষ্ঠান করবো। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমরা আবার নবউদ্যোমে জাতির পিতার দেয়া এই বাংলাদেশকে আরও উন্নত করবো, স্বাধীনতাকে আমরা আরও অর্থবহ করবো, যেন বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বে যেন মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে। এখন যে মর্যাদা পেয়েছে এর চেয়ে আরও বেশি মর্যাদা নিয়ে আরও উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যেন গড়ে উঠতে পারে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাবো।

0Shares