অক্সিজেন সংকট কাটেনি

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০২০

ডায়ালসিলেট ডেস্ক::দেশে অক্সিজেন সংকট চলছে। মূল অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্ল্যান্ট দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকায় সরকারি হাসপাতালে তরল অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড অস্থায়ী ভিত্তিতে ভারত থেকে ট্যাংকারে করে অক্সিজেন এনে হাসপাতালে সরবরাহ করছে। তাদের প্ল্যান্ট ঠিক করতে ১৫ থেকে ৩০ মাস সময় লাগতে পারে।
শীতে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু যখন বেড়ে চলেছে, তখনই অক্সিজেন সরবরাহে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, এখনো কিছু উদ্বেগ রয়েছে। কোনোভাবে সরবরাহ ব্যাহত হলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন তরল অক্সিজেনের চাহিদা রয়েছে প্রায় ১০০ টন। এর ৯০ শতাংশই তরল অক্সিজেন সরবরাহ করে লিন্ডে।
ফলে, এই প্রতিষ্ঠানের নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন উৎপাদন ও সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাকি ১০ শতাংশ (সিলিন্ডারে) সরবরাহ করে স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেড।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত লিন্ডের এই অক্সিজেন প্ল্যান্টটি গত ১১ই ডিসেম্বর থেকে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। তারা জানান, প্ল্যান্টটি ঠিক করে পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে তারা কাজ করছেন। তবে, এর জন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে। এই সময়ের মধ্যে সরবরাহ ঠিক রাখতে তারা বিকল্প উপায় ব্যবহার করছেন। সিলিন্ডারের সাহায্যে একজন রোগীকে প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ছয় লিটার হারে অক্সিজেন দেয়া যায়। অপরদিকে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে অনেক বেশি অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব।
গত ১৪ই ডিসেম্বর থেকে অক্সিজেন আমদানি করা হচ্ছে জানিয়ে লিন্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার সায়িকা মাজেদ গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের রূপগঞ্জ প্ল্যান্টে মেরামতের কাজ চলছে। তবে, ইতিমধ্যে আমরা ভারত থেকে অক্সিজেন আমদানি করছি এবং হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করছি। তিনি জানান, তারা প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৮০ টন অক্সিজেন আনছেন এবং প্ল্যান্টে পুনরায় কাজ শুরু করার আগ পর্যন্ত অক্সিজেন আমদানি অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়াও, চট্টগ্রামে লিন্ডের আরেকটি প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ২০ টন অক্সিজেন হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। সায়িকা মাজেদ বলেন, আমরা আশা করছি যে, মেডিকেলে অক্সিজেনের কোনো ঘাটতি হবে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোভিড-১৯ রোগীদের ১৫ থেকে ২০ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি করার এবং অক্সিজেন সহায়তা দেয়ার প্রয়োজন হয়। প্রায় ১৫ শতাংশ রোগীর মধ্যে গুরুতর লক্ষণ দেখা যায় এবং পাঁচ শতাংশের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের প্রয়োজন হয়।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া বলেন, লিল্ডের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। আগের মতোই স্বাভাবিক আছে অক্সিজেন সরবরাহ। এতে কোনো ঘাটতি নেই। লিন্ডে জানিয়েছে, তাদের প্ল্যান্ট ঠিক করতে কাজ চলছে। এতে ১৫ থেকে এক মাস সময় লাগতে পারে। বর্তমানে বিকল্পভাবে প্রতিষ্ঠানটি ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে সরাসরি ট্যাংকারের মাধ্যমে অক্সিজেন আনছে দেশে।

0Shares