করোনায় সক্রিয় সিলেট বিএনপি

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২০

ডায়ালসিলেট ডেস্ক:;ইলিয়াস আলী গুমের পর সিলেট বিএনপিতে ঘটেছে নানা অঘটন। দলীয় কার্যক্রম নানা সময় নানা রঙ বদল করে। ‘দিক’ পাল্টাতেও দৌড়ঝাঁপ ছিল স্থানীয় নেতাকর্মীদের। এ নিয়ে সিলেটে দলের ভেতরেই ছিল তীব্র অস্থিরতা। এসব কারণেই করোনার পূর্বে সিলেট জেলা বিএনপি’র কমিটি ভেঙ্গে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। উদ্দেশ্য ছিলো সিলেট বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর। কিন্তু করোনার কারণে দ্রুততম সময়ে সেটি আর করা হয়নি। তবে- করোনায় মানবিক কার্যক্রম নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন সিলেট বিএনপি নেতারা।
এই কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে। এতে করে সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব কমে নেতাদের সঙ্গে কর্মীদের সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতারা। সিলেট বিএনপির এক সময়ে কর্ণধার ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী। ২০১২ সালে তিনি গুম হওয়ার পর সিলেট বিএনপিতে বড় ধরনের ঝাঁকুনির মুখে পড়ে। এ নিয়ে দলের ভেতরেও শুরু হয় নানা অস্থিরতা। তবে- কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। এর মধ্যে সিলেট বিএনপি ছেড়ে গণফোরামে চলে যান তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান সমশের মবীন চৌধুরী। গত জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন কেন্দ্রীয় নেতা ইনাম আহমদ চৌধুরী। এরপর সিলেট বিএনপির রাজনীতিতে সিনিয়র নেতা হিসেবে হাল ধরেন প্রবীণ নেতা এম এ হক ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। করোনায় মারা যান এম এ হক। এখন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির শক্ত হতে হাল ধরেছেন সিলেট বিএনপির। গত সংসদ নির্বাচনের পর সিলেট বিএনপিকে ঢেলে সাজাতে জেলা বিএনপির পূর্বের কমিটি ভেঙে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। গত বছরের অক্টোরে এই কমিটি গঠন করা হলেও নানা কারণে কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারেনি। এর মধ্যে কমিটি গঠন নিয়ে কিছুটা মান-অভিমান ছিলো। সেটি অভ্যন্তরীণ বিভক্তির পর্যায়েও চলে গিয়েছিলো। কমিটি গঠনের ৬ মাসের মাথায় সিলেট জেলা বিএনপির অধিভুক্ত ১৮টি ইউনিটের নতুন আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই আহবায়ক কমিটি নিয়েও উপজেলা ও পৌরসভায় নানা মতবিরোধ রয়েছে। এ কারনে ২১ সদস্য এই আহবায়ক কমিটিকে এখন ২৭ সদস্য বিশিষ্ট করার প্রক্রিয়া চলছে। সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আবদুল আহাদ খান জামাল জানিয়েছেন- করোনা কালে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। এ কারনে সিলেট জেলা বিএনপিরও নতুন করে কমিটি গঠনের কার্যক্রম চালাতে পারেনি। তবে- উপজেলার কমিটিতে আরো ৬ জন করে সদস্য বাড়ানোর কাজ প্রায় চূড়ান্ত। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশের আলোকে নতুন নামগুলো সংযোজিত করা হবে। তবে- সিলেট বিএনপির কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও করোনা কালে সিলেটে বিএনপির কার্যক্রম সক্রিয় ছিলো বলে জানান। এদিকে- করোনা সিলেট বিএনপির কার্যক্রমকে সক্রিয় করে দিয়েছে বলে মনে করে দলীয় তৃণমূলের নেতারা। তারা জানান- করোনায় মানবিক কার্যক্রমে সিলেটে বিএনপির নেতাদের কর্মীদের দূরত্ব কমেছে। আর করোনায় প্রবীণ নেতা এমএ হকের মৃত্যুর পর নিজেদের মধ্যে ঐক্য ফিরেছে। এম এ হকের মৃত্যু ছিলো সিলেট বিএনপিতে বড় ধরনের ধাক্কা। এই মৃত্যুর ঘটনা সিলেটবাসীর সঙ্গে বিএনপির কর্মীদের নাড়া দিয়েছিলো। ফলে এম হকের মৃত্যুর পর চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে সিলেট বিএনপির নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়- এম এ সেবা কার্যক্রম। এম এ হকের স্মৃতি ধরে রাখতে এই কার্যক্রম শুরু করার পর সিলেট নগরী ও সদর এলাকায় চিকিৎসা সহ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এতে সিলেট বিএনপির প্রায় সব অংশের নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা ছিলো। এই কার্যক্রম এখনো চলমান। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও সিলেট বিএনপির পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এই মাস্ক সিলেট নগরীর প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। সঙ্গে দেওয়া হয় হ্যান্ড স্যানিটাইজার সহ করোনা মোকাবেলার প্রয়োজনীয় কিছু দ্রব্য সামগ্রী। দক্ষিণ সুরমায় সাউথ সুরমা ন্যাশনালিস্ট ফোরামের উদ্যোগে ফ্রি অক্সিজেন সেবা চালু করা হয়। এই অক্সিজেন সেবার মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত কিংবা করোনা উপসর্গ নিয়ে যারাই সেবা চেয়েছে তাদের দেওয়া হয়েছে। সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী সহ ৯ সদস্যর উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়। একই সঙ্গে সিলেট জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা ভাবে কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে ত্রান বিতরণ করা হয়। এসব কার্যক্রমে সিলেট বিএনপির সব অংশের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। সিলেট যুবদল ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও কর্মসূচি পালন করা হয়। সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন- করোনা কালে সিলেট বিএনপির মানবিক কার্যক্রম ছিলো সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। এই কার্যক্রম অনেকেই ঢাকঢোল পিঠিয়ে প্রচার করেননি। কিন্তু মানবিকতার ডাকে সাড়া দিয়ে নেতারা যে যার মতো ত্রান বিতরনে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। এর বাইরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক চৌধুরীও মেয়র এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মানুষের পাশে ছিলেন। তার সিটি তহবিলেও বিএনপির নেতাদের সক্রিয় অংশ গ্রহন ছিলো। এদিকে- সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এমাদাদ হোসেন করোনাকালে আক্রান্ত নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি ছুটে গেছেন।

এ/১০

0Shares