বিশ্বনাথে ব্যবসায়ী খুন : ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১০:০৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২১

ডায়ালসিলেট ::

সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর এলাকার বিশ্বনাথ-জানাইয়া খেলার মাঠে যাওয়ার পথিমধ্যে শুকুর আলীর বাসা সংলগ্ন স্থানে গত ২০ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছুরিকাঘাতে তরুণ ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন সায়মন (২৫) খুন হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই ময়নুল ইসলাম সুমন বাদী হয়ে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলাটি দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর- ২৭, তারিখ- ২২.০৩.২১)। ছিনতাই করার জন্য নয়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ইমরান হোসেন সায়মনকে খুন করা হয়েছে মর্মে বাদী তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

মামলার অভিযুক্তরা হলেন- পৌর শহরের উত্তর মশুল্ল্যা (জানাইয়া) গ্রামের মনোহর আলীর পুত্র এনাম উদ্দিন (২৩), মোস্তাব আলীর পুত্র তাহিদ আলী (২৪), আব্দুল মছব্বিরের পুত্র আফজাল হোসেন লায়েক (১৯), মৃত তাহির উল্লার পুত্র ফয়েজ আহমদ (২৪) ও দক্ষিণ মশুল্ল্যা (জানাইয়া) গ্রামের তোরাব আলীর পুত্র তারেক আহমদ (২১)। ঘটনার পর পরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত লায়েক, ফয়েজ ও তারেককে আটক করে পুলিশ। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলে ওই তিনজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।

লিখিত এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, একই গ্রামে বাড়ি হওয়ার কারণে বাদীর ছোট ভাই ইমরান হোসেন সায়মনের সঙ্গে চলাফেরা করার সুবাদে গ্রেপ্তারকৃত লায়েক, ফয়েজ ও তারেক তাদের বাড়িতে এবং নিহতের মুদি দোকানে আসা-যাওয়া করত। মামলার প্রধান দুই অভিযুক্ত এনাম ও তাহিদও বাদীর ভাইয়ের দোকানে আসা-যাওয়া করত। অভিযুক্ত এনাম ও তাহিদের সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত লায়েক, ফয়েজ ও তারেকদের ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল ও তারা এক সঙ্গে চলাফেরা করত। অভিযুক্ত এনাম ও তাহিদ চুরিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে বাদীর নিহত ভাই তাদেরকে (এনাম ও তাহিদ) বাধা-নিষেধ দিতেন। এ নিয়ে তাদের (এনাম ও তাহিদ) সঙ্গে ইমরান হোসেন সায়মনের মাঝে-মধ্যে কথা কাটাকাটি হতো। এ নিয়ে অভিযুক্তরা বাদীর ভাইয়ের উপর ক্ষিপ্ত ছিল। এর জের ধরে মামলার প্রধান দুই অভিযুক্ত এনাম ও তাহিদ তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু লায়েক, ফয়েজ ও তারেকের সঙ্গে পরামর্শ করে বাদীর ভাই সায়মনকে শায়েস্তা করার জন্য পরিকল্পনা করেন। আর সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ মার্চ সন্ধ্যার পর গ্রেপ্তারকৃত লায়েক, ফয়েজ ও তারেক বাদীর ছোট ভাই সায়মনকে বিশ্বনাথ সদরে নিয়ে আসে এবং একটি রেস্টুরেন্টে বসে চারজন এক সঙ্গে হালিম খায়। হালিম খেয়ে তারা এক সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখে। এরপর উপজেলা পরিষদ পয়েন্টে জামাল উদ্দিনের দোকানে এক সঙ্গে পান-সুপারী খান লায়েক, ফয়েজ, তারেক ও সায়মন। পান-সুপারী খেয়ে রিকশাযোগে বাড়ি যাওয়ার কথা থাকলেও লায়েক, ফয়েজ ও তারেক বাদীর ভাই সায়মনকে উপজেলা পরিষদের মসজিদের সামনে থেকে কাঁচা রাস্তা দিয়ে শুকুর আলীর বাসার দিকে নিয়ে যায়। কারণ তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযুক্ত এনাম ও তাহিদ ঘটনাস্থলের আশেপাশে অপেক্ষমান ছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র প্রধান দুই অভিযুক্ত এনাম ও তাহিদ বাদীর ভাই সায়মনকে দাঁড় করিয়ে নারী সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড বিষয়ে তার সঙ্গে তর্ক শুরু করে। তাদের তর্কের সময় সায়মনকে কোনো সহযোগিতা না করে লায়েক, ফয়েজ ও তারেক নীরব ভূমিকা পালন করে। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে এনাম ও তাহিদের সঙ্গে বাদীর ভাই সায়মনের হাতাহাতি শুরু হলে লায়েক, ফয়েজ ও তারেক অভিযুক্ত এনাম ও তাহিদকে সাহায্য করতে জোরপূর্বক সায়মনের হাত, পা ও মুখ চেপে ধরে রাখে আর এ সময় মামলার প্রধান অভিযুক্ত এনাম নিজের কাছে থাকা চাকু দিয়ে হত্যা করার উদ্দেশে বাদীর ভাই ইমরান হোসেন সায়মনের বুকের বামপাশে সজোরে আঘাত করে। এরপর সায়মনের মৃত্যু নিশ্চিত করে এনাম, লায়েক ও তারেক ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং তাহিদ ও ফয়েজ হত্যার ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ছিনতাইয়ের নাটক সাজানোর চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের ও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করার সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম মুসা বলেন, ‘মামলার প্রধান দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

0Shares