কোম্পানীগঞ্জ থানায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুন নুর ও কবিরুল ইসলামের নামে স্মৃতি ফলক

প্রকাশিত: ১২:২৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০২০

ডায়ালসিলেট ডেস্কঃঃ মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা ছিল অনন্য। পুলিশই প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ করেছিল। তৎকালীন রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে সংঘটিত প্রথম সেই প্রতিরোধ যুদ্ধ পরে ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে তখন পুলিশের অনেক বীর সেনা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদেরই দু’জন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুর্ণাছগাম গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুন নুর (অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার) এবং উত্তর কলাবাড়ি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম (অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল)। একাত্তরে যুদ্ধকালীন কমান্ডার কর্নেল মরহুম মীর শওকত আলীর নেতৃত্বে ৫ নম্বর সেক্টরের অধীন সাব-সেক্টর চেলায় যুদ্ধ করেন। টেংরাটিলা, জাউয়াবাজার, ছাতকের জাউয়া খাল এবং গোবিন্দগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এই দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশের স্মৃতি ফলক উন্মোচন করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণীয় করে রাখতে কোম্পানীগঞ্জ থানার মূল ভবনের প্রবেশমুখে স্মৃতি ফলকটি বসানো হয়েছে। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুই বীর মুক্তিযোদ্ধার নামের ফলক উদ্বোধন করা হয়। এসময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মুজিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিলাল মোহন্ত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন রেনু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে ওসি কে এম নজরুল বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ জনতার সঙ্গে পুলিশ সদস্যরাও পাক সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিল। এ ফলক দেখে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।
ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুন নুর। রণাঙ্গনের এই অকুতোভয় সৈনিক বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। সরকার আমাদেরকে অনেক সম্মান দিয়েছে। আজ আমার নামের ফলক উন্মোচন হয়েছে। এরকম ভাগ্য ক’জনার আছে? আর আমার পাওয়ার কিছু নেই।

0Shares