শামসুদ্দিন হাসপাতালের করোনা ইউনিটে

চাপের মধ্যে আইসিইউ চিকিৎসকরা

প্রকাশিত: ১০:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

মহামারী মোকাবেলায় সিলেটে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শহরজুড়ে কেউই মানছেন না সামাজিক দূরত্ব স্বাস্থ্যবিধি নিয়ম। হঠাৎ করে বাড়ছে করোনা সংক্রমনের রোগীর সংখ্যা।

এদিকে  সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে আইসিইউ বিভাগের চিকিৎসক সংকট থাকায় রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে অনেকে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আইসিইউ বিভাগে থাকা অনেক চিকিৎসক।

প্রতিদিনই ডিউটি  থাকায় পরিবার আত্নীয়স্বজন বা মানসিক প্রশান্তি থেকে বিরত রয়েছেন আইসিইউতে থাকা চিকিৎসকরা এবং নিজেদের কর্মদক্ষতা বা কর্মকালীন সময়ও মানসিক  প্রশান্তি যতটুকু  প্রয়োজন এর থেকে বেশী  ডিউটি পালনে ব্যতীব্যস্ত।

সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষরা জানান,  প্রায় ৫০জনেরও বেশী চিকিৎসক রয়েছেন হাসপাতালটিতে এবং সবাই ডিউটি করে যাচ্ছেন। কিন্তু যেখানে আলাদা করে আইসিইউতে  সকাল বিকাল ৩জন করে চিকিৎসকদের ডিউটি দেয়া হচ্ছে সেখানে দেখা যায় আইসিইউ বিভাগে মোট ৮জন চিকিৎসক উক্ত বিভাগে ডিউটিতে দ্বায়িত্ব পালন করছেন।

একটি সূত্রে জানা যায়, প্রতিমাসে ডিউটি ভাগ করে মোট ৪৫ জন চিকিৎসক সাধারণ ওয়ার্ডে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে মোট ৮৪টি বেডের মধ্যে বর্তমানে ৩৯ জন করোনা আক্রান্ত  রোগী ভর্তি রয়েছেন।  কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাধারণ ওয়ার্ড ও আইসিউ বিভাগে ডিউটির ভাগাভাগির বিষয়টি নিয়ে বলতে নারাজ।

আইসিইউ বিভাগে যেখানে নীবির পর্যবেক্ষনের জন্য গুরুত্বর অসুস্থ রোগীরা ভর্তি রয়েছেন। সেখানে দেখা যায় প্রতিমাসের জন্য আইসিইউ ইউনিটে  ডিউটি ভাগ করে মোট ৮ জন চিকিৎসক দ্বায়িত্ব পালন করছেন। এ আইসিইউ বিভাগে ডায়ালাইসিস ২টা সহ মোট ১৮টি বেড রয়েছে। বর্তমানে ১০ জন ইমাজেন্সী করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছেন ।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিইউ বিভাগে থাকা এক রোগীর স্বজনরা জানান, আইসিইউ বিভাগটি এতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ইকানো দেখি ডাক্তার খম আর নরমাল ওয়ার্ডও ডাক্তাওর অভাব নাই। আমার আত্নীয় আরো ২ জন নরমাল ওয়ার্ড ও ভর্তি আছইন তারা জানাইছন। তবে সেবা ভালা ফাইরাম।

এবিষয়ে সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা.সুলতানা রাজিয়া  সাথে কথা বললে তিনি ডায়ালসিলেটকে বলেন, ডাক্তার সংক্রান্ত বিষয় আমি কিছু জানি না তবে কোভিট সর্ম্পকে যেকোন কিছু বলতে পারবো আর আইসিইউতে  চিকিৎসক  সংকট সর্ম্পকে  সিলেট শহীদ  শামসুদ্দিন হাসপাতাল আমাদের নিয়ন্ত্রণে না এ সম্পর্কে আরএমও অথবা পরিচালকের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে আর কোন জিনিস ফমূলা দিয়ে চালানো যায় না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থায় চালানো হয় ওনাদের কি পরিমান ফোর্স আছে সেটা কিভাবে কাজে লাগাবেন উনারা ভাল জানেন।

এব্যাপারে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার  বলেন, আমাদের হাসপাতালে প্রায় ৫০জনের মত ডাক্তার আছে এবং রোগী ভর্তি আছে ৩১জন আইসিইউতে রোগী আছেন ৮জন। আইসিইউতে ৩ জন করে ডাক্তার ২ সিফট এ করে ডিউটি করছেন।  ৩জন সকালে আর ৩জন বিকেলে থাকেন।  বাংলাদেশ সরকার এর চেয়ে বেশী ডাক্তার কোথাও দিতে পারবে না। এর চেয়ে বেশী ডাক্তার দিলে কোথা থেকে দিবে।

এখানে শহীদ শামসুদ্দিনে হাসপাতালে সে অথরাইজড তার থেকে আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে ডাক্তার এনে  এখানে সংযুক্ত করেছি। গত বছরে আরো বেশী  ডাক্তার ছিলেন তখন করোনা কমে গিয়েছিল এখান থেকে সিভিল সার্জন ডাক্তার নিয়ে গিয়েছেন । এখন একটু বেড়েছে  আমরা ডাক্তার আনার চেষ্টা করছি। আর এখন যে ডাক্তাররা রয়েছে তা কম না যতেষ্ট রয়েছেন।

