বাংলাদেশবিরোধী অপশক্তি এখনো দেশ-বিদেশে সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ৮:০০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২১

ডায়ালসিলেট ডেস্ক::প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ যে অবস্থানে দাঁড়িয়েছে সেখান থেকে তাকে সহজে অবনমন করা বা নামানো যাবে না। তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ- এই করোনাভাইরাস মহামারির অভিঘাত সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে। তবে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বাংলাদেশবিরোধী অপশক্তি এখনো দেশে-বিদেশে সক্রিয় রয়েছে। তারা নানা অপতৎপরতার মাধ্যমে এ অর্জনকে নস্যাৎ করতে চায়।
গতকাল বিকালে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন শুধু আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। পেছনে তাকানোর কোনো সুযোগ নেই।

সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে এদেশকে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শোষণ-বঞ্চনামুক্ত, ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবোই, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতীক্ষার প্রহরের আজ অবসান হতে চলেছে। এমন এক সময়ে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছি, যখন বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মর্যাদাশীল উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। মাথাপিছু আয় সম্মানজনক ২ হাজার মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। দেশ খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে; মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে।
আর্থ-সামজিক সূচকে বাংলাদেশ প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১২ বছরের নিরলস প্রচেষ্টা এবং জনগণের ঐকান্তিক পরিশ্রমের ফসল আজকের এই প্রাপ্তি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং ভ্রাতৃপ্রতীম মালদ্বীপের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বাণী পাঠানোয় তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাঙালির রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ মাতৃভাষার মর্যাদা অর্জনের যে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন সে ধারাবাহিক সংগ্রামের সাফল্যের ফসলই আমাদের স্বাধীনতা।
যুদ্ধ বিধস্ত দেশ, তার ওপর শত শত বছরের পরাধীনতার গ্লানি। শোষণ, বঞ্চনা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য-পীড়িত মানুষের এ জনপদকে একটা পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার মতো কঠিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে। অসাধ্য সাধন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং যুদ্ধ পরবর্তী দেশ গড়ার কাজে যে সকল বন্ধুপ্রতীম দেশ এবং নেতৃবৃন্দ আমাদের সাহায্য করেছিলেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি বলেন, অনেক স্বপ্ন ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। বাংলাদেশকে তিনি উন্নত সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট তাকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয় ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বীরযোদ্ধা, ১৫ই আগস্ট ঘাতকের গুলিতে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

0Shares