প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দুটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ জনে উন্নীত হয়েছে বলে জানাচ্ছে বিবিসি। কাবুলের স্বাস্থ্য বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসি আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ১৪০ জন আহত হয়েছেন। পেন্টাগনের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১০ জন মার্কিন সেনা রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দুইটি শক্তিশালী আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। কাবুলের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে তালেবানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও আফগান সাংবাদিকদের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, কাবুল বিমানবন্দরের কাছে মানুষের এক জটলায় ১২ জনের মৃতদেহ পড়ে আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের পাশে একটি জলাভূমিতে মরদেহের স্তুপ পড়ে আছে। সেখান থেকে কজনের মৃতদেহ বের করে নিয়ে আসা হচ্ছে। স্বজনের মৃতদেহের সন্ধানে কাবুল বিমানবন্দরে জড়ো হওয়া মানুষের গগনবিদারী আহাজারিতে সেখানে এক মর্মন্তুদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভয়াবহ সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আফগান ‍পুরকৌশলী জুবায়ের রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি আমার এক কাজিনের সঙ্গে বিমানবন্দরের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আমেরিকাগামী বিমানে উঠব… ঠিক এমন সময় আমার ঠিক ৫০ মিটার সামনে এক ব্যক্তিকে দেখলাম দৌঁড়ে যেতে। তারপর তিনি আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। এরপর চারিদিকে শুধু লাশ। এখানে ওখানে পড়ে আছে মানুষের মৃতদেহ। কোথাও নারী, কোথাও পুরুষ আবার কোথাও শিশুর ছিন্নভিন্ন দেহ। কয়েকটা প্রাইভেটকারে করে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই নারকীয় দৃশ্য সহজে ভোলার নয়।’ এদিকে তালেবান সদস্য সুহেইল শাহীন এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা অবশ্যই দোষীকে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসব।’ বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি টুইটার বার্তায় জানান, কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাবি গেইটের পাশে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলার কথা জানান। কাবুলের বিভিন্ন স্পট থেকে যাত্রী নিয়ে এসে বাসগুলো এখানেই দাঁড়ায়। এর একটু পরেই আফগানিস্তানের স্থানীয় সংবাদদাতাদের মাধ্যমে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কাবুল বিমানবন্দরের খুব কাছে ব্যারন হোটেলের গেইটেও বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। হোটেলের গেইটে বেশকয়েজনকে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা গেছে বলে একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে। পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনায় ইসলামিক স্টেট খোসারানকে (আইসিস-কে) দায়ী করছে, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের বিরোধিতা করছে। কাবুলে ইতালির একটি দাতব্য হাসপাতালের কর্মীরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালে রাত ১০টা পর্যন্ত ৬৪জন গুরুতর জখম নিয়ে এসেছেন। আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যখন তার নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন, তখনই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। কাবুলের পতনের পর থেকে জীবন বাঁচাতে আফগানিস্তান ছেড়ে যাচ্ছেন বিদেশি ও আফগানরা। দেশত্যাগে তারা ব্যবহার করছেন হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ সামরিক ও বেসমারিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। কানাডা ও জার্মানিসহ বেশকয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে দেশটি থেকে সব সেনা ও কর্মকর্তা প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে। তবে এখনও হাজারো মানুষ আফগানিস্তান থেকে চলে যেতে ভিড় করছেন কাবুল বিমানবন্দরে। বোমা হামলার পর তাদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম কোন দিকে যাবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

ডায়ালসিলেট এম/

0Shares