ওসিসহ আহত অর্ধশতাধিক

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২১

ডায়ালসিলেট ::

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় হরতালের সময় গাড়ি বের করা নিয়ে ট্রাকচালকের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জের ধরে হরতাল সমর্থনকারী ও দুই গ্রামবাসীর মধ্যে আড়াই ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা সেখানে গেলে উপজেলার আমতৈল গ্রামের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় প্রায় ৯০ রাউন্ড গুলি ও ৭ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ।

রবিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার বিশ্বনাথ-লামাকাজি সড়কের পিছের মুখ নামক স্থানে বৃহত্তর আমতৈল ও ধলিপাড়া গ্রামের লোকজন এবং হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্বনাথ থানার ওসিসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকাজুড়ে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বর্তমানে পুলিশের হস্তক্ষেপে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গেছে, বিশ্বনাথ-লামাকাজি রোডের পিছের মুখ নামক স্থানে রবিবার সকাল থেকে আমতৈলের গাজীর মোকাম মসজিদের ইমাম মুফতি ফারুক আহমদের নেতৃত্বে রাস্তায় পিকেটিংয়ে নামে ওই এলাকার জামায়াত-হেফাজত ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ সময় পার্শ্ববর্তী ধলিপাড়া গ্রামের খায়রুল ইসলাম ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-৯৮২৩) চালিয়ে নিজের বাড়িতে যাওয়ার পথে তারা বাধা দেয়। একপর্যায়ে পিকেটাররা ওই ট্রাকচালকের ওপর হামলা করে। এ সময় ধলিপাড়া গ্রামের লোকজন এসে পিকেটারদের বাধা দেন। পরবর্তীতে মুফতি ফারুক আহমদ আমতৈলের মসজিদের মাইকে ইসলামবিরোধীরা তাদের ওপর হামলা করেছে বলে ঘোষণা দেন। মূহূর্তেই দুই গ্রামের প্রায় দুই হাজারেরও অধিক মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

আমতৈল গ্রামের লোকজন ধলিপাড়া গ্রামের বাড়িঘরে হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলে জানান স্থানীয়রা। সংঘর্ষে থানার ওসি শামীম মুসা, এসআই আফতাবুজ্জামান রিগ্যান, কনস্টেবল নাহিদ, জাবেদ, ইমরান ও আব্দুল আলিম এবং দুইপক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন।

ধলিপাড়া গ্রামের আহতরা হলেন- খায়রুল আলম (৩০), আফাজ উদ্দিন সুবল (৪৫), কাচা মিয়া (৩৫), আব্দুছ সালাম (৬২), এনামুল হক (২৮), ওয়াছিদ আলী (৫২), নেছার আলী (৩১), আখলাক আহমদ (১৬), ছানোয়ার (২০), ইমন আহমদ (১৮), শিপু মিয়া (২৫), মিলাদ আহমদ (৩৫), আমিরুল ইসলাম (৩০) নজির আহমদ (৩১), জাবের মিয়া (২১), আব্দুল কদ্দুছ (৭০), জহিরুল ইসলাম (৩৮) ও ইমাম উদ্দিন (৩৬)।

আমতৈল গ্রামের আহতরা হলেন- মুফতি ফারুক আহমদ (৪৮), ফারুক মিয়া (৩৫), মোহন মিয়া (৪৫), সাইদুল ইসলাম (২৫), চান মিয়া (৩৫), ফয়সল আহমদ (১৪), রাসেল আহমদ (২৫), আলী আকবর (২৫), জয়নাল মিয়া (৫২) ও গুলচর আলী (৫০)। ওই গ্রামের আরও অনেক লোক আহত হলেও মামলার ভয়ে কেউ তাদের নাম প্রকাশ করেননি। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত রয়েছেন- রাসেল আহমদ, আলী আকবর, জয়নাল মিয়া ও গুলচর আলী। গুরুতর আহত কনস্টেবল নাহিদ ও গুলিবিদ্ধ চারজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

সংঘর্ষের ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী মাজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মো. কামরুজ্জামান, ওসমানীনগর সার্কেলের এএসপি রফিকুল ইসলাম এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সংঘর্ষে আহত বিশ্বনাথ থানার ওসি মো. শামীম মুসা বলেন, ‘হরতালে পিকেটিং করতে গেলে পূর্বের মারামারিতে এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি। হামলায় আমিসহ ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন

।’

এ/১

0Shares