যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছে রক্তপাত এবং সম্পদহানি

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৮, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::চীন একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করে। আমি বহু শ্রমঘণ্টা চীনা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ব্যয় করেছি এবং আমি বুঝতে পেরেছি যে, আমাদেরকে কিসের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে হবে। বৈশ্বিক লক্ষ্যে পৌঁছানোর বিস্তার ঘটিয়ে চীন দীর্ঘ খেলা খেলছে। এজন্য তারা চীনের বাইরে তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক মডেলের বিস্তার ঘটাচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। এদিকে ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যারা ঘনিষ্ঠতম মিত্র, সেটা কানাডা থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যন্ত সবাই তার চোখে হয়ে উঠেছে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

আর সেটা করতে গিয়ে তিনি এসব মিত্র দেশের সঙ্গে অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং নৈরাজ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করেছেন। এভাবে আমাদের অংশীদারদের কাছ থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার পরিধিকে সংকুচিত এমনকি বিচ্ছিন্ন করার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প আমাদের দেশের পক্ষে প্রকৃত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক হুমকি মোকাবিলা করার সামর্থ্যকে কমিয়ে দিয়েছেন। চীনের বিষয়ে কঠোর মনোভাব দেখানোর কোনো দরকার নেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। চীন যদি তার পথেই চলতে থাকে, তাহলে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রযুক্তি এবং ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি হরণ করবে।

তারা একই সঙ্গে তাদের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত কোম্পানিগুলোকে ভর্তুকি দেবে। এর ফলে চীনা কোম্পানিগুলো একটা অন্যায্য সুবিধা পেয়েই চলবে। এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তি এবং শিল্পে তারা তাদের খবরদারি বজায় রাখার চেষ্টা করবে।
চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং তার পীড়নমূলক আচরণ প্রতিরোধের জন্য মিত্রদের নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গড়ে তুলতে হবে। এটাই হবে চীনকে মোকাবিলার সব থেকে কার্যকর কৌশল। যদিও জলবায়ু পরিবর্তন, পরমাণু বিস্তার রোধকরণ এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্কেও মার্কিন অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ জিডিপি’র প্রতিনিধিত্ব করে। এরপর আমরা যখন আমাদের সহযোগী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে একত্রিত হবো, তখন আমাদের শক্তি বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হবে। আর তখন সেই বৈশ্বিক অর্থনীতির অর্ধেকের বেশি শক্তিকে চীন অগ্রাহ্য করে পার পাবে না। আর সেটা আমাদেরকে পরিবেশ থেকে শ্রম, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং ট্রান্সপারেন্সি বা স্বচ্ছতার বিষয়গুলোতে নিয়মনীতি অনুযায়ী চলার ক্ষেত্রে আমাদেরকে উল্লেখযোগ্য সুযোগ-সুবিধা এনে দেবে, যাতে এসব বিষয়গুলোয় গণতান্ত্রিক স্বার্থ এবং মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটতে পারে।

টেবিলের সম্মুখভাগে প্রত্যাবর্তন
আমাদের পররাষ্ট্রনীতির এজেন্ডা এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে, যা কিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় টেবিলের সম্মুখভাগের আসনে নিয়ে যায়। যাতে বৈশ্বিক হুমকিসমূহকে যুক্তরাষ্ট্র তার নিজের অবস্থানে থেকে তার মিত্র এবং অংশীদারদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করার কৌশল প্রণয়ন করতে পারে। বিশ্বের একার পক্ষে এটা সংগঠিত করা সম্ভব নয়। গত ৭০ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ডেমোক্রেট এবং রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি, আইন, বিধি-বিধান, চুক্তি সম্পাদন, জাতি রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক তৈরির গাইড লাইন দেয়া এবং সম্মিলিতভাবে বিশ্বের জন্য নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধির রূপরেখা তৈরি করতে ভূমিকা রেখেছে কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা ট্রাম্পে এসে থমকে গেছে। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এতকাল সারা বিশ্বে যে নেতৃত্ব দিয়েছিল, সেটা যদি আজ ট্রাম্পের মতো করে অপহৃত হতে দেয়া হয়, তাহলে দুটো বিষয় ঘটবে। প্রথমত, অন্য কোনো রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নিবে। কিন্তু সেটা এমনভাবে নিশ্চয়ই হবে না, যা আমাদের স্বার্থ এবং মূল্যবোধকে এগিয়ে নিয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, কারো পক্ষেই হয়তো সেই শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব হবে না। আর তখন বিশৃঙ্খলা সেই জায়গা পূরণ করবে। এর যেকোনো একটাই ঘটুক না কেন, সেটা আমেরিকার জন্য ভালো হবে না।

