সিলেট মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি

প্রকাশিত: ৯:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১

সিলেট মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি

সোহেল আহমদ পাপ্পু :: র্দীঘ ৫ বছর পর সিলেটে মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে একটি সূত্রে জানা যায়।

যখন মহানগর বিএনপির কমিটি আসার গুঞ্জন শুনা যায় তখন থেকেই শুরু হয় সিলেটে নেতাকর্মীদের মধ্যে দৌড়ঝাপ। আবার সিলেটের অনেক শীর্ষ নেতারা তাদের মন মতো প্রার্থী বাছাই করতে কেন্দ্রে শুরু করেন লবিং কার্যক্রম। দলে স্থান পেতে অনেক নেতারাই এনিয়ে গুনছেন অপেক্ষার প্রহর।

এরই মধ্যে বেশকিছু নেতাকর্মীরা নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে নিজেদের পছন্দমত নেতাদের নির্বাচিত করে কেন্দ্রে সুপাশির করছেন। বিগতদিনে সিলেটে দেখা গেছে দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে বিএনপি নেতৃত্ব অনেকটাই শূন্যতাও রয়েছে।

এরআগে গত ২০১৯ সালের সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি এবং চলতি বছরের আগষ্ট মাসের শেষের দিকে সিলেট জেলা ও মহানগর সেচ্ছাসেবক দল থেকে অনেক দক্ষ ও পরীক্ষিত নেতারা বাদ পড়ায় গণহারে পদত্যাগ করেন শতশত নেতাকর্মীরা। দলের নেতাকর্মীদের ক্ষোভ বিগতদিনের আন্দোলন সংগ্রামে বিভিন্ন হামলা মামলায় জর্জরিত হয়েছে অনেকে জেলও খেটেছেন। তারপরও সেই ত্যাগী নেতাকর্মীরা তাদের সঠিক মূল্যায়ন না পাওয়ায় পদত্যাগপত্র কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন বলে সেইসকল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে।

তবে ক্ষমতায় দলটি না থাকায় এবং সিলেটে বিএনপি দল হিসেবে নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারে দ্বন্দের কারণে সিলেটে বিএনপির অস্থিত্ব নিয়েও টান দিচ্ছে।

এদিকে, সিলেট মহানগর আহবায়ক কমিটিতে সিলেটে বিএনপির শীর্ষ নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করেছে। তবে নানা জল্পনা-কল্পনা অবসান ঘটিয়ে মহানগর বিএনপিতে এবার আহবায়ক হিসেবে অনেক নেতাকর্মীদের নাম শুনা গেলেও তারা নিজেরা পদ-পদবী পাওয়ার বিষয়ে অনেকে মুখ খুলছেন না।

এবারের সিলেট মহানগর কমিটিতে আহবায়ক প্রার্থী হিসেবে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংঙ্কী, ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, ।

অন্যদিকে সদস্য সচিব পদে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন হুমায়ুন কবির শাহীন, ইমদাদ হোসেন চৌধুরী রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ফরহাদ চৌধুরী শামিম, জিয়াউল গনি আরেফিন জিল্লুর এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী।

একটি সূত্রে জানা যায়, বিগত প্রায় ১৬ দিন পূর্বে হাইকমান্ড থেকে কমিটি নির্ধারণ করা হলেও কেন্দ্রে এসে আটকে পড়েছে সিলেট মহান গর বিএনপির কমিটি। তবে সিলেট মহানগর বিএনপি আহবায়ক হিসেবে ডা. শাহরিয়ার হোসেন  নামের আগে  সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকীর নাম আসছে বেশী অন্যদিকে, সদস্য সচিব পদে ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, ফরহাদ চৌধুরী শামিম ও রেজাউল হাসান কয়েস লোদী থেকে মিফতাহ সিদ্দীকি’র নাম শুনা যাচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মুখে।

এদিকে কমিটিতে আহবায়কের প্রার্থীর বিষয় নিয়ে কোন বাধা না থাকলেও সদস্য সচিব পদ নিয়ে আহবায়ক কমিটি আটকে রয়েছে বলে গোপন সূত্রে জানা যায়। তবে সিলেটের এক শীর্ষ নেতা তার পছন্দের প্রার্থী হিসেবে সদস্য সচিব পদে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে অতিশীঘ্রই কমিটি আসছে বলে জানিয়েছে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতারা।

সবশেষ আগামী দিনে সিলেট মহানগর বিএনপি নেতৃত্ব কতটুকু শক্তিশালী দল গঠনে ভূমিকা পালন করবে তা নেতৃবৃন্দরা তাদের কার্যক্রমে প্রমাণ মিলবে।

সিলেট মহানগর বিএনপি আহবায়ক কমিটির কেমন হবে সে বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী ডায়ালসিলেটকে বলেন, বিএনপি হচ্ছে একটি শক্তিশালী দল। সে হিসেবে বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাড়াতে হবে। তারা তাদের ইচ্ছামত যেমনি খুশি তেমনিভাবে অবৈধভাবে নির্বাচনের নাম লাগিয়ে ভোট চুরির মাধ্যমে অবৈধভাবে দেশ পরিচালনা করছে। তাই এদের প্রতিহত করতে বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে আগামীতে যেন অবৈধভাবে সরকার গঠন করতে না পারে সেজন্য দেশের বিভিন্ন বিভাগে জেলা ও মহানগর কমিটির মাধ্যমে দলকে আরো শক্তিশালী করে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সকলকে সামনের দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

