নাটকীয় জয়ে সেমিতে আবাহনী

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২১

স্পোর্টস ডেস্ক::

আবাহনীর সঙ্গে পাল্লা দিয়েই লড়াই করেছে উত্তর বারিধারা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট আটকে রেখেছিলো সর্বাধিক ১১ বারের ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটিকে। তবে শেষ রক্ষা হলো না তাদের। ম্যাচের যোগ করা সময়ে ফ্রান্সিসকো রদ্রিগেজ ডি সুজার গোলে উত্তর বারিধারাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় ঢাকা আবাহনী। যদিও গোলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল উত্তর বারিধারা। ফেয়ার প্লে’র দাবিতে রেফারিকে ঘেরাও করেছিলে দলটির কর্মকর্তারা। তবে বারিধারার সেই আপত্তি মেনে নেয়নি ম্যাচের রেফারি আলমগীর সরকার। আগামী বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আবাহনীর প্রতিপক্ষ গত আসরের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস।

বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে চট্টগ্রাম আবাহনীর মুখোমুখি হবে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব।
এই ম্যাচেই মৌসুমে প্রথমবার চার বিদেশি নিয়ে মাঠে নামে আবাহনী। রাফায়েল আগোস্তো সান্তোস ডি সিলভা আবাহনীর দ্বিতীয় ম্যাচের দিন ঢাকায় আসেন। মাত্র চারদিনের অনুশীলনে কাল প্রথমবার মাঠে নামেন এই ব্রাজেলিয়ান। তার খেলা মনে ধরেনি আবাহনীর সমর্থকদের। আরেক ব্রাজিলিয়ান ফ্রান্সিসকো রদ্রিগেজ ডি সুজাকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি প্রথমার্ধে। হাইতিয়ান বেলফোর্ট ও আফগানিস্তানের মাসি সাইঘানি উজ্জল থাকলেও প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট ও যোগকরা ছয় মিনিটেও গোল বের করতে পারেননি। বরং উত্তর বারিধারার সুজন রেজা আতঙ্ক ছড়িয়েছেন আবাহনীর রক্ষণে। গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলকে এশাধিক বার পরীক্ষায়ও ফেলেছিলেন জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড।
তবে এদিন ম্যাচে প্রথম আক্রমনে যায় ঢাকা আবাহনী। ম্যাচের আট মিনিটে জীবনের শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন উত্তর বারিধারার গোলরক্ষক মামুন আলিফ। ২০তম মিনিটে রায়হান হাসানের লম্বা থ্রো মাসি সাইঘানির হেড গোলরক্ষক পরাস্ত হলেও গোললাইন থেকে হেডে সেভ করেন ডিফেন্ডার পাপন সিং। মাঝে বল দখলে পিছিয়ে পরায় শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করে খেলতে থাকে আবাহনীর ফুটবলাররা। এর খেসারত দিতে দিয়ে ২৫তম মিনিটের মধ্যে হলুদ কার্ড দেখেন আবাহনীর জুয়েল রানা ও রায়হান হাসান। ৩৪তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে সুমন রেজার আচমকা শট কর্ণারে রক্ষা করেন আবাহনীর গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গুছিয়ে খেলতে শুরু করে উত্তর বারিধারা। সুমন রেজা ও মিশরের মোস্তফার কল্যানে বেশ কয়েকটি আক্রমণেও শানায় নবাগত ক্লাবটি। কিন্তু ফিনিশিং দুর্বলতার কারণে কাজের কাজ হয়নি। শুরুর এই ধাক্কা সামলে ক্রমে নিজেদের গুছিয়ে নেন লেমসের শিষ্যরা। ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে বেলফোর্টের ক্রসে ফাঁকায় বল পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন রদ্রিগেজ। ৬৪তম মিনিটে আবাহনীর সহজতম সুযোগটি নষ্ট করেন জুয়েল রানা। রাফায়েলের ফ্রিকিক মাসি সাইঘানির শট ফাকায় দাড়িয়েও জালে জড়াতে ব্যথ জন এই উইংগার। পরপর আবাহনীর দুটি আক্রমণে নিজেদের গুটিয়ে নেয় বারিধারা। সবাই মিলে ডিফেন্ডিং করা শুরু করলেও আরো চাপ বাড়ে রক্ষণে। কিন্তু গোল হচ্ছিলো না। শেষ পর্যন্ত আবাহনী গেরো খুলে যোগ করা সময়ে। যোগকরা পাঁচ মিনিটের তৃতীয় মিনিটে নাসিরের থ্রো থেকে মাসি সাইঘানির শট বক্সের মধ্যে নামিয়েদেন নাবীব নেওয়াজ জীবন, তা থেকে ম্যাচ জয়সূচক গোলটি করেন আবাহনীর ফ্রান্সিসকো রদ্রিগেজ ডি সুজা। বারিধারার গোলরক্ষক আঘাত পেয়ে মাঠে পরে গেলে বল বাইরে পাঠিয়েদেন। সেই থ্রো থেকেই গোল করে আবাহনী ম্যাচটি জিতে নেয়। ম্যাচ শেষে বারিধারার কোচ জাহিদুর রহমান দাবি করেন এটা ফেয়ার প্লে ছিলো। কারণ, আমার প্লেয়ার  তৈরি ছিল না। তাই বলটি বাইওে পাঠানো হয়। ফেয়ার প্লে অনুযায়ী বলটি আমাদের দেয়ার কলা ছিলো। কিন্তু আবাহনী সেটা করেনি। আবাহনীর কোচ মারিও লেমোস বলেন, যারা ম্যাচ হারে তারাই ফেয়ার প্লে’র কথা বলে। আমরা হারলেও হয়তো সেটাই বলতাম।

0Shares