আফগানিস্তান: যে কথা পুতিন-শি জিনপিংয়ের, তালেবানদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান মারকেলের

প্রকাশিত: ৪:০৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২১

আফগানিস্তান: যে কথা পুতিন-শি জিনপিংয়ের, তালেবানদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান মারকেলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক;:আফগানিস্তানে ‘হুমকি’র বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াই করতে একমত হয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আফগানিস্তানে দু’দশক ধরে যে উন্নতি করা হয়েছে, তাকে সুরক্ষিত রাখতে হলে তালেবানদের সঙ্গে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্ত হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল। বুধবার পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যে কথা হয়। একই দিন পুতিন ফোন করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। এ সময়ও তিনি আফগানিস্তানের সঙ্কট সমাধানের ওপর জোর দেন। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে। ক্রেমলিনের দেয়া তথ্যমতে, আফগানিস্তান থেকে যে সন্ত্রাসের হুমকি আসছে, মাদক পাচার হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াই করতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জোর দিয়ে বলেছেন রাশিয়া ও চীনের নেতা। এ ছাড়া তারা আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব আরোপ করে, সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে প্রতিবেশীদের মধ্যে অস্থিতিশীলতার বিস্তার প্রতিরোধের কথাও বলেছেন তারা। তারা দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ আরো তীব্র করতে একমত হয়েছেন। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনকে অধিক কার্যকর করার কথা বলেছেন। আগামী মাসে এর সম্মেলন হওয়ার কথা তাজিকিস্তানে। উল্লেখ্য, মধ্য এশিয়ায় সাবেক বেশ কিছু সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের সীমান্ত রয়েছে আফগানিস্তান ও চীনের সঙ্গে। কাবুলে নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে মস্কো সতর্ক আছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের কোনো মিলিট্যান্ট যাতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক পুতিন। তবে তিনি আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের দেশগুলোর জড়িত হওয়ার বিষয়ে সমালোচনা করেছেন । বলেছেন, আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়ন এক দশক ধরে আগ্রাসন চালিয়েছিল। তা থেকে মস্কো শিক্ষা নিয়েছে। ওদিকে গত ১৫ই আগস্ট তালেবানরা রাষ্ট্রক্ষমতা কেড়ে নেয়ার পর চীন বলেছে, তারা আফগানিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গভীর করতে প্রস্তুত। চীনা মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, জি-৭ নেতারা বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের সর্বশেষ সময়সীমা ৩১ শে আগস্টের পরেও বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু এই দুই নেতার মধ্যে সেই কথার প্রতিধ্বনি শোনা যায়নি। রাশিয়া ও চীন জি-৭ এর অংশ নয়। জি-৭ হলো ধনী গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সংগঠন। এতে আছে যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেনের মতো দেশ। পুতিনের সঙ্গে ফোনে শি জিনপিং আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ না করার চীনা অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা রাখে চীন। চীনের এই অবস্থানের সঙ্গে পুতিনও একমত পোষণ করেন। আফগানিস্তানের স্বার্থে তিনি চীনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, যাতে আফগানিস্তানে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করা যায়। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সব পক্ষের প্রতি আফগানিস্তানে একটি মুক্ত, সবার রাজনৈতিক অংশগ্রহণমূলক, উদার, স্থিতিশীল নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান। পুতিন বলেন, চীন সন্ত্রাস ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে যে লড়াই করছে, তার সঙ্গে কাজ করতে চায় রাশিয়া। ওদিকে পার্লামেন্টে আফগানিস্তান ইস্যুতে বক্তব্য রেখেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল। তিনি বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত গত ২০ বছরে আমরা আফগানিস্তানে যে পরিবর্তন আনতে পেরেছি, তা যতটা সম্ভব সংরক্ষণ করা। এ নিয়ে তালেবানদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।

ডায়ালসিলেট এম/

0Shares