জি কে শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

প্রকাশিত: ২:০২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২০

ডায়ালসিলেট ডেস্কঃঃ ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া যুবলীগের নামধারী নেতা গোলাম কিবরিয়া ওরফে জি কে শামীমের প্রায় ৩শ’ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলার পর দুদকের তদন্তে এ সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এসব সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের তথ্য-প্রমাণসহ চার্জশিট আদালতে দাখিলের জন্য অনুমোদন দিয়েছে দুদক কমিশন। মঙ্গলবার কমিশনের সভায় চার্জশিট আদালতে দাখিলের অনুমোদন দেয়া হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দুদক উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন দু-এক দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবেন। ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন জি কে বিল্ডার্সের কর্ণধার কথিত যুবলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম। এরপর তার বাসা ও অফিসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, অবৈধ অস্ত্র এবং মাদক উদ্ধার করে র‌্যাব। এসব ঘটনায় মামলার পাশাপাশি হরিণের চামড়া পাওয়ায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের মামলায় জি কে শামীমকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠান র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ২১ অক্টোবর দুদক উপ-পরিচালক সালাউদ্দিন বাদী হয়ে ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন। ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে তদন্ত শেষে দুদক ২৯৭ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ থাকার তথ্য পায়। তদন্ত শেষে ওইসব সম্পদ অর্জনের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা। দুদকের পরিচালক (মিডিয়া) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, তদন্তকালে দুদক কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন আসামি শামীম ২০১৮-১৯ করবর্ষ পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে আয়কর নথিতে ৪০ কোটি ২১লাখ ৪০ হাজার ৭৪৪ টাকার তথ্য উল্লেখ করলেও মোট টাকার বৈধ উৎসের খোঁজ পায়নি দুদক। এছাড়া, জি কে শামীমের বাসা থেকে পাওয়া নগদ ১ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ও ৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকার বিদেশি মুদ্রারও বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের নামে ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার এফডিআর, মায়ের নামে আরও ৪৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার ব্যবসার অংশীদারিত্বের বৈধ কোনো উৎস খুঁজে পায়নি দুদক। এছাড়া, জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানির শেয়ার, গাড়ি ও এফডিআর বাবদ ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৭১৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের বৈধ উৎসও পাওয়া যায়নি।

0Shares