সিলেটেও ৭ সেপ্টেম্বর গণটিকা ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় ডোজ শুরু

প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২১

সিলেটেও ৭ সেপ্টেম্বর গণটিকা ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় ডোজ শুরু

 ডায়ালসিলেট  ডেস্ক: সিলেটসহ সারাদেশে গণটিকা ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় ডোজের টিকাদান শুরু হচ্ছে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর। এই কদিনে আরও টিকা আসবে। দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করতে কোনো সমস্যা হবে না।বুধবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রবাসীদের দেওয়া ভেন্টিলেটর বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মুহাম্মদ খুরশীদ আলম এসব কথা বলেন, পরিচালক বলেন, `চলতি মাসের শেষের দিকে কিংবা আগামী মাসের প্রথমে ৫০ লাখ সিনোফার্মের টিকা আসবে। একই সঙ্গে ফাইজারের টিকাও আসবে ১০ লাখ। আমাদের হাতে সিনোফার্মের এখনো ৩৫ লাখের মতো টিকা রয়েছে। এই টিকা দিয়ে আমরা ক্যাম্পেইন ভ্যাকসিনেশনের দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করব।’খুরশীদ আলম বলেন, `আমরা আশা করছি, যাঁদের প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে তাঁদের প্রত্যেককে দ্বিতীয় ডোজ নিশ্চিত করা যাবে। কিছু কিছু দেশ মডার্না ও ফাইজার চাইছে, এটা এখন দেওয়া সম্ভব নয়। ৬০ লাখ ফাইজার আসবে।’

এসএমএস ছাড়া গণটিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, `এ বিষয়ে আজ একটি বৈঠক আছে। বৈঠক শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হবে। টিকা কার্যক্রমকে একেবারে গণটিকা না, ক্যাম্পেইন ভ্যাক্সিনেসন বলতে পারি। পরীক্ষামূলকভাবে আমরা এটি বাস্তবায়ন করেছিলাম। আমাদের সক্ষমতা যাচাই করা এবং আমরা দিতে পারি কি না, সেটা যাচাইয়ের জন্য। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, চেষ্টার ত্রুটি ছিল না।’ দু-চার জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ক্যাম্পেইন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নমুনা পরীক্ষার জট কমাতে আরটি-পিসিআর মেশিন কেনার চেষ্টা চলছে। রোগীদের ভোগান্তি নিরসনে হাসপাতালগুলোকে অ্যান্টিজেন ও জিন এক্সপার্ট পদ্ধতিতে নমুনা পরীক্ষা করাতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য মহাপরিচালক এ বি এম খুরশীদ আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের মহাপরিচালক আবু হেনা মোরশেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতালবিষয়ক পরিচালক ফরিদ উদ্দিন মিয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রবাসী বাংলাদেশের উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ৫৬১টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে ৩০০টি এখন বিতরণের ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। করোনা রোগীর সেবা দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় কোভিড ডেডিকেটেড ডিএনসিসি হাসপাতালের পরিচালক নাসির উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক ডা. খলিলুর রহমান ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পরিচালকের হাতে ভেন্টিলেটরগুলো হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ বি এম আবদুল্লাহ ভেন্টিলেটরগুলো তাঁদের হাতে তুলে দেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাঠানো দুই চালানে মোট ৫৬২টি পোর্টেবল আইসিইউ ভেন্টিলেটর আসে।

ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, এগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা চার চিকিৎসক নেফ্রোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ সাদেক, কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মাসুদুল হাসান, জাতিসংঘের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ উস শামস চৌধুরী, কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. চৌধুরী হাফিজ আহসান ও কানাডায় বসবাস করা চিকিৎসক আরিফুর রহমানের তত্ত্বাবধানে পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ভেন্টিলেটর আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক বলেন, দেশে করোনার সংক্রমণ কমাতে বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা কিনছে সরকার। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো বিনা মূল্যে টিকা দিয়ে যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে সংকট রয়েছে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সহায়তার।

ডায়ালসিলেট এম/

0Shares