দুই মিনিটেই গুলি করা হয় সিনহাকে

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

ডায়ালসিলেট ডেস্ক::অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদকে গুলি করার ঘটনা ঘটে দুই মিনিটের মধ্যে। সে সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত বিচার-বিশ্লেষণ করছে র‌্যাব। সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার বলেছেন, সিনহা হত্যার ঘটনাটি গভীরভাবে অ্যানালাইসিস করা হচ্ছে। ঘটনা প্রবাহ বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। প্রতিটি সেকেন্ডই গুরুত্বপূর্ণ । এ ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত ইতিমধ্যে সংগৃহীত হয়েছে। গতকাল ঘটনাস্থল শামলাপুর চেকপোস্ট পরিদর্শনে গিয়ে একথা বলেন তিনি।

ওদিকে গতকাল বেলা ১১ টায় সিনহা রাশেদ হত্যার বিস্তারিত জানতে প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী ও নন্দদুলাল রক্ষিতকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান র‌্যাব’র তদন্ত দল। কক্সবাজারে র‌্যাব-১৫ এর কার্যালয় থেকে কড়া নিরাপত্তায় তাদের শামলাপুর চেকপোস্টে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই চেকপোস্টেই গত ৩১শে জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ওই ঘটনায় সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসের দায়ের করা হত্যা মামলায় এই তিন আসামিকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‌্যাব। তারই অংশ হিসেবে কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে সিনহাকে গুলি করা হলো, সে বিষয়টি সরজমিন তদন্তের জন্যই তাদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
র‌্যাব সূত্র জানায়, সেদিন এমন কি ঘটনা ঘটেছিল, বা কোন পরিস্থিতিতে সিনহাকে এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যে গুলি করা হলো- এই প্রশ্নের উত্তর জানতে প্রধান তিন আসামিকে ঘটনাস্থলে নেয়া হয়। ঘটনাস্থল পৌঁছার পর র‌্যাব’র তদন্ত দল প্রথমে ঘটনাস্থল এবং আশপাশ ঘুরে দেখেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত র‌্যাব’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তাফা সরওয়ার, র‌্যাব’র আইন ও মিডিয়া উইং প্রধান লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ এবং সিনহা হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক সিনিয়র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম ঘটনাস্থল ও আশপাশ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গেও কথা বলেন র‌্যাব’র কর্মকর্তারা।
পূর্ব সিদ্ধান্ত মতো তদন্তের অংশ হিসেবে কীভাবে সিনহাকে হত্যা করা হয়েছিলো তার প্রকৃত চিত্র তুলে আনতে ঘটনার রেকি (লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, আক্রমণপূর্ব পর্যবেক্ষণ, আক্রমণের কলাকৌশল) করেন। এজন্য একটি সাদা প্রাইভেটকার ব্যবহার করা হয়। রেকিতে ওই ঘটনার সঙ্গে মিল রেখে প্রথমে এএসআই নন্দদুলালকে গাড়ি থেকে তার ভূমিকার চিত্র ধারণ করা হয়। এরপর লিয়াকত আলী ও সর্বশেষ প্রদীপ কুমার দাশের রেকি নেয়া হয়। এ সময় তাদেরকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। রেকি পরিচালনা করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিনিয়র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। রেকি শেষ করেই র‌্যাব ঘটনাস্থলে ছেড়ে চলে আসেন।
তথ্য মতে, বরখাস্ত হওয়া টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বরখাস্ত হওয়া ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও বরখাস্ত হওয়া এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে আদালতের নির্দেশ মতে গত ১৮ই আগস্ট কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে রিমান্ডের জন্য হেফাজতে নিয়ে যায় র‌্যাব। ঘটনাস্থলে করা রেকি ও ৩ আসামিকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অংশ বলে জানিয়েছে র‌্যাব সূত্র।
শিপ্রার জব্দকৃত মালামাল র‌্যাবকে বুঝিয়ে দিলো পুলিশ: এদিকে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান এর সহকর্মী শিপ্রা রানী দেবনাথের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস, টাকাসহ জব্দকৃত ২৯ প্রকার মালামাল র‌্যাব’র কাছে হস্তান্তর করেছে রামু থানা পুলিশ।মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের পরদিন রামু উপজেলার নীলিমা রিসোর্ট থেকে এসব উপকরণ উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমান চন্দ্র কর্মকারের নেতৃত্বে র‌্যাব’র একটি প্রতিনিধিদল বৃহসপতিবার রাত পৌনে ১২ টায় রামু থানা থেকে এসব মালামাল গ্রহণ করেন। এ সময় রামু থানার ওসি আবুল খায়ের উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকল মালামাল র‌্যাব’র তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হস্তান্তর করতে রামু থানা পুলিশকে আদেশ দিয়েছেন আদালত। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আদালত নম্বর-১) রামুর বিজ্ঞ বিচারক মোহা. হেলাল উদ্দিন বৃহসপতিবার এ আদেশ দেন।

0Shares