আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ বাগরাম ঘাটি ছাড়লো যুক্তরাষ্ট্র

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::২০ বছর পর আফগানিস্তানের বাগরাম বিমান ঘাটি ছাড়ল মার্কিন সেনারা। এই ঘাটিই ছিল তালেবানের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধের কেন্দ্র। এখান থেকেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়দার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার সঙ্গে জড়িত জঙ্গিদেরও এই ঘাটি থেকেই বিভিন্ন অভিযানে হত্যা করা হয়েছে। তবে আফগানিস্তানে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে অনাগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র গত বছর তালেবানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেই চুক্তির অধীনে দেশটি ছেড়ে গেছে বেশিরভাগ মার্কিন সেনা। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সকল সেনার প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। বাগরাম বিমান ঘাটি ছাড়ার আগে এটিকে আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে যুক্তরাষ্ট্র।

এক সময় এই ঘাটি ১ লাখেরও বেশি মার্কিন সেনার চলাচল দেখেছে।

এটি আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাটিটি আফগান সরকারের কাছে হস্তান্তরের করার কথা রয়েছে। এই ঘাটি ছাড়ার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেলো, মার্কিন সেনারা এবার একেবারেই আফগানিস্তান ছাড়ছে। তবে কাবুলের কাছ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার আফগানিস্তানের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। উগ্রবাদী গোষ্ঠী তালেবান আফগানিস্তানের বিভিন্ন অংশ দখল করে নিচ্ছে। মার্কিন সেনাদের আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়াটাকে তারা বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। ফলে তারা রাজধানী কাবুল দখলে অগ্রসর হচ্ছে বিভিন্ন দিক থেকে।

এখনো আফগানিস্তানে ২৫০০ থেকে ৩৫০০ মার্কিন সেনা রয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে প্রায় ৭ হাজার সেনা দেশটি ছেড়েছে। প্রায় এক হাজারের মতো মার্কিন সেনা দেশটিতে থেকে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাকিরা ১১ সেপ্টেম্বরের আগেই আফগানিস্তান ছাড়ছে। ন্যাটোর অন্যান্য সেনাদের বেশিরভাগই এরইমধ্যে আফগানিস্তান ছেড়ে গেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালের দিকে আফগানিস্তানে অভিযান চালায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। সেসময় দেশটি এই বাগরাম ঘাঁটি নির্মাণ করেছিল। যে গ্রামে এটি অবস্থিত তার নামেই ঘাঁটিটির নামকরণ করা হয়। ২০০১ সালের ডিসেম্বর মার্কিন সেনাদের নিয়ন্ত্রণে আসে এ ঘাটি। এরপর থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। ঘাঁটিটির দুটি রানওয়ের প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৩.৬ কিলোমিটার। এখানে বড় কার্গো এবং বোমারু বিমান নামতে পারে। ১১০টি বিমান রাখার স্থানও রয়েছে এখানে। এগুলো সুরক্ষিত রাখতে নির্মাণ করা হয়েছে বিস্ফোরণ প্রতিরোধী দেয়াল। রয়েছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল, তিনটি অপারেশন থিয়েটার এবং একটি আধুনিক ডেন্টাল ক্লিনিকও।

ডায়াল

0Shares