নৌকার লড়াইয়ে ঢাকায় ব্যস্ত সিলেটের নেতারা

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ২:০৫ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২১

ডায়ালসিলেট ডেস্ক::

টানা তিনবারের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের মৃত্যুতে শূণ্য হওয়া সিলেট-৩ আসনের উপ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ১৪ জুলাই। গেল ২ জুন ঘোষণা করা হয়েছে নির্বাচনের তফশিল। তফশিল ঘোষণার পরই আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের শুরু হয়েছে ঢাকায় দৌঁড়ঝাঁপ। দলীয় মনোনয়নপত্র কেনার পাশাপাশি কেন্দ্রিয় নেতাদের সাথে দেখা সাক্ষাত ও তদবির-লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। ফলে উপনির্বাচনকে ঘিরে এখন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ঢাকায়।

বিএনপি অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য অনেকটা ফাঁকা মাঠই বলা যায়। আর দলীয় প্রতীক নৌকা পেলে সেই ফাঁকা মাঠে নিশ্চিত গোল দেয়া যাবে এমন আশায় এখন আর ঘরে বসে নেই কেউ। সবাই চাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন। এখন পর্যন্ত অন্তত দুইডজন নেতা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ভোটাররা কোনদিন নামই শুনেনি এমন মনোনয়ন প্রত্যাশীও রয়েছেন। বন্যা ও করোনার মতো দু:সময়েও এদের দেখা মিলেনি কখনো। কিন্তু ফাঁকা মাঠে গোল দিতে সবাই এখন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জনসমর্থন আদায় ও দলের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে তারা নির্বাচনী এলাকার তিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ করছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নামা এসব প্রার্থীদের অনেকে আবার ভোটারদের প্রশ্নবাণে বিব্রত হতেও হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে তারা হলেন- আওয়ামী লীগের তিনবারের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বিএমএ’র মহাসচিব ও সাবেক ছাত্রনেতা ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব ও প্রয়াত সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরী। এর মধ্যে এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বা ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল দলীয় মনোনয়নে সাংসদ নির্বাচিত হলে জাতীয় রাজনীতিতে তারা ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন সিলেটের মানুষ। এতে জাতীয় পর্যায়ে সিলেটের নেতৃত্বশূণ্যতা কিছুটা হলেও কমবে বলে ধারণা রাজনীতি সচেতন মহলের।

ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতির মাঠে পা রাখা এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ স্থানীয় আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে কেন্দ্রের তিনবারের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার খুনি খন্দকার মোশতাকের সিলেটের জনসভা পন্ডে নেতৃত্ব দেয়া মিসবাহ সিরাজ গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু দল আস্থা রাখেন ‘রানিং এমপি’ কয়েসের উপর। কয়েসের মৃত্যুতে শূণ্য হওয়া আসনে দলের একটি বড় অংশ দলীয় প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে চাইছে মিসবাহ সিরাজকে। তারা মনে করেন, মিসবাহ সিরাজ সাংসদ নির্বাচিত হলে আবারও জাতীয় রাজনীতিতে সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন। এ প্রসঙ্গে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে আমি রাজনীতি শুরু করেছি। এখন তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা অবিচল রেখে দল ও মানুষের জন্য কাজ করছি। এলাকার মানুষ আমার পক্ষে কাজ করছেন। তারা তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে দেখতে চাইছেন। এখন নেত্রী চাইলে আমি নির্বাচন করবো। দলের সিদ্ধান্তই আমার কাছে চূড়ান্ত।’
ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলালের বড় ভাই ইনামুল হক চৌধুরী বীরপ্রতিক ছিলেন দু’বারের সাংসদ। পারিবারিকভাবে এলাকায় রয়েছে তাদের সুখ্যাতি। ১৯৭৪-৭৫ সালে এমসি কলেজে পড়ালেখা অবস্থায় জড়িয়েছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। এরপর থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। পেশাগত জীবনে তিনি সিলেটের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে ভূমিকা পালন করেন। দুই সন্তানের জনক ডা. দুলালের ছেলে মেয়েরা প্রতিষ্ঠিত। তাই অবসর জীবন মানুষের সেবায় কাটিয়ে দিতে প্রার্থী হতে চান দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে। এলাকায় গণসংযোগে নেমে তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছেন। ভোটাররা মনে করেন, ডা. দুলাল সাংসদ নির্বাচিত হলে আগামীতে তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আসনে অধিষ্টিত হতে পারেন। এতে সিলেটের স্বাস্থ্যসেবা খাতের ব্যাপক উন্নয়ন হবে। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে এখন পর্যন্ত কখনো আদর্শচ্যূত হইনি। সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিই করে যাব। প্রায় সাড়ে তিনবছর আগে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। এখন আমার হাতে অফুরন্ত সময়। এই সময়টুকু মানুষের কল্যানে কাটাতে চাই। দলীয় অভিভাবক ও দেশের উন্নয়ন কান্ডারি শেখ হাসিনা চাইলে আমি তার উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সিলেট-৩ আসনের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।’

প্রায় একযুগ ধরে সিলেট-৩ আসনে জনসাধারণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব। গেল বন্যা ও করোনার সময় যখন দলের বড় বড় নেতা ঘরবন্দি তখন হাবিব এলাকার মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। গেল তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন না পেলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তিনি কাজ করেছেন। দু:সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকায় তিনি ইতোমধ্যে জনআস্থা তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন বলে স্থানীয় সচেতনমহল মনে করছেন। সাংসদ নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের সুখে-দু:খে তাকে পাওয়া যাবে- এমন বিশ্বাস স্থানীয়দের। নির্বাচন প্রসঙ্গে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘মানুষের জন্য রাজনীতি করি। দলীয় প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দু:সময়ে মানুষের পাশে ছিলাম। অতীতে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হলেও কখনো দলের সাথে বেঈমানি করিনি। দলের আদর্শে অবিচল থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। আশাকরছি এবার দল মূল্যায়ন করবে।’

এছাড়াও এ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন- যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার আওয়ামী লীগের সভাপতি এনাম উল ইসলাম, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ মুজিবুর রহমান জকন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল আলম রুহেল, সদস্য বদরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সদস্য শমসের জামাল, জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কফিল আহমদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আ স ম মিসবাহ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট দেওয়ান গৌস সুলতান, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মনির হোসাইন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাছিত টুটুল, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা শাখার সভাপতি সাইফুল আলম, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু জাহিদ ও বালাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুর রহমান মফুর। এ ছাড়া সিলেট-৩ আসনের বাইরের বাসিন্দা হলেও আসনটিতে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ইনাম আহমদ চৌধুরী ও সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

এ্/

0Shares