জৈন্তাপুরে পশুর হাটে সংঘর্ষে আহত ১০

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১০:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

ডায়ালসিলেট ::

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এখন অনেকটা উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। অবাধে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষসহ নানা অবৈধ সামগ্রী বাংলাদেশ প্রবেশ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি’র ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারী এবং তাদের সহযোগী যারা সীমান্ত এলাকা থেকে শ্রমিক হিসেবে গরু-মহিষ পৌঁছে দেওয়ার কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্বন্দ্বের জেরে ঘটা সংঘর্ষে আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোর রাতে জৈন্তাপুর উপজেলা সদরের পূর্ববাজার পশুর হাট রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ দুইপক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকদের দুইপক্ষের মধ্যে অন্তত ২৫-৩০ মিনিটব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এ ঘটনায় নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনসুর আহমদসহ উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ৫ জনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অঞ্চলভিত্তিক দ্বন্দ্ব এবং উভয় গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর, শ্রীপুর, ডিবির হাওর ও লালাখাল সীমান্তের বিজিবি ক্যাম্পের এলাকা জালিয়াখলা, বাইরাখেল, মুক্তাপুর, বাঘছড়া, ঘিলাতৈল, গুয়াবাড়ি, ডিবির হাওর, শ্রীপুর আসামপাড়া কেন্দ্রী, কাঁঠালবাড়ি, গৌরিশংকর যশপুর অঞ্চল দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন অবৈধ পথে কয়েক হাজার গরু-মহিষ সহ অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশ প্রবেশ করে। ডিবির হাওর এলাকা দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশকালে জৈন্তাপুর বিজিবি ক্যাম্প ও স্থানীয় পুলিশের নাম ব্যবহার করে কথিত লাইনম্যানদের সীমান্ত এলাকায় নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধ করা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দুইপক্ষের গতকাল মঙ্গলবার রাতে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গভীর রাতে ডিবির হাওর এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয়। ভোর রাতে বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে বানের পানির মতো কয়েক হাজার গরু-মহিষ নিয়ে শত শত লোক উপজেলা সদরের পূর্ব বাজার পশুর হাটে প্রবেশ করতে থাকেন। উপজেলা হাসপাতালের রাস্তা দিয়ে ভারতীয় শত শত গরু-মহিষ প্রবেশ করার সময় হাসপাতালে আসা একজন রোগী অন্তত ১ ঘণ্টা রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

এ সময় গরু-মহিষের গায়ে লেখা সংকেত দেখে চিহিৃতকরণ এবং কথিত লাইনম্যানদের অবৈধ চাঁদা পরিশোধ নিয়ে দ্বন্দ্বে দুইপক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গরু-মহিষ নিয়ে দুইপক্ষ টানাটানি শুরু করে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দা ও বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে দুইপক্ষ পশুর হাটে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উভয়পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তখন পাশের মসজিদের মক্তবে পড়তে আসা ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছেন, অন্তত ২৫/৩০ মিনিট ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। তখন বাউরভাগ এলাকা এবং ডিবির হাওর, ঘিলাতৈল, গুয়াবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী ও যুবকদের সংঘর্ষে লিপ্ত থাকতে দেখা গেছে। এই সময়ে পূর্ববাজার এলাকা যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পড়ে। তাদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করার ফলে বাসা-বাড়িসহ চারদিকে আতঙ্ক দেখা দেয়। শত শত লোকের চিৎকারে পার্শ্ববর্তী বাসা-বাড়ির ঘুমন্ত মানুষ তখন জেগে ওঠেন। এ সময় বাজারের ইজারাদারসহ স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন আলী একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে তিনি আহত রোগীদের খোজঁ-খবর নিতে হাসপাতালেও গিয়েছিলেন।

সংঘর্ষে গুরুতর আহতরা হলেন- বাউরভাগ গ্রামের রাহিম আহমদ (২৩), শরিফ আহমদ (২৫), দর্জিহাটি মহল্লার আমান উদ্দিন (২৯), মোকামবাড়ির তাজ উদ্দিন (২২), ঘিলাতৈল গ্রামের আলমগীর হোসেন (২৫), রুবেল আহমদ (২৬) ও গৌরিশংকর গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ (৪২)। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। রুবেল আহমদ ছাড়া গুরুতর আহত ৫ জনকে জৈন্তাপুর হাসপাতাল থেকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আর ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য মনসুর আহমদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জৈন্তাপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ইয়াহিয়া জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। উভয়পক্ষের আহতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি মহসিন আলী জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি সকাল ৬টার দিকে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। পুলিশ ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারুক আহমেদ জানান, ভোর রাতে পশুর হাটে সংঘর্ষের ঘটনা তিনি লোকমুখে শুনেছেন।

0Shares