নিজেকে পরিপূর্ণ না ভাবলেও প্রস্তুত মেহেদী

প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২১

নিজেকে পরিপূর্ণ না ভাবলেও প্রস্তুত মেহেদী

স্পোর্টস ডেস্ক::মেহেদী! নাকি শেখ মাহেদী হাসান! ইংরেজী ও বাংলা বানানের পার্থক্যের কারণে দারুণ ‘নাম’ বিভ্রাটে টাইগারদের তরুণ অলরাউন্ডার। তবে খুব একটা চিন্তিত নয়, জানিয়ে দিলেন দিন শেষে তার নাম মেহেদী হলেও মাহেদীতে তার কিছু আসে যায় না। তার এখন ক্রিকেটটাই বড় পরিচয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-১ সিরিজ জয়ে এই অফস্পিন অলরাউন্ডারের দারুণ ভূমিকা ছিল। এবার আছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও। কিন্তু নিজের পা রেখেছেন মাটিতে, কোনোভাবেই এখনো নিজেকে পারফ্যাক্ট বা পরিপূর্ণ ভাবতে রাজি নয়। কারণ যেতে হবে বহুদূর।  তিনি বলেন, ‘আমি এখনো কোনো কিছুতেই পরিপূর্ণ না। আমার দক্ষতায় আরও অনেক উন্নতি করতে হবে, ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিন বিভাগেই। আমার উন্নতির আরও অনেক জায়গা আছে। দেশের মাটিতে এবং বিদেশের মাটিতে-সব জায়গায় উন্নতি করতে হবে। উন্নতির কোনো শেষ নেই। জীবনে যতদিন ক্রিকেট খেলতে হবে অবশ্যই শিখতে হবে। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু আনতে হবে।’
খুলনা বিভাগের এই ক্রিকেটারের দেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০১৮তে। তবে নিয়মিত হতে পারেননি দলে। গেল তিন বছরে ১৪ ম্যাচ খেলেছেন। ১১ ইনিংসে ব্যাট করে ১৩.২২ গড়ে করেছেন ১১৯ রান। ব্যাট থেকে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস মাত্র ২২ রানের। এমন ব্যাটিং গড় নিয়ে দলে জায়গা করে নেয়া খুব কঠিন। অন্যদিকে বল হাতে ১৪ ম্যাচে শিকার ১০ উইকেট। বলা যায় তার অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে সুযোগ হচ্ছে জাতীয় দলে খেলার। জিম্বাবুয়ে সিরিজে একাদশে জায়গা হলেও ছিলেন ব্যর্থ। তবে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার জন্য উপস্থিত হয়েছে ভয়ঙ্কর হয়ে। ব্যাটে-বলে রেখেছেন দারুণ অবদান। ৫ ম্যাচে সিরিজে প্রথম অজিদের প্রথম উইকেটটি মেহেদী তুলে নেন। তাই বলার অপেক্ষা রাখে না এই সিরিজটি তার জন্য হয়ে এসেছে ক্যারিয়ারে টার্নিং পয়েন্টের মতো। তবে এই সব নিয়ে তাকে খুব চিন্তিত মনে হয় না। এ বিষয়ে মেহেদী বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সিরিজ আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট কিনা বলতে পারবো না। প্রতিটি খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারেই টার্নিং পয়েন্ট থাকে। আমি বুঝিনি এখনো আমার টার্নিং পয়েন্ট কোনটা। তবে একটি বড় দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস অনেক বৃদ্ধি পায়। আমারও লক্ষ্য থাকে সুযোগ পেলেই নিজের সেরাটা দেয়ার।’
জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুটি ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার। কিন্তু ব্যাটে বলে ব্যর্থ হন। তাই ধারণা করা হচ্ছিল দল তাকে হয়তো সুযোগ দিবে না। তবে দেশে ফিরে তার ওপর আস্থা রাখে টিম ম্যানেজমেন্ট। খেলার সুযোগ হয় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। দুই সিরিজে পারফরম্যান্স তার পারফরম্যান্সটাও স্পষ্ট। এ বিষয়ে মেহেদী বলেন, ‘জিম্বাবুয়ে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বোলিং পার্থক্য অবশ্যই আছে। প্রত্যেকটা উইকেটই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটা উইকেটই আনন্দের, অস্ট্রেলিয়া কিংবা জিম্বাবুয়ে বা অন্য দল যাই হোক। প্রতিটা উইকেট পেতে বোলারকে অনেক কষ্ট করতে হয়।’
মেহেদীর অভিষেক ম্যাচের পরে ছিল লম্বা একটি বিরতি। তবে এখন আবার টি-টোয়েন্টি দলের নিয়মিত মুখ তিনি। সামনেই বিশ্বকাপ খেলার হাতছানি। তবে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিতে হলে যে, তার আগে ভালো পারফর্ম করে দলে জায়গা পোক্ত করে নিতে হবে সেটি ভালোই জানেন তিনি। প্রতিটি খেলোয়াড়ের মতোই বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন আছে মেহেদীরও। আর সেই জন্য আসন্ন ম্যাচগুলোতে ভালো খেলার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। মেহেদী বলেন, ‘অবশ্যই বিশ্বকাপ খেলার চিন্তা মাথায় থাকে। প্রত্যেকটা ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপ খেলার। আমার আগামী সিরিজটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই সিরিজটা আমি কীভাবে ভালো খেলবো সেই চিন্তা আগে থাকে। তারপর অবশ্যই বিশ্বকাপের জন্য আশা করবো। চেষ্টা থাকবে সবসময়। সামনের সিরিজগুলোতে যদি আলহামদুলিল্লাহ ভালোভাবে পারফরম্যান্স করতে পারি আশা করতে পারি বিশ্বকাপ নিয়ে।’ তবে নিউজল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ মেহেদীর জন্য বিশ্বকাপ পরীক্ষার মতোই। যদি এই সিরিজেও নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন তবেই মিলবে অক্টোবরে-নভেম্বরে দুবাইয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ অবশ্য আগেই জানিয়েছেন বিশ্বকাপের আসরে তার বড় শক্তি দলের অলরাউন্ডাররা। তাই মেহেদীকে কিউইদের বিপক্ষে নিজের সেরাটাই দিতে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ডায়ালসিলেট এম/

0Shares