করোনার টিকা সংকটে সিলেট

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১২:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০২১

ডায়ালসিলেট ডেস্ক::করোনাভাইরাসের টিকার সংকটে পড়ছে সিলেট। বিভাগের চার জেলায় কমে এসেছে টিকার মজুত। অবশিষ্ট মজুত দিয়ে চলবে আরো কিছুদিন। পুনরায় টিকার চালান না আসলে দ্বিতীয় ডোজ থেকে বঞ্চিত হবেন লক্ষাধিক মানুষ। সেই সঙ্গে অনেকের ভাগ্যে প্রথম ডোজও ঝুটবে না। এমনটাই আভাস দিয়েছেন সিলেটের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের তথ্যমতে, প্রথম চালানে বিভাগে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ডোজ করোনা টিকা আসে। এরমধ্যে সিলেট জেলায় প্রথম ধাপে আসে দুই লাখ ২৮ হাজার টিকা। এরপর দ্বিতীয় ধাপে আরো ৭২ হাজার টিকা আসে। এগুলো শেষ হওয়ার আগে পরবর্তী টিকার চালান আসার কথা ছিল। যেকারণে টিকার সংকট পড়বে না বলে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারি পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান ও সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মন্ডল। তারাই এখন বলছেন, কিছু দিনের মধ্যে পুনরা টিকার চালান না আসলে সংকট সৃষ্টি হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের তথ্যমতে, মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৯ হাজার ৮৭ জন। এরমধ্যে ৫ হাজার ৭০৩ জন পুরুষ ও ৩ হাজার ৩৮৪ জন নারী। এদিন প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৭৬০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৫৪৮ জন এবং নারী ২১২ জন।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারি সিলেটে গণটিকা নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যন্ত বিভাগে প্রথম ডোজের জন্য ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮১৮ জন রেজিস্ট্রেশন করে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫১ জন। এ পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ২২৩ জন। বিপরীতে ভায়াল মজুত আছে ৭ হাজার ৩৮৫টি। প্রতিটি ভায়ালে ১০টি করে ডোজ থাকে। সে হিসেবে মঙ্গলবার পর্যন্ত টিকা মজুতের পরিমাণ ৭৩ হাজার ৮৫০ ডোজ রয়েছে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা আরো বলেন, এখনো দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার বাকি আছেন এক লাখ ৮৫ হাজার ৪২৮ জন। আর নিবন্ধিতদের মধ্যে প্রথম ডোজ নেওয়ার বাকি রয়েছেন ৭৬ হাজার ১৬৭ জন। সে হিসেবে বিভাগে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে এখনো এক লাখ ৮৭ হাজার ৭৪৫ জন টিকা পাবেন। বিপরীতে টিকা আছে ৭৩ হাজার ৮৫০ ডোজ।
এবিষয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মন্ডল শ্যামল সিলেটকে বলেন, জেলায় মঙ্গলবার আরও ৩ হাজার ২৭০ জন টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। প্রথম ডোজ নিয়েছেন আরো ৩৮০ জন। ভ্যাকসিনের জন্য এক লাখ ৫১ হাজার ১৮১ জন টিকার জন্য নিবন্ধন করে প্রথম ডোজ নিয়েছেন এক লাখ ১২ হাজার ৮২ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৩৬ হাজার ৬৯৬ জন। বিপরীতে মঙ্গলবার পর্যন্ত দুই হাজার ১৫৪টি ভায়াল মজুত রয়েছে। এখনো ২১ হাজার ৫৪০ ডোজ নিতে পারবেন। যদি নতুন করে টিকা না আসে, সংকটেতো অবশ্যই পড়তে হবে। তবে কেউ প্রথম ডোজ নিয়ে দ্বিতীয় ডোজ না পেলেও শারিরিক কোনো সমস্যা হবে না। এক্ষেত্রে টিকা নিতে অপেক্ষমানরা বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম  বলেন, সিসিক এলাকায় টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৫৯ হাজার। এরমধ্যে দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ২৩ হাজার লোকজন। এখনো মজুত আছে ১৬ হাজার ডোজ। তবে আরো ২৫ হাজার ডোজ চেয়ে ঢাকায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে টিকার সংকট দেখা দিলেও যারা দ্বিতীয় টিকার জন্য অপেক্ষমান, তাদের ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই। আর কেউ প্রথম টিকা নিয়ে দ্বিতীয় নেননি, এ জন্য মানসিকভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হতে পারেন। তবে দ্বিতীয় টিকা সময়মতো কেউ না নিলেও কোনো ক্ষতি হবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারি পরিচালকের দায়িত্বে থাকা ডা. আনিসুর রহমানের দেওয়া তথ্যমতে, বিভাগের মধ্যে সিলেট ছাড়াও বিভাগের মধ্যে সুনামগঞ্জে ৭১ হাজার ১৯২ জন রেজিস্ট্রেশন করে ৬১ হাজার ২৬২ জনে প্রথম ডোজ এবং ২০ হাজার ৫৫ জনে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন। জেলায় মজুত আছে ২ হাজার ১৮০টি ভায়াল তথা ২১ হাজার ৮০০ টিকা পাবেন।
হবিগঞ্জ জেলায় ৭২ হাজার ২৩১ জন নিবন্ধন করে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৭ হাজার ৮০ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২৩ হাজার ২০৮ জন। জেলায় টিকা মজুত আছে এক হাজার ৭০৫টি ভায়াল। সে হিসেবে আরো ১৭ হাজার ৫০ জন ডোজ নিতে পারবেন।
এছাড়া মৌলভীবাজারে ৭৮ হাজার ২১৪ জন নিবন্ধন করে ৬৬ হাজার ২২৭ জন প্রথম ডোজ এবং ৩১ হাজার ৪৬৪ জন দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। জেলায় ভায়াল মজুত আছে এক হাজার ৩৪৬টি। সে হিসেবে ১৩ হাজার ৪৬০ জন ডোজ নিতে পাবেন।

0Shares