আমেরিকান নেতৃত্ব অবশ্যই অভ্রান্ত নয়। তারা ভুল পদক্ষেপ নিয়েছেন। তারা অনেক রকমের ভুল-ভ্রান্তি করেছেন। অনেক বেশি ক্ষেত্রে আমরা একেবারেই আমাদের সামরিক শক্তির উপরে বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। আমরা নিজস্ব শক্তিসমূহকে পুরোপুরি আহরণ এবং তাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা না করে আমরা সামরিক শক্তির ওপর ঝুঁকেছি। ট্রাম্পের বিপর্যয়কারী পররাষ্ট্রনীতি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অসঙ্গতিপূর্ণ যাত্রাপথ কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। যা কিনা মার্কিন কূটনীতির ভূমিকাকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।

আমি মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষায় কখনোই দোদুল্যমান হবো না। যখন প্রয়োজন পড়বে তখন শক্তি প্রয়োগ করবো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে যতো ভূমিকা আছে, তার পুরোটাই পূর্ণ করতে হবে। কিন্তু তারমধ্যে সর্বাধিনায়কের যে ভূমিকা সেটার মতো বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কোনোটিই নয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বিশ্বের সব থেকে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। এটা যাতে অব্যাহত থাকে, আমি তা নিশ্চিত করবো। এই শতাব্দীর যত চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা মোকাবিলায় আমরা আমাদের সামরিক বাহিনীতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করবো। এই শতাব্দীই শেষ শতাব্দী নয়। কিন্তু শক্তি প্রয়োগ হবে সর্বশেষ হাতিয়ার, কোনোভাবেই প্রথম নয়। এটা কেবলমাত্র প্রয়োগ করা হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থকে রক্ষায়, যখন সেই লক্ষ্য হবে স্পষ্ট এবং অর্জনযোগ্য। আর সেটা আমেরিকান জনগণের বোঝাপড়া এবং সম্মতির ভিত্তিতে।

যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছে অকথিত রক্তপাত এবং সম্পদহানি। যেমনটা আমি দীর্ঘকাল ধরে এই যুক্তি দিয়ে আসছি যে, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফগানিস্তানের যুদ্ধ থেকে আমাদের অধিকাংশ সৈন্যকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এবং সেখানে আমাদের মিশনকে সংকীর্ণ গণ্ডিতে নিয়ে আসতে হবে। যেমন আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট বা আইসিসকে পরাজিত করা আমাদের উচিত হবে। কিন্তু ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধের প্রতি মার্কিন সমর্থন তুলে নিতে হবে। দেশে এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে আমাদেরকে অবশ্যই সন্ত্রাস দমনে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। যে সংঘাতে জয়ী হওয়া যাবে না, তার কাছ থেকে আমরা দূরে থাকবো। কারণ তা আমাদেরক অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ, যাতে আমাদের বেশি মনোযোগ দেয়া দরকার, তা থেকে মনোযোগী হতে আমাদের সামর্থ্য কমিয়ে দেয়। এবং আমেরিকান শক্তির অন্যান্য উপাদানগুলোর পুনর্গঠন, যা খুবই দরকারি, সেটা করা থেকে আমাদের নিবৃত্ত করে।
আমরা একই সঙ্গে শক্তিশালী এবং স্মার্ট হতে পারি। আমাদেরকে অবশ্যই ব্যাপকভিত্তিক, উন্মুক্তনীতির ভিত্তিতে হাজার হাজার আমেরিকান সেনাকে বিদেশে মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। তার পরিবর্তে আমাদেরকে অভিন্ন শত্রুর মোকাবিলায় স্থানীয় অংশীদারদের সমর্থনে মাত্র কয়েকশ’ স্পেশাল ফোর্স মোতায়েন এবং গোয়েন্দা শক্তি ব্যবহার করতে হবে। এই দুই অবস্থা বজায় রাখতে পারার মধ্যে পার্থক্য অনেক। কারণ ছোট পরিসরে যদি সামরিক মিশন মোতায়েন করা হয়, তাহলে তা টেকসই হয়। শুধু সামরিকভাবেই নয়, অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবেও সেটা আমাদের জাতীয় স্বার্থের অগ্রগতি অধিকতর ভালোভাবে নিশ্চিত করে।

0Shares