সারাদেশে এলাকাভিত্তিক লকডাউন প্রস্তুতি সম্পন্ন, পুরোপুরি লকডাউন হচ্ছে সিলেট বিভাগ

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ৯, ২০২০

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন এলাকাকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন এই তিন ভাগে ভাগ করে জোনভিত্তিক লকডাউন করার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন রোববার রাতে জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কমিটির করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে জোনভিত্তিক লকডাউন করার প্রস্তাব ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। সেটি রোববার অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সায় পাওয়া গেলে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবেন সংশ্লিষ্টরা।

এতে আরো জানা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ও মৃত্যু বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ জুন সচিবালয়ে তিন মন্ত্রী এবং ঢাকার দুই সিটিতে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের চার মেয়র বিশেষ বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে জোনভিত্তিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সারা দেশকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়।

এরই মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ থেকে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সফটওয়্যার তৈরি করে দেয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি এবং স্বাস্থ্যবিদদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের পর জোনভিত্তিক লকডাউনের প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়। যা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেগুলো কীভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে তার গাইডলাইন প্রধানমন্ত্রী ঠিক করে দেবেন । প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া সাপেক্ষে ওই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে গত শনিবার (৬ জুন) রাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়, ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশের লকডাউন এলাকার তালিকা। ‘গ্রিন, ইয়েলো ও রেড জোন’ এই তিন ভাগে ভাগ করে তালিকা প্রকাশ করা হলেও এসব জোনের নাগরিকদের জন্য নতুন কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশের ভূমিকা কী হবে, এ বিষয়েও কোনো নির্দেশনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।

করোনা প্রতিরোধ সহায়ক ওয়েবসাইটটি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), সরকারের এটুআই প্রকল্প, মন্ত্রিপরিষদ ও আইসিটি বিভাগের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। ওই ওয়েবসাইটে শনিবার দেশের তিনটি বিভাগ, ৫০টি জেলা ও ৪০০টি উপজেলাকে পুরোপুরি লকডাউন (রেড জোন বিবেচিত) দেখানো হয়।

আংশিক লকডাউন (ইয়েলো জোন বিবেচিত) দেখানো হয়েছে দেশের ৫টি বিভাগ, ১৩টি জেলা ও ১৯টি উপজেলাকে। আর লকডাউন নয় (গ্রিন জোন বিবেচিত) এমন জেলা দেখানো হচ্ছে একটি এবং উপজেলা দেখানো হয় ৭৫টি। ঢাকা মহানগরীর ৩৮টি এলাকাকে আংশিক লকডাউন (ইয়েলো জোন বিবেচিত) হিসেবে দেখানো হয়েছে।  তবে লকডাউন নয় (গ্রিন জোন বিবেচিত) বলে দেখানো হচ্ছে ১১টি এলাকাকে।

ঢাকায় কোনো এলাকাকে পুরোপুরি লকডাউন (রেড জোন বিবেচিত) হিসেবে দেখানো হয়নি। ওই তালিকা অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের মধ্যে পুরোপুরি লকডাউন বরগুনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর। এই বিভাগে আংশিক লকডাউন ভোলা ও ঝালকাঠি। চট্টগ্রাম বিভাগে পুরোপুরি লকডাউন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ফেনী, খাগড়াছড়ি, লক্ষীপুর ও নোয়াখালী। এই বিভাগে আংশিক লকডাউন বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি।

ঢাকা বিভাগের মধ্যে পুরোপুরি লকডাউন গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও টাঙ্গাইল। এই বিভাগে শুধু ঢাকা ও ফরিদপুর আংশিক লকডাউন। খুলনা বিভাগের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা, যশোর, খুলনা, মেহেরপুর, নড়াইল ও সাতক্ষীরা পুরোপুরি লকডাউন। এই বিভাগে আংশিক লকডাউন বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও মাগুরা। খুলনা বিভাগেই দেশের একমাত্র গ্রিন জোন চিহ্নিত জেলা ঝিনাইদহ, অর্থাৎ এটি লকডাউন নয়।

রাজশাহী বিভাগের মধ্যে পুরোপুরি লকডাউন বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহী। এই বিভাগে আংশিক লকডাউন চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ। রংপুর বিভাগের আটটি জেলাই পুরোপুরি লকডাউন। জেলাগুলো হলো দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রংপুর ও ঠাকুরগাঁও।

তবে সিলেট বিভাগের সব কটি জেলা পুরোপুরি লকডাউন। জেলাগুলো হলো হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও সিলেট।সিলেটের আক্রান্তের সংখ্যা বেশী থাকায় সবজেলায় পুরোপুরি লকডাউন করা হবে।

ময়মনসিংহ বিভাগের সব কটি জেলা পুরোপুরি লকডাউন। এ চারটি জেলা হলো জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুর।

অন্যদিকে ওয়েবসাইটের তালিকায় ঢাকা মহানগরীর আংশিক লকডাউন বলে চিহ্নিত ৩৮টি এলাকা হলো আদাবর থানা, উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, ওয়ারী,কদমতলী, কলাবাগান, কাফরুল, কামরাঙ্গীরচর, কোতোয়ালি, খিলক্ষেত, গুলশান, গেন্ডারিয়া, ডেমরা, চকবাজার, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, দক্ষিণখান, দারুসসালাম, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, পল্টন মডেল, পল্লবী, বংশাল, বাড্ডা, বিমানবন্দর, ভাটারা, মিরপুর মডেল, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, রমনা মডেল, লালবাগ, শাহআলী, শাহজাহানপুর, সবুজবাগ, মুগদা, ,শেরেবাংলা নগর, সূত্রাপুর ও হাজারীবাগ থানা এলাকা। আর লকডাউন নয় বলে চিহ্নিত ১১টি এলাকা হলো উত্তরখান থানা, ক্যান্টনমেন্ট থানা, খিলগাঁও, তুরাগ, বনানী, ভাসানটেক, মতিঝিল, রামপুরা, রূপনগর, শাহবাগ ও শ্যামপুর থানা এলাকা।

0Shares