প্রবাসীর জায়গা দখলের চেষ্টা

সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে বিতর্কীত করছেন সুব্রত চক্রবর্তী

প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ::

সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে প্রবাসীর জায়গায় অবৈধভাবে সাইনবোর্ডের খুঁটি বসিয়ে সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে বিতর্কিত করছেন সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল। সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সীমানা অতিক্রম করে যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসিম আহমদের জায়গার খালি অংশে খুঁটি ও সাইনবোর্ড বসিয়ে দখল করার পায়তারা করছেন সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল।

বেশ কয়েকদিন থেকে তিনি নগরীর জিন্দাবাজারস্থ  মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পাশে থাকা নিজস্ব মালিকানাধীন যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসিম আহমদের জায়গায় অবৈধভাবে খুটি বসিয়ে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দখল করা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন মিলে এ কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়েছেন।

এর আগে বিগত ৮মাস পূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর চেষ্টা করেন প্রবাসী নাসিম আহমদের জায়গায়। পরে সিসিকের মেয়রের কাছে প্রবাসী নাসিম আহমদের জায়গার কাগজপত্র যাচাই-বাচাই শেষে কাগজপত্র সঠিক থাকায় মেয়র আরিফুল হক বৈঠকের মাধ্যমে সেখান থেকে নির্ধারিত স্থান ছেড়ে আরেকটু দূরে সরিয়ে নেন বিদ্যুতের খুঁটি।

এদিকে ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল জিন্দাবাজার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন সংলগ্ন কুমিল্লা জুয়েলার্সের নামের দোকানের উত্তর পাশের জায়গায় দেয়াল ঘেঁষে রাত ১টায় সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলসহ কতিপয় লোকজন প্রবাসী নাসিম আহমদের জায়গায় মুক্তিযোদ্ধা ভবনের সাইনবোর্ডের খুঁটি বসানো হয়।

এসময় খুঁটি বসানোর বিষয়টি জানতে পেরে নাসিম আহমদের ভাই ফারুকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে এসময় সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল ও তার সঙ্গীয় লোকজন কাজটি অসম্পূর্ণ রেখে চলে যান।

এসময় খুটি বসানোর বিষয়টি জানতে পেরে নাসিম আহমদের ভাই ফারুকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে এসময় সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল ও তার সঙ্গীয় লোকজন কাজটি অসম্পূর্ণ রেখে চলে যান।

পরে আবারো গত বুধবার (১২ই মে ২০২১ইং) তারিখে রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে পুনরায় সুব্রত চক্রবর্তী ও তার সঙ্গীয়রা এসে খুটিতে সাইনবোর্ড  বসিয়ে চলে যায়।

পরে সকালে এসে তিনি দেখতে পান খুঁটির উপরে সাইনবোর্ড টাঙ্গানো হয়েছে। এসময় ফারুকুল ইসলাম সুব্রত চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করে কথা বলতে চাইলে তাকে প্রাণে নাশেরও হুমকি দেন সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল।

এদিকে ফারুকুল ইসলাম জানান, সুব্রত চক্রবর্তীর সাথে যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসিম আহমদের ভাগ্নে সাংবাদিক পাপ্পু তালুকদার ও সিলেটের কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কাগজপত্র নিয়ে বৈঠক বসার আশ্বাস দেন। কিন্তু সুব্রত চক্রবর্তী বারবার তারিখ করেও বৈঠকে কাগজ নিয়ে না বসে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে তাকে মোবাইলে ফোন করলে তিনি আর ফোনকল রিসিভ করেন না। এমনকি অনেক সিনিয়র সাংবাদিকরা তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কারও ফোন রিসিভ করেন নি।

