নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ

প্রকাশিত: ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১

নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ

ডায়ালসিলেট ডেস্ক::প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টার বৈঠক। বক্তব্য আর লাঞ্চ বিরতিতে পার প্রায় দুই ঘণ্টা। বাকি সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে দেশের বিভিন্ন এলাকার সাংগঠনিক বিবাদ, বিরোধ আর কমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অসন্তোষের বিষয়ে আলোচনা। এক বছর পর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের চিত্র এটা। গতকাল সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ওই বৈঠক শুরু হয়। শেষ হয় বিকাল সাড়ে ৩টায়। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৈঠকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ৫১ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিত ছিলেন দু’জন। এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর দলীয় ফোরামে হওয়া এসব আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেতারা। তাদের বক্তব্য প্রায় এক বছর পর দলের এই বৈঠক নেতাদের উজ্জীবিত করেছে। পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় নিয়ে দলীয় সভাপতির মনোভাব স্পষ্ট জানা গেছে। এতে তৃণমূল সংাগঠনিকভাবে আরও শক্তিশীলী হবে বলে তাদের প্রত্যাশা। বৈঠকে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য এখন থেকে দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এজন্য তাদের নিজেদের মধ্যকার বিরোধ মিটিয়ে নেয়ার কথা বলেছেন। আর যারা দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে বিরোধ-বিবাদে জড়াবেন তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যেসব জেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি আছে সেসব জেলায় অবিলম্বে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দেয়া হয় বৈঠক থেকে। বৈঠকে পাবনা পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে জটিলতা হয়েছিল এবং তার ফলে সেখানকার কমিটি স্থগিত করা হয়েছিল, সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া বৈঠকে লালমনিরহাটে একজন এমপিকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছিল, সেই লাঞ্ছিত করার ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বপনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং যারা এমপির ওপর চড়াও হয়েছিল তাদের প্রত্যেককে শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। নাটোরে এমপি আবার জেলার কমিটির দায়িত্ব নিয়েছেন। সেখানে এমপিকে জেলার কমিটির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া ফরিদপুরের অনিষ্পন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা কমিটির মধ্যে কোনটি আগে করা হবে এ ব্যাপারে নির্দেশনা চাওয়া হলে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রথম জেলা সম্মেলন করার নির্দেশনা দেন। বৈঠকে মাদারীপুরের সমস্যা নিয়ে দুইপক্ষের দীর্ঘ বক্তব্য শোনেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। শাহজাহান খান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম মাদারীপুরের পরিস্থিতি সম্পর্কে বক্তব্য দেন। এই প্রথম মাদারীপুরের বিবাদমান দুই পক্ষ মুখোমুখি আওয়ামী লীগ সভাপতির সামনে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন। শেখ হাসিনা ধৈর্যের সঙ্গে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনেন। বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী শাহাজান খানকে উদ্দেশ্য করে রসিকতার ছলে বলেন, আপনি তো ৬ বারের এমপি। ৫ বার আওয়ামী লীগের এমপি, ১ বার জাসদের এমপি। কিন্তু আপনি এখনো আওয়ামী লীগ হতে পারলেন না। এখন একটু আওয়ামী লীগ হওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন যে, আপনি কমিটির ভাগ নেবেন কেন। পুরো কমিটি আপনার। আপনি অভিভাবক হিসেবে সব সমস্যার সমাধান করেন। দল আপনার আপনিই নেতা। পুরো কমিটি আপনার হবে। সেজন্য আগে আওয়ামী লীগ হন, তারপর আপনি এই সমস্যার সমাধান করেন। বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন যে, একই জেলায় একজন এমপি আবার জেলা বা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা হচ্ছেন। এই অবস্থার অবসান ঘটানোর জন্য তিনি নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, এক নেতার একটি পদ থাকবে। যিনি এমপি তিনি জেলার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এমপি জেলার দায়িত্ব পালন করার ফলে সেখানে নানা রকম বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি অনতিবিলম্বে অর্ধশতাধিক অনিষ্পন্ন জেলার সম্মেলন শেষ করার নির্দেশনা দেন। তিনি বিভিন্ন জেলায় স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কোন্দলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে সেখানেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেন। বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কমিটির রিপোর্টগুলো উপস্থাপিত হয় এবং গৃহীত হয়। উল্লেখ্য, বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন যে, আওয়ামী লীগের এত কার্যকর কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক খুব কমই হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি সাংগঠনিক বিষয়ে যেভাবে দ্রুত প্রত্যেকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা একটি ঐতিহাসিক। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল যেমন কমবে তেমনি দলের শৃঙ্খলা বাড়বে। এদিকে, বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিং করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, দলের বিরুদ্ধে কাজ করলে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাউকে কোনোভাবে ছাড় না দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় প্রধান। ওবায়দুল কাদের বলেন, পরবর্তী নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হবে সেগুলো আপডেট করার জন্য উপ-কমিটিগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কয়েকজন উপ-কমিটির সদস্যের বক্তব্য নেত্রী শুনেছেন। পাশাপাশি আমাদের ৮ বিভাগের ৮ জন সাংগঠনিকের কথা শুনেছেন। চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন দেশের বাইরে থাকায় সেখানে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বক্তব্য দিয়েছেন। আমাদের সাংগঠনিক সম্পাদকরা লিখিত রিপোর্ট করেছেন সভানেত্রীর কাছে। তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়েছেন। যেখানে যেখানে বিবাদ আছে সেখানে দ্রুত সেগুলো মীমাংসা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের জনান, পাবনায় পৌরসভা নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে অনেকে বিদ্রোহ করেছিল। তারা ক্ষমা চেয়ে লিখিত জবাব দিয়েছেন নেত্রী বরাবর। নেত্রী তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার-চক্রান্ত চলছে। যতই নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে ততই অপপ্রচারের মাত্রা বাড়ছে। এসব অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে। চক্রান্তমূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়তে হবে। তাছাড়া করোনাকালে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আমাদের সভাপতি। নোয়াখালীর ব্যাপারে কোনো কথা হয়েছে কি না? এর উত্তরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘না, নোয়াখালীর ব্যাপারে এখানে কোনো কথা হয়নি। সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে একটি কাঠামো দাঁড় করিয়েছি সমাধানের জন্য। স্বপন বাইরে আছে। সে ফিরে এলে পদক্ষেপ নেয়া হবে। আপনার ভাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন যে, আপনি নেত্রীর কাছে অব্যাহতি চেয়েছেন। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না।’ জাতীয় সম্মেলন নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বিষয়ে কোনো এজেন্ডাই ছিল না।

ডায়ালসিলেট এম/

0Shares