রোহিঙ্গা নারীকে জন্ম সনদ দিয়ে কারাগারে ইউপি চেয়ারম্যান

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২০

ডায়ালসিলেট ডেস্ক:রোহিঙ্গা নারীকে জন্ম সনদ প্রদান করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার উপজেলার দিঘুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদলতের বিচারক মমতাজ বেগম বুধবার তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওই রোহিঙ্গা নারীকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দিঘুলিয়া ইউনিয়নের বেংরোয়া গ্রামের আবদুল হাইয়ের মেয়ে জান্নাত আক্তার, জন্ম তারিখ ১০ই জুন ২০০০ দেখিয়ে একটি নাগরিক সনদ ও জন্ম সনদ প্রদান করেন ইউপি চেয়ারমান মো. মতিউর রহমান। ভূয়া জন্ম সনদ দিয়ে রেজাউল করিম ওই রোহিঙ্গা নারীকে তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ২০১৯ সালে ১৩ই নভেম্বর মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট করতে আসেন। ওই পাসপোর্ট আবেদন পত্রে শনাক্তকারী হিসেবে আইনজীবী মনোয়ার হোসাইনের স্বাক্ষর রয়েছে। পাসপোর্ট করতে আসা ওই নারীর কথাবার্তা সন্দেহ হলে মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সুপারিনটেন্ড মো. মনিরুজ্জামান তাৎক্ষণিকভাবে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নিবন্ধিত সার্ভার ঘেটে দেখেন। তিনি প্রকৃতপক্ষে রোহিঙ্গা নারী। তার নাম আসমা। বাবা সিরাজুল হক। রোহিঙ্গা নিবন্ধিত নম্বর ১৪৩২০১৭১২১৩১৫৪৪১৫। তার জন্ম তারিখ ৫ই জানুয়ারি ২০০১। আসমা ২০১৭ সালের ১০ই অক্টোবর চট্টগ্রামের টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিবন্ধিত হয়। পরে ওই নারী ও ভূয়া স্বামীসহ সদর থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়। ঘটনার দিন ১৩ই নভেম্বর রাতেই মানিকগঞ্জ সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সুপারিনটেন্ড মো. মনিরজ্জিামান বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমান, ভূয়া স্বামী রেজউল করিম, মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী মো. মনোয়ার হোসাইন ও ওই নারীকে আসামী করে মামলা করেন। পুলিশ ওই মামলায় চেযারম্যান ছাড়া বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোর্পদ করে। এদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হওয়ার পর দিঘুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমান হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বুধবার মানিকগঞ্জ জজ কোর্টে জামিনের আবেদন করেন। মানিকগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদলতের বিচারক মমতাজ বেগম বুধবার চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমানের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

0Shares