রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া-আজারবাইজান শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশিত: ২:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃঃ

ছয় সপ্তাহ ধরে চলা নাগোরনো-কারবাখ নিয়ে সামরিক বিরোধের অবসান ঘটাতে এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে আর্মেনিয়া, আজারবাইজান ও রাশিয়া। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) দুপুর ১টায় এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এ চুক্তি অনুসারে সংঘাতের সময় কেড়ে নেওয়া নাগোরনো-কারবাখ আজারবাইজানের কাছেই থাকছে। এ ছাড়া কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংলগ্ন আরও কিছু অঞ্চল থেকে আর্মেনিয়া সরে আসতে সম্মত হয়েছে।

নাগোরনো-কারবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত, কিন্তু ১৯৯৪ সাল থেকে আর্মেনীয়দের দখলে ছিল। চলতি বছরে কয়েকবার যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হলেও বারবার এর ব্যত্যয় ঘটে। এবার রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আবারও শান্তিচুক্তি করেছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। খবর বিবিসির।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্ববহ’ বলে উল্লেখ করে বলেন, এ চুক্তির ফলে কোনো রক্তপাত ছাড়াই আমরা আমাদের এলাকা ফেরত পাব। ।

এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, এ চুক্তিতে যুদ্ধবন্দি বিনিময় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সব ধরনের অর্থনৈতিক ও পরিবহন চুক্তি থেকে বাধা তুলে নেওয়া হবে।

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে তিনি রাশিয়া ও আজারবাইজানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। তবে এ চুক্তি তার এবং তার জনগণের জন্য খুবই বেদনাদায়ক।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, চুক্তির অধীনে আগামী ৫ বছরের জন্যে আর্মেনিয়া ও নাগোর্নো কারাবাখের সীমান্তে ১ হাজার ৯৬০ জন রাশিয়ান সেনা শান্তিরক্ষী হিসেবে মোতায়েন করা হবে। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট আলিয়েভ জানান, চুক্তির আওতায় তুরস্কের সেনাসদস্যদেরও শান্তিরক্ষী হিসেবে মোতায়েন করা হবে।

বিতর্কিত কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। আজারবাইজান কৌশলগত শহর শুশা দখলের ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই চুক্তির বিষয়টি জানান আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান।

মঙ্গলবার ফেসবুক পেজে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এবং আমাদের সবার জন্য আমি কঠিন, অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি রাশিয়া ও আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছি।

এদিকে এই শান্তিচুক্তি হওয়ার পর আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে কার্ফিউ স্বত্তেও হাজার হাজার মানুষ বিজয় উদযাপন করতে রাস্তায় নেমে পরেছে বলে জানিয়েছেন আলজাজিরার প্রতিবেদক ওসামা বিন জাভিদ।

অন্যদিকে, শান্তিচুক্তি সাক্ষরের পর আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভেনে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পোস্টের বিশ মিনিট পর এক দল বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে। তারা জোড় করে সরকারী ভবন এবং সংসদ ভবনে ঢোকার চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছেন আল জাজিরা। তারা আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান উভয় দেশই সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর দুটি স্বাধীন দেশে পরিণত হয়। কয়েক দশক ধরে নাগোরনো-কারবাখ অঞ্চল নিয়ে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বিরোধ চলছে।গত জুলাইয়ে সীমান্তে দুপক্ষের মধ্যে লড়াইয়ে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে আজারবাইজানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাও রয়েছেন। এরপর থেকে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

0Shares