এ ব্যাপারে জায়গার মালিক যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসিম আহমদ জানান, আমরা যদি নিজ দেশে হয়রানির শিকার হই। তাহলে আমরা যাবো কোথায়? আমি একজন প্রবাসী এবং রেমিটেন্সযোদ্ধা। আমার জায়গার সব কাগজপত্র সঠিক থাকা স্বত্বেও অবৈধভাবে সাইনবোর্ডের খুঁটি বসিয়ে সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে বিতর্কিত করছেন সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করি। কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধার জন্য সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বিতর্কিত হতে পারে না।

এসব ভূমি খেকোদের কাছে থেকে রেহাই চাই। প্রবাসীদের সম্পদ নিরাপদ রাখার জন্য পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই।

তিনি আরো বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন প্রবাসীরা হচ্ছে দেশের রেমিটেন্সযোদ্ধা আর প্রবাসীরা এখন দেশে বিনিয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু এই প্রবাসীদের জায়গা-জমিতে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে জোরপূর্বক দখলের পায়তারা করছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। দিনদিন দেশের প্রতি প্রবাসীদের বিশ্বাস কমে যাচ্ছে। এ সকল খারাপ লোকদের জন্য নিজ দেশে আসতে বা বিনিয়োগ করতে ভয় পান প্রবাসীরা।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসিম আহমদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চান।

এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘আমরা অনেক আগ থাকি দেখরাম সিলেটো প্রথম স্বর্ণের দোকান আছিল মৃত সিরাজুল ইসলামের। তাইন খুব ভালো মানুষ আছলা। কোনদিনও তাইনর লগে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের ঝগড়া বা বিরোধ আছিল না। আমি আসলে কিতা কইতাম সুব্রত চক্রবর্তী যেতা কররা আমরাও ইতা ভালা ফাইনা। এখন যদি খুটি লইয়া মাতি তাইলে মাইর ওই যাইবো তার লগে।

তাইন কাজটা বালা করছইন না। আমরারেও কইছলা এখন টেম্পুরারী করছে। যখন পিলার দিয়া স্থায়ীভাবে গারবো ঔ সময় ইগু লইয়া মাতমু। ঔ সময় দেখমুনে কিতা করইন সুব্রতয়।’

এদিকে ফারুকুল ইসলাম নিজের যান মালের নিরাপত্তা চেয়ে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। যার জিডি নং ৮৫৫ তাং-১২-৫-২০২১ইং।

উল্লেখ্য, বিতর্কিত এ মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে জমি দখলসহ দুদকের মামলাও রয়েছে। এনিয়ে সিলেটের স্থানীয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এবং জাতীয় পত্রিকায়ও তার বিরুদ্ধে জমি দখল, গরুরহাট বাজার নিয়ে দুদকেও মামলা হয়েছে।

২০১৬ সালের নভেম্বরে তথ্য আহ্বান করলে সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযোগ উঠে। এরপর দুদক সিলেটের উপ-সহকারী পরিচালক রঞ্জিত কুমার সিংহ থাকাকালীন সময়ে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলেছিলেন, সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ দেয়া ১৩টি কম্পিউটার, কয়েদির মাঠে গরুর হাটের খাজনা বাবদ প্রাপ্ত টাকা আত্মসাতের অভিযোগসহ দুর্নীতির পাহাড় প্রমাণ অভিযোগ হয় তার বিরুদ্ধে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সাজার অভিযোগ রয়েছে দুদকের কাছে। এ সংক্রান্ত একটি মামলা রয়েছে কোতোয়ালি মডেল থানায়। মামলাও হয় যার নং -১, তারিখ ১/৯/২০১৬।

এসময় রঞ্জিত কুমার সিংহ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আত্মসাৎ ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণাদি হাজির করতে সহযোগিতা চেয়েছিল দুদুক। কিন্তু সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল কোনো সহযোগিতা করেননি। উপরন্তু তিনি দুদককে এড়িয়ে চলেন। এ কারণে অসহযোগিতা করায় দুদক আইনের ২০০৪ এর ১৯ (০৩) ধারায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এমনকি তিনি জেলও খেটেছিলেন।

 

 

 

0Shares