ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশিত: ১২:০৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃঃ অবৈধভাবে দখল করা পশ্চিমতীরে সম্প্রতি ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে গুলি করে হত্যা করেছে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনে অবস্থানরত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রতিনিধিরা এই ঘটনার তদন্ত আহ্বান করেছেন ইসরাইলের প্রতি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
শুক্রবার রামাল্লার নিকট আল-মুঘায়ির গ্রামের জমি অবৈধভাবে দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলাকালীন চৌদ্দ বছর বয়সী আলী আবু আলিয়া নামের ওই যুবককে পেটে গুলি করে ইসরাইলি বাহিনী। স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে সেখানে সে মারা যায় বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই মর্মান্তিক হত্যা প্রসঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি দলটি এক টুইট বার্তায় বলেছে, আন্তজার্তিক আইনের অধীনে শিশুরা বিশেষ সুরক্ষা ভোগ করবে। আর কত ফিলিস্তিনি শিশু ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে মৃত্যুবরণ করবে? এ ঘৃণিত হত্যায় জড়িত দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে ওই ইইউ প্রতিনিধি দলটি।

শনিবার নিহত ওই কিশোরের মৃতদেহ ফিলিস্তিনি পতাকায় জড়িয়ে রামাল্লাহ ও আল-মুঘাইয়িরে রাস্তায় রাস্তায় মিছিল ও স্লোগান দিতে থাকে দেশটির সাধারণ জনগণ। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রালয় এবং অন্য দলগুলি এ ঘটনাটিকে একটি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসাবে অভিহিত করেছে এবং ইসরাইলকে এ বিষয়ে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে বলেও জানিয়েছে।
ফাতাহ আন্দোলনের মুখপাত্র ওসামা আল-কাসেমি বলেন, ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে এ হত্যার প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত।

এদিকে এ ঘটনায় হামাসের দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আবু আলিয়ার এ হত্যা ইসরাইলের দখলদারি মনোভাবকে স্পষ্ট করেছে। ইসরাইলকে অবশ্যই এই ঘটনার জবাব দিতে হবে।
উল্লেখ ইসরাইল ১৯৬৭ সালে ফিলিস্তিনের এই পশ্চিমতীর দখল করে নেয়। এ অঞ্চলটিতে প্রায় সাড়ে চার লাখেরও বেশি ইসরাইলি অবৈধভাবে বসবাস গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি এখানে বসবাস করেন ২৮ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি।

0Shares