কে হাসবে জয়ের হাসি

প্রকাশিত: ২:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১

কে হাসবে জয়ের হাসি

ডায়ালসিলেট ::আজ ভোট উৎসবে মাতবেন দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনের বাসিন্দারা। শনিবার (০৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এই প্রথমবারের মতো এই আসনের ১৪৯টি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতি ব্যবহার করে ভোট গ্রহণ করা হবে। ৩ উপজেলায় সাড়ে ৩লক্ষাধিক ভোটার ব্যালট বিহীন ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসে ভোট প্রদানের অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।
এরইমধ্যে ভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের সরঞ্জাম নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ কেন্দ্রে পৌছেছেন প্রিসাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনী কর্মকর্তারা।নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হয়, সে জন্য প্রায় ২ সহস্রাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে নির্বাচনী এলাকায়।
নির্বাচনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন চার প্রার্থী। তারা হলেন-আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী হাবিবুর রহমান,জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান লাঙ্গল প্রতীকে, বিএনপি থেকে বহিস্কৃত শফি আহমদ চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মোটর কার মার্কায় এবং কংগ্রেসের প্রার্থী জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া দলীয় প্রতীক ডাব মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নৌকার মাঝি হাবিবুর রহমানকে দিয়ে আওয়ামী লীগ আসনটিতে বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায়। পক্ষান্তরে জাতীয় পার্টি আতিকুর রহমানের হাতে লাঙ্গলের খুঁটি ধরিয়ে হারানো আসনটি পূণরুদ্ধার করতে চায়।অন্যদিকে, মোটর কার চালিয়ে আবারো সংসদ সদস্য হতে চান দলছুট (বিএনপি থেকে বহিস্কৃত) শফি আহমদ চৌধুরী। আর কংগ্রেস মনোনীত জুনায়েদ মোহাম্মদ আশাবাদি ভাল কিছু করার।

এরইমধ্যে নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারণার সমাপ্তি টেনেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়া উদ্দিন বাবলু। প্রচারযুদ্ধের পর এবার ভোটের চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ তথা হিসাব-নিকাশের পালা।এ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে কে যাচ্ছেন সংসদে? এমন কৌতুহল রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে আমজনতার দোয়ারেও।

জাতীয় সংসদের ২৩১ নির্বাচনী এলাকা সিলেট-৩ আসন। ১৯৭৩ থেকে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এই আসনটিতে চার মেয়াদে আওয়ামী লীগ, তিন মেয়াদে জাতীয় পার্টি এবং ‍বিএনপির প্রার্থীরা বিজয় লাভ করেছেন।

আসনটিতে সর্বশেষ টানা তিন মেয়াদে সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী।করোনায় তাঁর মৃত্যুতে আসনটি শূণ্য ঘোষণা করে উপ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করেনির্বাচন কমিশন। কিন্তু করোনার কারণে দুই বার নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে অবশেষে শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোটের দিন ধার্য্য রাখা হয়।

নির্বাচনী এলাকার লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নির্বাচনী মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি প্রার্থী। তবে বিএনপি নির্বাচনে না আসায় ‘নিরব’ ভোট বিপ্লব ঘটতে পারে।

দলীয়ভাবে বিএনপি অংশ না নিলেও সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে শুরু থেকেই উত্তাপের কমতি ছিল না। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণ নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।

হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের প্রায় দুই ডজন নেতা ব্যাপক প্রচারণা চালান। দ্বিতীয় দফায় গত বুধবার সিলেট আসেন জাহাঙ্গীর কবীর নানক। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তিনি নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় নেতাদের উপর ভর করে প্রচারণা চালিয়ে যান জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক। শেষমেশ তার পক্ষে মাঠে নামেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব জিয়া উদ্দিন বাবলু। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি সিলেট এসে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে যান। এরশাদের দ্বিতীয় বাড়ি সিলেটের ৩ আসনে সাধারণ ভোটারদের কাছে লাঙ্গল প্রতীকের সমর্থণে আবেগ জাগিয়ে তোলায় ভোটারদের মনে বেশ নাড়া দেয়। ফলে লাঙ্গলের প্রার্থীর পক্ষে নীবর ভোটের বিপ্লব ঘটতে পারে, এমনটি ধারণা করে স্থানীয়রা বলেন, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, আর লাঙ্গল পাস করে, তাতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই।

এদিকে, দল থেকে বহিস্কৃত শফি আহমেদ চৌধুরী বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমর্থনে বিজয়ের আশা দেখছেন।

সিলেটের সিনিয়র জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা ফয়সাল কাদির জানান, বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে ২ সদস্যবিশিষ্টি একটি ‘নির্বাচনী তদন্ত কমিটি’গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। আসনটির ভোটগ্রহণ উপলক্ষে ৩ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ দিয়েছে ইসি। তাঁরা নির্বাচনের দিন ছাড়াও পরের দুইদিন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।

সিলেট-৩ আসনে রিটানিং কর্মকর্তার দফতর সূত্র জানায়, নির্বাচনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৩ জন বিচারিক ও ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।

ডায়ালসিলেট এম/

0Shares

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