অনলাইন প্ল্যাটফরমেই কি ভরসা?

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ৯:১০ পূর্বাহ্ণ, মে ২৩, ২০২১

বিনোদন ডেস্ক::

দীর্ঘ সময় ধরেই দেশীয় চলচ্চিত্রের অবস্থা ভালো নয়। ব্যবসায়িক মন্দার কারণে দেশে একের পর এক সিনেমা হল বন্ধ হয়েছে। ১৪০০ হল থেকে দেশে এখন হল রয়েছে ১২০-১২৫টি। করোনার প্রাদুর্ভাবের আগেও মুক্তিপ্রাপ্ত বেশির ভাগ ছবিকেই লস গুনতে হয়েছে। হাতে গোনা যে ছবি সফলতার মুখ দেখেছে তার বেশির ভাগই শাকিব খানের। তারপরও প্রযোজক, পরিচালক থেকে শিল্পীরা আশায় ছিলেন অবস্থার উন্নতির। কিন্তু উন্নতিতো দূরের কথা, করোনা মহামারির কারণে চলচ্চিত্র পড়েছে ব্যাপক অনিশ্চয়তার মুখে। করোনা পরিস্থিতির মাঝে গত বছর ঈদে কোনো হলই খোলেনি।

প্রযোজকরা ছবি নিয়ে তৈরি থাকলেও মুক্তি দিতে পারেননি। আশা করা হয়েছিলো এ বছর চলচ্চিত্রের ক্ষতি ঈদে কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন প্রযোজকরা। কিন্তু হয়েছে তার উল্টো। এবার রোজার ঈদে লকডাউন চললেও হল বন্ধের নির্দেশনা আসেনি। ঈদে নতুন ছবি মুক্তি পেয়েছে একটি। ডিপজল প্রযোজিত ছবিটির নাম ‘সৌভাগ্য’। এর পাশাপাশি পাঁচটি পুরনো ছবি চালানো হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- বীর, পাসওয়ার্ড, প্রিয়া আমার জান, শাহেনশাহ্‌ ও বিশ্বসুন্দরী। ঈদে ঢাকাসহ সারা দেশে ১১৫টি প্রেক্ষাগৃহ খুলেছিল। তবে ঈদের দিন দর্শক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও ঈদের পরদিন থেকে একেবারে হাতেগোনা দর্শক উপস্থিতি ছিল। কোনো কোনো জায়গায় হল চালানোর খরচই উঠেনি। অথচ এই ঈদে অনেক বড় বাজেটের কিছু ছবি মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত ছবিগুলো মুক্তি দেননি পরিচালক-প্রযোজকরা। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে চলচ্চিত্রের অবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকবে- সেটা নিয়েই শঙ্কায় রয়েছেন তারা। এদিকে অনেক পরিচালক ও প্রযোজক ছবি মুক্তির মাধ্যম হিসেবে অনলাইনকে বড় বিকল্প হিসেবে মানছেন। পাশের দেশে এই ঈদে সালমান খানের ‘রাধে, দ্য মোস্ট ওয়ান্টেড ভাই’- হলের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফরমে মুক্তি পেয়েছে। সেই ছবি অনলাইনে আয়ের রেকর্ড গড়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে অনলাইন প্ল্যাটফরম থাকলেও সেভাবে জনপ্রিয়তা পায়নি এখনও। কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যাক দর্শকই কেবল অনলাইনে নাটক, ওয়েবসিরিজ কিংবা ছবি দেখছেন। এদিকে এবারের ঈদে আই থিয়েটার অ্যাপে ‘কসাই’- শীর্ষক ছবি মুক্তি দিয়েছেন পরিচালক অনন্য মামুন। এর আগে শাকিব খানের ‘নবাব এলএলবি’ ও তারিক আনাম খান অভিনীত ‘মেকআপ’- ছবিটিও মামুন মুক্তি দিয়েছেন একই প্ল্যাটফরমে। পর পর তিনটি ছবি মুক্তি দিয়েছেন অ্যাপে। এই মাধ্যমে কেমন দেখছেন ছবির ভবিষ্যৎ? এই প্ল্যাটফরম হলের বিকল্প হতে পারে কিনা? উত্তরে অনন্য মামুন বলেন, অবশ্যই হতে পারে। অনলাইন প্ল্যাটফরমের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। একটা গাছ থেকে ভালো ফল পাওয়ার জন্য পরিচর্যা দরকার। যেদিন গাছ লাগিয়েছি সেদিন থেকেই ফলের আশা করা যায় না। একটা গাইডলাইন নিয়ে এগিয়ে নিতে হবে এই প্ল্যাটফরমকে। হলে আমাদের আয় তলানিতে এসে  ঠেকেছিল। কিন্তু অনলাইনে একটি ছবি থেকে ২০ কোটিও আয় করা সম্ভব। আমরা ব্যক্তিগতভাবে ছবি মুক্তি দিয়ে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। আমাদের দেশে অ্যাপে ঢুকে টাকা খরচ করে সিনেমা দেখবে প্র্যাকটিস ছিল না। এই তিনটা ছবি দেখার জন্য দেড় লাখ দর্শক অ্যাপে ঢুকেছে, এটা অনেক বড় পাওয়া। মামুন যোগ করে আরো বলেন, করোনাকালে হলে গিয়ে মানুষ ছবি আগের মতো দেখবে না- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি কোনো ছবি বানিয়ে রেখে বছরের পর বছর ফেলে রাখতে চাই না। সময়েরটা সময়ে মুক্তি না দিলে সেটা পরিবেশন করে লাভ নেই। এদিকে জানা গেছে, এ প্রজন্মের বেশ ক’জন মেধাবি পরিচালক অনলাইন প্ল্যাটফরমে তাদের ছবি মুক্তির পরিকল্পনা করেছেন।

 

0Shares