যুক্তরাষ্ট্রে ও চীন থেকে ৪৫ লাখ ডোজ টিকা পৌছেছে বাংলাদেশে

প্রকাশিত: ৬:০১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২১

ডায়ালসিলেট ডেস্ক ::  যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দুই কোম্পানির মোট ২৩ লাখ ডোজ টিকার পর আজ শনিবার আরও ২২ লাখ ডোজ বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। এর ফলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে এসেছে ৪৫ লাখ ডোজ কোভিড-১৯ টিকা।

শুক্রবার রাতে দুটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি মডার্নার তৈরি করোনাভাইরাসের ১৩ লাখ এবং সিনোফার্মের ১০ লাখ ডোজ টিকা দেশে পৌঁছায়। দেশে এই পর্যন্ত প্রায় ৪৩ লাখ ব্যক্তিকে টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে। ৪৫ লাখ ডোজ দিয়ে সাড়ে ২২ লাখ জনের টিকাদান হবে।

মোট ৪টি ফ্লাইটে শুক্রবার রাত, শনিবার ভোর এবং সকালে ৪৫ লাখ টিকা দেশের হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

চীন থেকে সিনোফার্মের যে দেড় কোটি ডোজ টিকা বাংলাদেশ কিনেছে, তার অংশ হিসেবে এসব টিকা এসেছে। আর মডার্নার টিকা বাংলাদেশ পেয়েছে টিকার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের আওতায় বিনামূল্যে।

টিকার দুটি চালান বুঝে নেওয়ার পর রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, টিকার সঙ্কটে দেশে গণ টিকাদান কর্মসূচিতে ছন্দপতন হয়েছিল। এসব টিকা আসায় গণটিকাদান কর্মসূচি আবারও গতি পাবে। “টিকাদান কার্যক্রম আমরা জোরেশোরেই শুরু করেছিলাম। টিকা না পাওয়ায় মাঝখানে কিছুদিনের জন্য টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এখন আমরা আনন্দের সাথে বলতে পারি, আগামীতে টিকার আর কোনো অভাব হবে না।”
আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশ বিভিন্ন উৎস থেকে ১০ কোটি ডোজ টিকা পাবে বলে আশাবাদী স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, আগামী বছরের প্রথম তিন মাসের মধ্যে বা তার পরে জনজন অ্যান্ড জনসন থেকে আরও সাত কোটি ডোজ টিকা পাওয়া যাবে।
টিকা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, গণ টিকাদান এবার ‘পুরোদমে’ শুরু হবে।

বিশ্বজুড়ে টিকা সরবরাহের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স এর আগে ফাইজারের তৈরি ১ লাখ ৬২০ ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা দিয়েছে বাংলাদেশকে, যা ৩১ মে দেশে পৌঁছায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস বা গ্যাভি এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের গড়া প্ল্যাটফর্ম হলো কোভ্যাক্স, যা বিশ্বের সব মানুষের সংক্রামক রোগের প্রতিষেধক পাওয়া নিশ্চিত করতে গড়ে তোলা হয়েছে।

মডার্নার টিকা আসার ঘণ্টা দেড়েক পর বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে চীন থেকে কেনা সিনোফার্মের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকার ১০ লাখ ডোজ ঢাকায় পৌঁছায়। এ মাসে সিনোফার্মের ২০ লাখ ডোজ টিকাই পাচ্ছে বাংলাদেশ।আগামী মাসে আরও বেশি টিকা আসবে বলে আমরা আশা করছি। সেটা ৩৫ থেকে ৪০ লাখ ডোজ হতে পারে।”

এর আগে চীনের উপহার হিসেবে গত ১২ মে ৫ লাখ ডোজ এবং ১৩ জুন ৬ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা ঢাকা পৌঁছায়। এবারের টিকা এসেছে সরকারের সঙ্গে টিকা কেনা চুক্তির আওতায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গত ২৫ মে জানিয়েছিলেন চীন থেকে দেড় কোটি ডোজ টিকা কেনা হবে।
দুদিন পর ২৭ মে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সিনোফার্মের প্রতি ডোজ ১০ ডলার দরে দেড় কোটি ডোজ টিকা কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় সরকার।

দুই মাসের বেশি সময় পর বৃহস্পতিবার চীনা কোম্পানি সিনোফার্ম ও যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজারের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে সারা দেশে এরই মধ্যে নতুন করে গণ টিকাদান শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকায় সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হচ্ছে ৪০টি কেন্দ্রে। আর ফাইজারের টিকা দেওয়া হচ্ছে সাতটি কেন্দ্রে।

সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে এ পর্যন্ত ১ কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। যারা প্রথম ডোজ পেয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার মতো টিকা না থাকায় অন্য উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় সরকার।

0Shares