আপনার কিডনী সুস্থ রাখতে যা যা করণীয়

প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২১

আপনার কিডনী সুস্থ রাখতে যা যা করণীয়

ষ্টাফ রিপোর্টার :: শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন আপনার কিডনিকে সুস্থ রাখা। আর কিডনী ঠিক থাকলে শরীরে হরমোন ব্যালান্স ঠিক থাকে। যা মানবদেহের ছাকনির কাজ করে এই অঙ্গ।সেজন্যে এটি সুস্থ রাখা বিশেষ প্রয়োজন। কিডনি রোগীদের প্রধান অংশই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। অনিয়ন্ত্রিত ও দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস কিডনি বিকলের অন্যতম কারণ।

কারণে ও উচ্চ রক্তচাপ হয়ে থাকে। ফলে এমনটি সম্ভব যে উচ্চ রক্তচাপের কারণ খুঁজতে গিয়ে অন্তর্নিহিত কিডনির আরেকটি রোগ ধরা পড়ল। যেকোনো ক্রনিক রোগ শুরুতে ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে লড়াই সহজ হয়। তার মানে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, যেমন যাদের ডায়াবেটিস আছে, উচ্চ রক্তচাপ আছে, পরিবারে কিডনি রোগ আছে, কিডনিতে পাথর আছে, প্রোস্টেটের সমস্যা আছে বা বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ হয়, তাদের নিয়মিত কিডনির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

 

কিডনী সুস্থ রাখতে কী কী করণীয়? সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন। কিডনির নিজস্ব কিছু রোগ, যেমন গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস, পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজের । খাবারে প্রচুর পরিমান শাকসবজি রাখুন। চর্বিজাতীয় খাবার পরিহার করুন ও কম লবণে রান্না করুন। সুষম খাদ্যাভ্যাস সবচেয়ে ভালো। মানে শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজের সুষম অনুপাত যেন থাকে।

১. শরীরের যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করা। সেজন্য দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান স্বাভাবিক বলে পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের, যাতে মূত্রের রং হালকা হলুদ বা রঙহীন হয়। তাই শরীরের হাইড্রেটেড রাখা প্রয়োজন।
২. কিডনি ভালো রাখতে ডায়েটও রাখা দরকার । ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ কিডনির অসুখ ডেকে আনার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই স্বাস্থ্যকর এবং কম সোডিয়াম যুক্ত, কম কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার খাওয়া বাঞ্ছনীয়।

৩. কিডনী ভাল রাখতে শরীরচর্চার কোনও বিকল্প নেই। তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। ফলে ওজন, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে।

৪. রক্তের ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো বের করে দিয়ে ছাকনির কাজ করে কিডনি। অ্যালকোহল, ওষুধ ইত্যাদির ক্ষেত্রেও ছাকনির কাজ করে কিডনি। তাই প্রয়োজনের বেশি ওষুধ খাবেন না। অ্যালকোহল জাতীয় খাবার থেকে বিরত থাকুন।

৫. প্রত্যেকের শরীরের আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে। তাই অনেকের কিডনির রোগের সম্ভাবনাও বেশি থাকে। যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এগুলো থাকলে কিডনির ঝুঁকি থাকে। সেক্ষেত্রে যারা বেশি ধূমপান বা মদ্যপান করেন তাদের হার্টের অসুখ বা ওবেসিটির শিকার তাদের এই সমস্যা হয়।

৬. কিডনির অসুখ একটি নীরব ঘাতকের মতো এটি কাজ করে। এই রোগ সহজে বোঝা যায় না। কোন উপসর্গ বোঝার আগে কিডনির ৯০ শতাংশ আগেই খারাপ হয়ে যায়। তাই আগে থেকেই কিডনির ব্যাপারে সচেতন থাকা প্রয়োজন আমাদের সকলের। রক্তের শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। সুগার বা রক্তচাপ একটু বেশি থাকলেও তেমন কোনো শারীরিক সমস্যা হচ্ছে না বলে অনেকে একে পাত্তা দিতে চান না। কিন্তু এগুলো নীরবে আপনার কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে থাকবে। যখন সমস্যা হবে, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

0Shares