সিলেটে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অ্যাকশনে আরিফ

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ৯:২২ পূর্বাহ্ণ, জুন ৪, ২০২১

ডায়ালসিলেট::অ্যাকশনে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছেন। বুধবার নগর ভবনে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের হামলার ঘটনার পর সিটি কাউন্সিলর নিয়ে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- নগরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে পারবে না। এদিকে, সিটি করপোরেশনে হামলার ঘটনায় ৩০০ জনকে আসামি করে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মধ্যরাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিলেটের প্যাডেল চালিত রিকশার বাইরে ব্যাটারিচালিত রিকশা অবৈধ ভাবে চলাচল করছে। সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল অনেক আগেই। এবার লকডাউন শিথিল হলে বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী কোটার নাম করে নগরে দেদারছে চলছিল ব্যাটারিচালিত রিকশা।

কয়েক দিন আগে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে কিছু সংখ্যক রিকশা আটক করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয় ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিকরা। বুধবার তারা নগর ভবন ঘেরাও করার সময় হামলাও চালায়। এ ঘটনায় সিলেটজুড়ে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ কেউ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের জন্য মেয়রকে দায়ী করেন। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন- সিলেটে ব্যাটারিচালিত রিকশা বিক্রির ডিলারদের লাইসেন্স প্রদান করে বিক্রির সুযোগ করে দিয়েছেন মেয়র। এদিকে বুধবারের ঘটনায় সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) জেলা সদস্য ও শ্রমিক ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রণব জ্যোতি পাল, বাসদ সিলেট জেলা সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক আবু জাফর ও জুবায়ের আহমদ চৌধুরী সহ আরও ২০০-৩০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়ের করা হলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সিটি করপোরেশনের পিআরও শাখা থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে- নগর ভবনে সেবা নিতে আসা এক নাগরিক সহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। সিসিক সংরক্ষিত কাউন্সিলর রেবেকা আক্তার লাকির স্বামী আব্দুল কাদের মালেকের মাথায় আঘাত লাগে। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হামলায় সিসিকের গেইটের ভেতরে রাখা ৫টি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার প্রেক্ষিতে সিলেট নগর ভবনে ডাকা বৈঠকে জানানো হয়- সিলেট মহানগরে ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা এবং টমটম চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হলেও গোপনে মহানগরে এসব বাহন চলাচল করে। যা বন্ধে সিলেট সিটি করপোরেশন বারবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশও করেছে। বৈঠকে সিসিকের প্রত্যেক ওয়ার্ড কাউন্সিলররা নিজ নিজ ওয়ার্ডে ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা ও টমটম সম্পূর্ণভাবে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে মতামত জানান। এ ছাড়া নগরের বৈধ রিকশা যাদের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তাদেরকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করতে সময় বেঁধে দেয়া হয়। পাশাপাশি নগরে ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা ও টমটম চলাচল বন্ধে অভিযান চলবে বলেও জানানো হয়। এদিকে, সিটি করপোরেশন কর্তৃক আটক ৫০টি ব্যাটারিচালিত রিকশা ছেড়ে দেয়ার দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে সিলেট সিটি করপোরেশন কর্মচারীদের হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট সিলেট জেলা শাখা। বিবৃতিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার আহ্বায়ক উজ্জ্বল রায়, বাসদ জেলা সমন্বয়ক আবু জাফর, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আনোয়ার হোসেন, সিপিবি জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাছান, বাসদ মার্কসবাদী সিলেট জেলার সদস্য এডভোকেট হুমায়ূন রশীদ সোয়েব, বাসদ জেলা সদস্য প্রণব জ্যোতি পাল এই নিন্দা জানান। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা বিক্ষোভ মিছিল করে সিটি পয়েন্টে বসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাইলে সিটি করপোরেশনের ভেতর থেকে লাঠিসোটা হাতে কর্মচারীরা অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে ভেতর থেকে ইট-পাথর মারলে শ্রমিকরাও পাল্টা ঢিল ছুড়ে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সিটি করপোরেশনের গেইট বন্ধ করে মধ্যখানে অবস্থান নেন। হেলমেট পরে সিটি করপোরেশন কর্মচারীরা বাঁশ, লাঠিসোটা ও দেশে তৈরি অস্ত্র নিয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা করে। হামলায় অনেক শ্রমিক আহত হন। নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক শ্রমিক স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ। করোনার কারণে এমনিতেই বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছে। সেখানে নিজের উদ্যোগে শ্রমিকরা ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার নকশা আধুনিকায়ন করা হোক যাতে যানবাহনটি নিরাপদ গতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং নীতিমালা প্রণয়ন করে লাইসেন্স প্রদান করা হোক।’

এ/

0Shares