আইসিইউ ডাক্তার সংকট এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে বেশী সময় ডিউটি পালন করতে হচ্ছে তাদের সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডাক্তার কেন কম সে উত্তর আমি দিতে পারবো না। কেউ যদি আপনাকে বলে থাকে তাহলে সে তথ্য সঠিক দেয় নাই। এখানে যন্তপাতি মেশিনপত্র সব ঠিক আছে সেখানে আমি গিয়েছি দেখেছি ডাক্তারদের সাথে কথা বলেছি কোনটার অভাব নাই।  আইসিইউ বিভাগ আর  নরমাল ওয়ার্ডে ৫০জনের বেশী ডাক্তার রয়েছে। সেখানে আলাদা কোন ভাগাভাগি না নরমাল ওয়ার্ডে ৪৫ জনের মত ডাক্তার না। এখানে ডাক্তার কোন ভাগ নাই এসমস্ত কথাবার্তা কে বলেছে ডাক্তাররা বলেছে তাদের এসব কোছাকোছি থাকবে।

এখানে আইসিইউ ডাক্তার নরমাল ওয়ার্ডের ডাক্তার এরকম কোন ভাগাভাগি নাই। এখানে মোট ৮জন ডাক্তার আছে যারা আইসিইউতে কাজ করতে পারে সেখানে ৩জন করে ১ সিফট এ থাকে অসুবিধাটা কি। আমাদের এখানে যারা ভর্তি হয়েছে তাদেরকে আমরা সার্ভিস দিচ্ছি প্রয়োজন অনুযায়ী সার্ভিস দিচ্ছি। কোন রোগী যদি বলে সেবা পাচ্ছি না সেটা বলতে পারেন।

ডাক্তার কম না বেশী সেটা  তথ্য আপনাকে কেউ দিয়ে থাকলে  সেটি সঠিক তথ্য দেয়নি। আমি জানি ২জন ডাক্তার সিভিল সার্জন নিয়ে গেছে। এজন্য আমাদের ডাক্তারদের মধ্যে হয়তো অসন্তুস্তি বিরাজ করেছে এসব  খোচাখোছি ছাড়া আর কিছুই না।

শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আরএমও সুশান্ত কুমার মহাপাত্র ডায়ালসিলেটকে জানান, এটা আসলে সিভিল সার্জন স্যার আছেন উনাদের ওর্ডারেই ডাক্তাররা ছিল আবার উনাদের ওর্ডারেই গত মাসে উপজেলা ডিউটি দিছেন। যেহেতু এ কয়েকদিনে মধ্যে রোগী বাড়ছে ডাক্তাররা আবার আনার জন্য আমরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করতেছি। আমাদের শামসুদ্দিন হাসপাতালে এমবিবিএস ডাক্তারদের পোষ্ট কম । যেভাবে করোনার রোগী গতবছর বাড়ছিল যখন সিভিল সার্জন এবং বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য কার্যালয় থেকে উনারা বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের এখানে ডাক্তার পোষ্টেড দেন।

মাঝখানে করোনা রোগী কমে যাওয়ায় ডাক্তার সরানোর প্রসেস করা হয়। তারই প্রেক্ষিতে গতমাসে আমাদের ৬জন ডাক্তার সরানো হয়েছে। এখন আবার রোগী বাড়া শুরু হয়েছে এমাস থেকে আমরা আবার স্যারদের সাথে যোগাযোগ করতেছি যাতে আমরা ডাক্তার আবার কাভার করতে পারি।

নরমাল ওয়ার্ডের বাকি ৪৫জন চিকিৎসকদের মধ্যে কিছু সংখ্যক চিকিৎসক আনার ব্যাপারে বলতে চাইলে ডা.সুশান্ত কুমার মহাপাত্র বলেন,   আইসিইউতে আসলে বর্তমানে যারা রয়েছেন তারা আসলে আইসিইউ বা এনেসথেশিয়াতে এক্সপার্ট না। আইসিইউটি একটি স্প্যাশালিষ্ট ইউনিট। আসলে নরমাল ওয়ার্ডে যারা রয়েছেন তারা আসলে এব্যাপারে এতো বেশী এক্সপার্ট না তারপরও তাদের মধ্যে যদি এক্সপার্ট কেউ থাকলে বা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইসিইউ বিভাগে আনা যায় সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করতেছি পরে কি করা যায়।

ডাক্তার পর্যাপ্ত থাকলে আমরা মেনটেইন করতে পারতাম। আর আমার সেখানে কন্টিনিউআওয়ার্স থাকতেই হয়। কারণ রোগীদের সেবাটা আমাদের প্রথম কাজ । তারপর সবার কর্মদক্ষতা বা কর্মকালীন সময়ও আসলে প্রশান্তি হওয়া দরকার। রোগীদের সেবা দিতে গেলে ডাক্তারদের শারীরিক বা মানসিক ভাবে ডাক্তারদের যে সুস্থতার ব্যাপরটা অবশ্যই দরকার।

উল্লেখ্য , প্রায় ৫০জনেরও বেশী চিকিৎসক সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে দ্বায়িত্ব পালন করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাধারণ ওয়ার্ডে যে পরিমান চিকিৎসকদের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে সে তুলনায় আইসিইউ বিভাগের মত জায়গায় সেখানে জীবনের শেষ ধাপে রোগীরা জীবন মরনের সাথে লড়াই করছে সেখানে দ্বায়িত্ব দেয়া  ৮ জন চিকিৎসক তাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থতা না থাকলে রোগীদের পাশাপাশি সেবাদানকারী চিকিৎসকরাও অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এ অবস্থায় চাপের মধ্যে রয়েছে করোনা ইউনিটের আইসিইউ বিভাগে থাকা চিকিৎসকরা।

0Shares