ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ নিয়ে সিসিক-পিডিবি টানাটানি

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২০

ডায়ালসিলেট ডেস্ক:সিলেট নগরীতে আংশিকভাবে চালু হয়েছে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে নগরবাসীও। তারের জঞ্জাল থেকে নগরীকে মুক্ত করতে দেশে প্রথমবারের মতো প্রকল্পটি গ্রহণ করে বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড। বিদ্যুৎ ছাড়াও স্যাটেলাইট, ইন্টারনেট, টেলিফোনসহ প্রায় সব ধরনের কেবল মাটির নিচে সঞ্চালন করা হয়েছে। তবে এ প্রকল্প নিয়ে সিসিক আর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মাঝে কর্তৃত্ব নিয়ে টানাটানি চলছে।

নগরবাসী বলছে, নগরীর রাস্তাঘাটগুলোতে মাকড়সার জালের মতো জড়িয়ে রেখেছে অসংখ্য কেবল লাইন। নগরীর ব্যস্ততম প্রতিটি সড়কের দৃশ্যই এমন। এর ফলে প্রায়ই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। আর সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতে তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।

এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষ উদ্যোগে বর্তমান সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, সিলেট বিভাগ’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে সিলেট শহরে পাইলট ভিত্তিতে আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ লাইন রূপান্তর কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আর কাজে সহযোগিতা করছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)।

এদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে ভূগর্ভস্থ লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজের সহযোগিতা কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে সিসিকের উন্নয়ন প্রকল্প। তারের জঞ্জালবিহীন ওই সড়কের ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সকলেই এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একইসাথে অনেকে এই কাজের জন্য সিলেট সিটি মেয়রকেও ধন্যবাদ জানান। তবে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের কর্তৃত্ব নিয়ে এ ধরণের টানাটানিতে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। আর বিভ্রান্তি আরো প্রকট হয় সর্বশেষ আংশিক প্রকল্পটি এককভাবে মেয়র আরিফুল হকের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের প্রকল্প পরিচালক এমএম সিদ্দিক বলেন, সিলেটে চলমান আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ লাইন রূপান্তর প্রকল্প সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কোন প্রকল্প নয়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষ উদ্যোগে বর্তমান সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, সিলেট বিভাগ’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে সিলেট শহরে পাইলট ভিত্তিতে আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ লাইন রূপান্তর কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র শাহজালাল (রহ.) মাজারের সামনের রাস্তার দুপাশের ওভারহেড বৈদ্যুতিক লাইনকে সম্পূর্ণভাবে ভূ-গর্ভস্থ লাইনে রূপান্তর করে সফলতার সাথে গত ৫ জানুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে নগরীর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের নির্ভরশীলতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কাজে সিটি কর্পোরেশন সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।

এদিকে ভূগর্ভস্থ লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজের কর্তৃত্ব নিয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিটি কর্পোরেশন সহযোগিতা না করলে ভূগর্ভস্থ লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজটি করা সম্ভব হতো না। তবে এটা সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন প্রকল্প নয় এবং এটা সিসিকের প্রকল্প বলে আমি কোথাও বলিও নি।

তিনি বলেন- ‘নগরবাসীর উন্নয়নের জন্য আমি যে কারো কাছে হাত পাততে দ্বিধাবোধ করবো না। সিলেটকে স্মার্ট নগরী গড়তে যে সরকারই আসুক তার সাথে একাট্টা হয়ে কাজ করে যাবো। এই নগরীকে সুন্দর করতে সরকার যে সহযোগিতা করছে তার জন্য ধন্যবাদ জানাই।’

যদিও এর আগে ২০১৯ সালের ০২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নগরের আম্বরখানায় ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইনের উদ্বোধনকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছিলেন, ‘ভূ-গর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ উনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো।’

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি শাহজালাল (রহ.) মাজারের সামনের রাস্তার দুপাশের ওভারহেড বৈদ্যুতিক লাইনকে সম্পূর্ণভাবে ভূ-গর্ভস্থ লাইনে রূপান্তর করে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার পর বিষয়টি বেশ আলোচনায় আসে। দেশে-বিদেশে থাকা সিলেটী ও বাঙালীরা বিষয়টির প্রশংসা করে প্রকল্পটি সিটি কর্পোরেশনের মনে করে কৃতজ্ঞতা জানান। এরপরই এ বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

জানা যায়, গত বছরের জুলাইয়ে ‘সিলেট বিভাগে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন’ শীর্ষক ২ হাজার ৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করে একনেক। এই প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর কিছু এলাকার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ভূগর্ভস্থ করা হচ্ছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এ কাজ শুরু হয়। যা বাংলাদেশের প্রথম কোনো সিটিতে আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ লাইন।

এই প্রজেক্ট আম্বরখানা থেকে চৌহাট্টা হয়ে, জিন্দাবাজার হয়ে কোর্ট পয়েন্ট পর্যন্ত এবং চৌহাট্টা থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ এবং শাহজালালের (রহ.) মাজারের সামনে পর্যন্ত। এই কাজটা শুরু হয়েছে, জুলাইয়ের ভেতরেই শেষ করা হবে। এছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় আম্বরখানা উপকেন্দ্র থেকে চৌহাট্টা হয়ে বন্দরবাজার পর্যন্ত ২টি এবং শেখঘাট থেকে সার্কিট হাউজ পর্যন্ত আরও একটি ১১ কেভি ফিডারকে সম্পূর্ণভাবে ভূ-গর্ভস্থ লাইনে রূপান্তরের কাজ চলছে। শীঘ্রই কাজগুলি সম্পন্ন হবে।

0Shares