দুই চৌধুরীর দ্বন্দ্ব নিয়ে আফসোসের অন্ত নেই

প্রকাশিত: ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১

দুই চৌধুরীর দ্বন্দ্ব নিয়ে আফসোসের অন্ত নেই

ডায়ালসিলেট :: দুই চৌধুরীর দ্বন্দ্ব নিয়ে আফসোসের অন্ত নেই সিলেট-২ আসনের বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের আওয়ামী পরিবারে। দুইজনের চির শত্রুতার কারণে আওয়ামী লীগ এ আসনটিতে দলীয় প্রার্থী দিতে পারেনি। সরকারে আওয়ামী লীগ থাকলেও সব সময় বিরোধী হিসেবেই এ আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থান। এই দুইজনের বিরোধের কারণে অনেক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে দলকে।

ইলিয়াস পরিবারের শক্তিশালী অবস্থান এই আসনে। এরপরও ভোটে ইলিয়াস পরিবারের কেউ প্রার্থী না থাকায় বিগত দুই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী দিলেই জয়ী হতো আওয়ামী লীগ। কিন্তু দুইবারই শরিক দল জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে হয়েছে এই আসন। যার খেসারত দিতে হচ্ছে দলীয় নেতাকর্মীদের।

এই দুই চৌধুরী হলেন- সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। সাংগঠনিক দক্ষতা আছে দুইজনেরই। আছে নেতাকর্মীদের সমর্থন। এই দুই চৌধুরী ফের সিলেটে আলোচনায় এসেছেন। তাদের ঘিরে সরবও রাজনীতি।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান গত বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে ফের অধিষ্ঠ হলেন শফিকুর ইসলাম চৌধুরী। অথচ শফিকুর রহমান চৌধুরীকে গত ৫ বছরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। নিজ দলের অবস্থান ধরে রাখতে রীতিমতো লড়াই করতে হয়েছে তাকে।

২০০৮ সালের নির্বাচনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের এই নেতাকে সিলেট-২ আসনে নৌকার মনোনয়ন দিলে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তার। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের পুরাতন নেতৃত্বকে বদলে দিতে জেলার সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল তখনকার এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরীকে। দায়িত্ব পেয়েই সিলেটে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। কিন্তু সাদামাটা রাজনীতিক হওয়ার কারণে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সিলেটের আওয়ামী রাজনীতিতে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন তিনি। এমপি পদটি শরিক দলকে বিসর্জন দেয়ার পরও টিকিয়ে রাখতে পারেননি সাধারণ সম্পাদকের পদ।

প্রায় তিন বছর আগে সিলেটে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে পদ হারান শফিকুর রহমান চৌধুরী। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদ নিয়ে তাকে লড়াই করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্তে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ফিরেন শফিক চৌধুরী। প্রয়াত সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমানের মৃত্যুর পর ফের শীর্ষ পদে আসীন হন শফিকুর রহমান চৌধুরী। সিলেট আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, যেহেতু জেলার সভাপতি মারা গেছেন এখন জ্যৈষ্ঠতার ভিত্তিতে শফিক চৌধুরীই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। তিনি এখন সে দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনীতিতে ফের ক্ষমতা ফিরে পেয়ে শফিক চৌধুরী আরও বেশি তৎপর হয়ে উঠেছেন। এবার আর ভুল করতে চান না। দলকে সাজাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজের সংসদীয় আসনেও আরও সুসংহত অবস্থান নিতে চান তিনি। সেই লক্ষ্যে শফিক চৌধুরী নতুন উদ্যোগে কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন তার সমর্থকরা।

এদিকে সিলেটের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কর্তৃত্বে নতুন পালক যুক্ত করলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সিলেট-২ আসনের আওয়ামী রাজনীতির একাংশের নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। সিলেট-৩ আসনের এবারের নির্বাচনটি ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এক সময়ের যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবকে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। বাঘা বাঘা প্রার্থীদের হটিয়ে নৌকার প্রার্থী হিসেবে নিয়ে আসেন প্রিয় রাজনৈতিক সহকর্মী ও বন্ধু হাবিবুর রহমান হাবিবকে। ভোটের মাঠেও হাবিবকে নিয়ে কম নাটকীয়তা হয়নি। মনোনয়নপ্রত্যাশী অপর প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের পিছুটানও ছিল। এই অবস্থায় হাবিবের পক্ষে মাঠে নেমেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকও। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তিনি সিলেটে ছিলেন। অবশেষে সিলেট-৩ আসনে জয় হলো নৌকার প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের। নির্বাচনে ছায়া হয়ে থাকা আনোয়ারুজ্জামানকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানাতে ভুলেননি নির্বাচিত এমপি হাবিবও। শনিবার রাতে ফলাফল ঘোষণার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিজের অভিব্যক্তি জানানোর সময় হাবিব নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ও পরবর্তীতে লড়াইয়ে আনোয়ারুজ্জামানের পাশে থাকার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। এ জন্য তিনি তার রাজনৈতিক সহকর্মী ও বন্ধু আনোয়ারুজ্জামানকে ধন্যবাদ জানান।

হাবিব জানান, ‘বিজয়ের এই ক্ষণে আমার পাশে আনোয়ারুজ্জামান থাকলে আরও বেশি খুশি হতাম। তিনি আমার জন্য অনেক কিছুই করেছেন। সুদূর যুক্তরাজ্য থেকেও নিরলস চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা ছাড়াও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, সিলেটের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আনোয়ারুজ্জামান চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন এবং জয়ী হচ্ছেন। এর আগে বয়োবৃদ্ধ নেতা এডভোকেট লুৎফুর রহমানকে নিয়ে তিনি জেলা পরিষদ নির্বাচন ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন। সেখানেও তিনি সফল হয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা যুবলীগ সহ দলের অনেক কমিটি গঠনে আনোয়ারুজ্জামানের কর্তৃত্ব থাকছে। এ জন্য সিলেট-৩ আসনের নির্বাচনের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

ডায়ালসিলেট এম/

0Shares