সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে শুরু হচ্ছে বিমান চলাচল

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ৯:১১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২১

ডায়ালসিলেট::

চায়ের সাম্রাজ্য এবং ভারত থেকে নেমে আসা জলপ্রপাতের শীতল জলে গা ভিজিয়ে সুখকর অনুভূতি পেতে সিলেটে আসেন পর্যটকরা। তেমনি সাগরের জলরাশি ও পাহাড়ের বিশালতা দর্শনে চট্টগ্রাম ভ্রমণ করেন অনেকে। পর্যটনের জন্য সারাদেশের মানুষের কাছেই এই দুই অঞ্চল খ্যাত। দুই অঞ্চলের মানুষই একে অন্যের অঞ্চলের সৌন্দর্য দর্শন করতে ভ্রমণ করেন। কিন্তু সিলেট ও চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নেন অনেক পর্যটক। দীর্ঘ যাত্রার ঝক্কিতে অনীহা থাকায় ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগে বিমুখ। বিমানের কোনো ফ্লাইট না থাকাটাও সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের আক্ষেপ।

তবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এবার সে আক্ষেপ ঘুচতে যাচ্ছে। আগামীকাল ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ১০১তম জন্মদিনে প্রথমবারের মতো সিলেট চট্টগ্রাম রুটে চালু হচ্ছে বিমান বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট।

সিলেট থেকে চট্টগ্রাম রুটে বিমান চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। পর্যটন ও বাণিজ্য খাতের প্রসার এবং শিল্পায়নের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষেই সিলেটবাসীর এই দাবি। অবশেষে আগামীকাল বুধবার সেই দাবি আলোর মুখ দেখছে। বাস্তবে রূপ নিচ্ছে সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে বিমান চালুর দাবিটি।

বুধবার বেলা ১টা ২৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাবে প্রথম ফ্লাইট। বাংলাদেশ বিমানের বিজি ১৭৪ ফ্লাইটটি বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। ৭৪ আসনের এই বিমানটির উদ্বোধন ফ্লাইট উপলক্ষে ইতোমধ্যে ২০ জন টিকেট কেটে নিয়েছেন। আজ আরও টিকেট বিক্রি হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্বোধনী দিনের যাত্রীরা পাচ্ছেন বিশেষ ছাড়। বাংলাদেশ বিমানের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক ফারুক আলম দৈনিক সিলেট মিররকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, উদ্বোধন উপলক্ষে যাত্রীদের ১৭ শতাংশ ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ বিমান। এছাড়া এই বিমানটি চট্টগ্রাম থেকে যাত্রী নিয়ে প্রথমে সিলেটে আসবে। পরে সিলেট থেকে যাত্রী নিয়ে যাবে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম থেকেও ইতোমধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৫৯ জন যাত্রী টিকেট কেটে রেখেছেন। এ সংখ্যাও আজ বেড়ে গিয়ে আসন পূর্ণ হয়ে যাবে বলে বলে আশা করছেন বিমানের এই কর্মকর্তা।

প্রতি রবি ও বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে চট্টগ্রাম এবং প্রতি মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে সিলেট চট্টগ্রামে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল করবে। এরমধ্যে রবিবার ও মঙ্গলবারের ফ্লাইটটি ওয়ানওয়ে। এই দুদিন ফ্লাইট শুধুমাত্র সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাবে। ফিরতি ফ্লাইট ধরবে না।

উদ্বোধনী দিনে চট্টগ্রামের চেয়ে সিলেটে গতকাল অবধি যাত্রী সংখ্যা কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিলেটের বেশিরভাগ যাত্রীই সাধারণত একদিন আগে বিমানের টিকেট কেটে থাকেন। আশা করছি আগামীকালই (আজ) সব আসন পূর্ণ হয়ে যাবে।’

চট্টগ্রামের বড় পর্যটন এলাকা কক্সবাজার। এছাড়াও বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, পতেঙ্গাসহ আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। সেখানেও দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো সিলেটের পর্যটকরা ভ্রমণ করেন। সিলেট চট্টগ্রামের ফ্লাইট চালু হওয়ায় স্থানীয় পর্যটকদের জন্য চট্টগ্রাম ভ্রমণে সময় অনেকটা সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন পর্যটকরা।

সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী দিব্যজিৎ দত্ত জয় বলেন, ‘চট্টগ্রামে শুধু সাগর নয় পাহাড়ও আছে। আবার পাহাড়ের গহীনে আছে দর্শনীয় অনেক ঝর্ণা। এছাড়া আরও অনেক জায়গা রয়েছে। যেগুলো সময়ের অভাবে পর্যটকরা দেখতে পারেন না। কারণ, সিলেট থেকে যেতেই ভ্রমণের অর্ধেক সময় চলে যায়। এই ফ্লাইট চালু হওয়ায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের সময় অনেকটা সাশ্রয় হবে। অদেখা অনেক স্থানই দেখার সুযোগ হবে।’

চট্টগ্রাম রুটে ফ্লাইট চালু হওয়ায় সিলেটে শিল্পায়ন সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব সিলেট মিররকে বলেন, ‘পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। অনেক পর্যটকই যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত থাকায় যাতায়াত করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তাই এই খাতটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাছাড়া সিলেট শিল্পায়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। এর অন্যতম কারণ অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই ফ্লাইট চালু হওয়ায় সিলেটে শিল্পায়ন সৃষ্টির একটি সুযোগ তৈরি হেেলা বলে আমি মনে করি।’

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের উপ ব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে দেশের দুই পর্যটন এলাকায় শুরু হচ্ছে বিমানের ফ্লাইট। দুই অঞ্চলের পর্যটকদের দাবির প্রেক্ষিতে এই ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। দুই অঞ্চলের পর্যটন ও বাণিজ্য বিকাশে বিমানের ফ্লাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।’

0Shares