বিএনপি সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করতে এবং জনগনের অধিকার আদায়ে আগামীতে যারা আহবায়ক কমিটিতে আসবেন আশাকরি তারা সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে দলকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বিএনপি একটি বড় দল আমি আশা রাখি মহানগর বিএনপি আহবায়ক কমিটিতে যেই মনোনীত হোন না কেন তাকে আমরা স্বাদরে আমন্ত্রণ জানাবো এবং আমরা সকলেই একে অন্যের পরিপূরক। তাই দলকে শক্তিশালী করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে।

এব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপি আহবায়ক কমিটি বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী ডায়ালসিলেটকে বলেন, সিলেট মহানগর বিএনপি আহবায়ক কমিটি কবে আসবে সেটা আমার জানা নেই কেন্দ্র যাকেই আহবায়ক কমিটিতে রাখবে থাকেই স্বাগত জানানো হবে। হাই কমান্ড যদি মনে করে আমি যোগ্য তাহলে আমাকে কমিটিতে রাখবে।

সিলেট মহানগর বিএনপির দল গঠনে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রত্যাশা কি থাকবে ও আগামী দিনে দলে আহবায়ক কমিটিতে মনোনীত যারা হবেন তাদের মধ্যে কি ধরনের যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন সে সম্পর্কে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংঙ্কী ডায়ালসিলেটকে বলেন, প্রত্যাশা তো একটাই দলীয় ব্যক্তি হতে হবে, দলের জন্য যারা নিবেদিত প্রাণ, দলের প্রতি যারা রয়েল, দলের উপকার এবং দল যাতে শক্তিশালী হয়। আগামীদিনের রাজনীতিতে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে। সামনে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম আসবে এগুলোর জন্য আমাদের সকলকে প্রস্তুতি নিতে হবে। আর আহবায়ক কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা কমিটি অনুমোদনের আগে আমার কিছু বলার নাই কমিটিতে কে আসবে তা জানিনা। আসার পর যেকোন ধরনের বক্তব্য দেয়া যাবে।

এব্যাপারে মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, দলের আহবায়ক কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা কমিটি অনুমোদনের আগে কোন ধরনের মন্তব্য করা সমুচীন নয়। তবে কমিটিতে যাদেরই নাম আসুক না কেন তাদেরকে আমরা স্বাদরে গ্রহন করবো। তাদের নেতৃত্বে সিলেট মহানগর বিএনপি সামনের দিকে আরো এগিয়ে যাবে বলে আমি আশা করি।

এবিষয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দীকী ডায়ালসিলেটকে বলেন, কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে এখন ছাত্রদল যুবদল থেকে অনেক নেতারা বেড়িয়ে এসেছে যারা বিএনপি যোগ দিবে এটাকে আমরা একুমোডেট করতে হবে যেহেতু কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে এবং আগামীদিনে যারা আন্দোলন সংগ্রামে উপস্থিত থেকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারবে সে ধরনের নেতা দল দিবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

যেই নেতৃত্বে আসুক সেটি বিবেচ্য বিষয় নয় বিবেচ্য বিষয় দলের এই কঠিন সময়ে যে নেতৃত্বে আসুক কেন্দ্র যাকে ভাল মনে করবে সামনে দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে তাদেরকে আমরা স্বাগত জানাবো। যেহেতু এটি একটি আহবায়ক কমিটি এই দলকে গুছিয়ে নিতে আমাদের মধ্যে আন্দোলন সংগ্রামে একে অন্যের মধ্যে দ্বিধা-দন্দ নেই আমি বিশ্বাস করি আমরা সকলে মিলে একটি ঐক্যবদ্ধভাবে শক্তিশালী দল গঠনে এগিয়ে যাবো। আমরা বিশ্বাস করি এই মুহূর্তে কেন্দ্রে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব একটি সুন্দর কমিটি আমাদের উপহার দিবেন। তারা জানেন সিলেটের রাজনীতি সম্বন্ধে এবং সিলেটের দীর্ঘদিনের রাজনীতির যে কার্যক্রম সবকিছু সম্পর্কে তারা অবগত। হাত চালিয়ে দলকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করতে যে কমিটি আসবে আমরা সেই কমিটি নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো এবং অচিরেই আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমরা একটি সুন্দর কমিটি উপহার পাবো।

এদিকে, সিলেটে আবারো বিভক্ত হতে শুরু হয়েছে একদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির অন্যদিকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী বলয়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করেছে বলে একটি সূত্র জানায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি এক নেতা বলেন, বিএনপি নিজেরা নিজেদের প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলছে। শীর্ষ এক নেতা চান সিলেটে নিজেদের পছন্দ মত নেতাকে পদে বসিয়ে নিজের আধিপত্য বিস্তার করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন যার কারণে এখন বিএনপি দল গঠনে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়ছে। আবার অনেকে বিএনপি থেকে পদত্যাগও করছেন যা দল অনেকটা দূর্বল হয়ে পড়ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে সিলেটে সঠিক নেতৃত্ব অভাবে দলটি আরো ভাঙ্গন সৃষ্টি হবে।

সর্বশেষ সিলেট মহানগর বিএনপি আহবায়ক কমিটির উপর নির্ভর করবে দল গঠনে  শক্তিশালী করতে কেমন উদ্যোগ গ্রহন করবেন নেতৃবৃন্দরা।

উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারীতে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসময় জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন আবুল কাহের শামীম এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আলী আহমদ এবং সিলেট মহানগরের সভাপতি নির্বাচিত হন নাসিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে বদরুজ্জামান সেলিম এবং সাংগঠনিক পদে মিফতাহ সিদ্দীকি । সিলেট জেলা ও মহানগরের ফলাফল ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ।

0Shares