দিরাইয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আটক ১০

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ৯:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২০

ডায়ালসিলেট ডেস্ক::

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের মধুরাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত নুর মোহাম্মদ (৫৫) ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের মৃত আ. লতিফের পুত্র। এ ঘটনায় আহতরা হলেন- কামালপুর গ্রামের শফিক মিয়া (৩৪), রেজু মিয়া (১৯), ফারুক আহমেদ (৫০), হিরন মিয়া (২৮), জাকারিয়া (২৫), জহুরা বেগম (৪০), মামুন, সোহেল ও গফফার। অন্য আহতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের দিরাই সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে গুরুতর আহত শফিক মিয়া, রেজু মিয়া ও ফারুক আহমেদকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সংবাদ পেয়ে দিরাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে,, মধুরাপুর ও কামালপুর গ্রামের দু’টি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পুরোনো বিরোধ চলে আসছে। একপক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মধুরাপুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মুকিত চৌধুরী ও অপরপক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাবেক চেয়ারম্যান জাহেদ চৌধুরী। মুকিত চৌধুরীর হয়ে এলাকায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন কামালপুর গ্রামের নুরজালাল ও জাহেদ চৌধুরীর পক্ষে আছেন মধুরাপুর গ্রামের দিল হক। দুই প্রবাসীর আধিপত্য ধরে রাখতে গ্রামে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটে আসছে। গ্রামের নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি জলমহাল থেকে প্রতিবছর কয়েক লাখ টাকা আয় হয়। গ্রামের ফান্ডের এই টাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দুইপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বিগত একমাসের মধ্যে কয়েকবার হামলা-পাল্টা হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুইপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

এরই জের ধরে আজ মঙ্গলবার সকালে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উভয়পক্ষ একে অন্যের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় ঘটনাস্থলেই খুন হন মুকিত চৌধুরীর পক্ষের নুর মোহাম্মদ।

ভাটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান কাজী জানান, মধুরাপুর ও কামালপুর গ্রামের বিবদমান দু’টি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম ১ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

0Shares