বদলির পরও কানাইঘাট ছাড়ছেন না স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারি

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ৪:০৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২১

ডায়ালসিলেট ডেস্ক::

কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লাখ লাখ টাকা ভূয়া বিল ভাউচার ও সিল জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনায় অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর শামীম আহমদকে সুনামগঞ্জে শাস্তিমূলক বদলীর পরও কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে।

 

জানা যায়, এলাকার সচেতন মহল হাসপাতালের বিভিন্ন খাতের টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে কয়েক মাস আগে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. সুলতানা রাজিয়া বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেন। সিলেট জেলা সিভিল সার্জন অভিযোগের তদন্তকালে শামীম আহমদের বিরুদ্ধে হাসপাতালের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমানিত হয়।

এ কারণে গত ২৬ জানুয়ারি স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা, সুলতানা রাজিয়া (স্মারক নং- প্রঃস্বাঃসিঃ/প্রশা-৪/২০২১) এক আদেশে কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শাস্তিমূলকভাবে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে বদলি করেন। এ আদেশের পরও শামীম আহমদ ছাতক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করে সেখানে ৩/৪দিন অবস্থান করে ছুটি নিয়ে কানাইঘাটে চলে আসেন। এরপর থাকে কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবৈধভাবে অবস্থান করে তাকে অফিস সহকারীর কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. অভিজিত শর্মা স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, শামীমকে সিভিল সার্জনের অনুমতিক্রমে ২ সপ্তাহের আনা হয়েছে। সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর সে তার কর্মস্থল ছাতক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে যাবে। কিন্তু তার পরও রহস্যজনক কারণে শামীম আহমদ তার কর্মস্থলে না গিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। এতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরকারীরা ও হাসাপাতালের আশাপাশ এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ২০/২২ দিন আগে শামীম আহমদ কেন হাসপাতালে অবস্থান করছে জানতে চাইলে টিএইচও ডা. অভিজিত শর্মা বলেছিলেন, সে চিকিৎসাজনিত ছুটিতে আছে। তাকে হাসপাতালে আসতে নিষেধ করেছি।

এ ব্যাপারে ছাতক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচওর সাথে মোবইলে কথা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শামীম ছুটি নিয়েছিল। কিন্তু ছুটি শেষ হলেও কর্মস্থলে না এসে নানা ধরনের ছল-চাতুরি করছে। তার সাথে বারবার যোগাযোগের পরও সে অসুস্থতা দেখিয়ে চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে এখনও কর্মস্থলে যোগ দেয়নি।
অভিযোগকারীরা বলেছেন, শামীম আহমদ সম্পুর্নভাবে সুস্থ থেকে ভুয়া মেডিকেল লিভ নিয়ে কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন অবস্থান করে অবৈধভাবে হাসপাতালের কাজকর্ম করছে। একজন সুস্থ ৩০ বছর বয়সের ব্যক্তিকে কি করে চিকিৎসকরা অসুস্থ দেখিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন, সেটি খতিয়ে দেখার দাবি ন সচেতন মহলের।

শনিবার শামীমকে হাসাপাতালে কাজকর্ম করতে দেখে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের সাক্ষী ইকবাল আহমদ।

তিনি টিএইচও ডা. অভিজিত শর্মার কাছে শামীমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু অফিসিয়াল কাজ করার জন্য তাকে ডাকা হয়েছে। এখন থেকে সে আর হাসপাতালে আসবেনা।

ইকবাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুর্নীতির দায়ে প্রায় ৩মাস আগে বদলির পরও কিভাবে এবং কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে শামীম আহমদ হাসপাতালে অবস্থান করে অফিসের কাজকর্ম করছে? বিষয়টি তিনি তদন্ত করে দেখার জন্য উপজেলা প্রাশাসন ও জেলা সিভিল সার্জনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

0Shares