কোম্পানীগঞ্জে ফের সংঘর্ষ-গুলি, আহত অর্ধশতাধিক

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২১

ডায়ালসিলেট ডেস্ক::

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজারে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে মঙ্গলবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো বসুরহাট বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি, চার পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। এ সময় পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি গাড়ি ও দোকান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে বসুরহাট রূপালী চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের ওপর মেয়র আবদুল কাদের মির্জার লোকজন হামলা ও মারধর করে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রূপালী চত্বরে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগের একাংশ (মিজানুর রহমান বাদল গ্রুপ)।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে থানার পশ্চিম পাশের সড়ক (মাকসুদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়) দিয়ে সভায় হামলার চেষ্টা চালায় কাদের মির্জার সমর্থকরা। এ সময় উভয়পক্ষের সমর্থকরা মুখোমুখি হলে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষের লোকজন গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ম্ফোরণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বসুরহাট বাজারে। নারী-পুরুষ এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। অনেকে বসুরহাট বাজারে বিভিন্ন মার্কেটে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে দোকানপাট, যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষকারীরা কয়েকটি দোকান ও রাস্তায় থাকা যানবাহনে ভাঙচুর চালায়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য।

মিজানুর রহমান বাদল অভিযোগ করে বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সন্ত্রাসী বাহিনীর সশস্ত্র ক্যাডাররা হামলা চালিয়েছে।

তবে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, মিজানুর রহমানের একজন বঙ্গবন্ধু চত্বরের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় আশপাশের ব্যবসায়ীসহ লোকজন তাকে ধাওয়া করেন। ওই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো লোক জড়িত নন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) রবিউল হক জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় ওসি মীর জাহেদুল হক রনি, এসআই মিজান, জাকির, আবুল কালাম ও আলাউদ্দিন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।

এদিকে, রাত ৯টা পর্যন্ত পুরো পৌর এলাকা ছিল থমথমে। কাদের মির্জার পক্ষের লোকজন বসুরহাট পৌরসভায় কার্যালয়ে এবং মিজানুর রহমান বাদলের লোকজন উপজেলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে আছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে শহরজুড়ে বিপুলসংখ্যক র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি পুলিশ, দাঙ্গা পুলিশ টহল দিচ্ছে।

0Shares