ইকুয়েডরে ৩ কারাগারের দাঙ্গায় ৬২ জনের প্রাণহানি

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১:৫৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১

 

ইকুয়েডরে পৃথক তিনটি কারাগারে দাঙ্গার ঘটনায় কমপক্ষে ৬২ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক মানুষ আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার গুয়াইয়াকিল, কুয়েনকা এবং লাতাকুনগা কারাগারে বন্দি থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। সোমবার রাত থেকেই দাঙ্গা পরিস্থিতি শুরু হয়। মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে চলে যায়। প্রথমে বন্দিরা কারাগারের নিরাপত্তারক্ষীদের জিম্মি করে। এরপরেই সংঘর্ষ শুরু হয়।

কারাগারগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা এ এস এন  আইয়ের পরিচালক এডমান্ডো মোনকেও বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় কুয়েনসা এলাকার কারাগারে নিহত হন আরও ৩৩ জন। এ ছাড়া বাকি আটজন নিহত হন মধ্যাঞ্চলীয় লাটাকুংগার একটি কারাগারে।গুয়ায়েকুইল কারাগারের বাইরে জড়ো হওয়া উদ্বিগ্ন প্রায় ৪০ নারীর একজন ড্যানিয়েলা সোরিয়া (২৯) বলেন, ‘আমরা নিহত ব্যক্তিদের তালিকা চাই।’ তিনি বলেন, ‘বন্দীদের সবার কাছেই ফোন আছে। কিন্তু আমার স্বামী ফোন করছেন না।’ এ সময় অপেক্ষমাণ স্বজনদের অনেকে কেঁদে ফেলেন।

সোরিয়া বলেন, এর আগে হোয়াটসঅ্যাপে স্বামী রিকার্ডোর কাছ থেকে তিনি একটি বার্তা পান। সেখানে রিকার্ডো বলেন, তারা তাঁকে মেরে ফেলতে চলেছে, তাঁকে যেন এখান থেকে বের করা হয়। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। রিকার্ডোর স্ত্রী সোরিয়া আরও বলেন, ‘এই কারাগার যেন একটা মার্কেট। সেখানে সব আছে—মাদক, অস্ত্র, এমনকি কুকুরছানাও। সেখানে সবকিছুই বিক্রি হয়।’

দাঙ্গার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো টুইটারে ওই দাঙ্গাকে অপরাধী সংগঠনগুলোর সদস্যদের সহিংসতা বলে আখ্যায়িত করেন।

কর্তৃপক্ষ বলেছে, দাঙ্গা চলাকালে তারা কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালায়। দাঙ্গা দমনে পুলিশকে সহায়তা দিতে সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়। অপরাধী গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে এই সংঘর্ষে কয়েকজন বন্দী আহতও হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুয়ায়েকুইল কারাগারের ২ বন্দীর অবস্থা গুরুতর।

এডমান্ডো মোনকেও বলেন, দাঙ্গাকালে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কেউ নিহত হয়েছেন বলে জানা যায়নি। এদিকে পুলিশ কমান্ডার প্যাট্রিসিও ক্যারিলো পরিস্থিতিতে গুরুতর বলে বর্ণনা করেছেন। একটি কারাগার থেকে দাঙ্গাকারীদের ব্যবহৃত ২ আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

 

0Shares