সিসিকের আয়-ব্যয় সমান দেখিয়ে ৮ শত ৩৯ কোটি টাকার বাজেট

প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১

সিসিকের আয়-ব্যয় সমান দেখিয়ে ৮ শত ৩৯ কোটি টাকার বাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বিগত তিন বছরের মতো এবারও সমপরিমাণ আয় এবং ব্যয় দেখিয়ে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৮৩৯ কোটি ২০ লাখ ৭৬ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নগরীর একটি কনভেনশন হলে সংবাদ সম্মেলনে বিগত বছরের বাজেট থেকে ৯৫ কোটি ৬৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বেশি আকারের এ বাজেট ঘোষণা করেন।

ঘোষিত বাজেটে বিভিন্ন খাত থেকে সর্বমোট ৮২ কোটি ২৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মেয়র আরিফ।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আয়ের খাত হিসেবে হোল্ডিং ট্যাক্স ৪৪ কোটি ৯২ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের উপর কর ৮ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা, ইমারত নির্মাণ ও পুনঃ নির্মাণের উপর কর ২ দুই কোটি টাকা, পেশা ব্যবসার উপর কর ৬ কোটি ৫০ পঞ্চাশ লক্ষ টাকা, বিজ্ঞাপনের উপর কর ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা, বিভিন্ন মার্কেটের দোকান গ্রহীতার নাম পরিবর্তনের ফি ও নবায়ন ফি বাবদ ৯০ লক্ষ টাকা, ঠিকাদারী তালিকাভুক্তি ও নবায়ন ফি বাবদ ৩০ লক্ষ টাকা, বাস টার্মিনাল ইজারা বাবদ আয় ৫৫ লক্ষ টাকা, ট্রাক টার্মিনাল ইজারা বাবদ আয় ১৭ লক্ষ টাকা, খেয়াঘাট ইজারা বাবদ ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি ও দোকান ভাড়া বাবদ ১ কোটি টাকা, রোড রোলার ভাড়া বাবদ আয় ৬০ লক্ষ টাকা, রাস্তা কাটার ক্ষতিপূরণ বাবদ আয় ৫০ লক্ষ টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে আয় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা, পানির সংযোগ লাইনের মাসিক চার্জ বাবদ ৪ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা, পানির লাইনের সংযোগ ও পুনঃসংযোগ ফিস বাবদ ৮০ লক্ষ টাকা, নলকুপ স্থাপনের অনুমোদন ও নবায়ন ফি বাবদ ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, নগরবাসী নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য বকেয়া পাওনা পরিশোধ খাত তুলে ধরেন তিনি।

বাজেটে সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাতে ১০ কোটি টাকা, কোভিড-১৯ মোকাবেলা, ডেঙ্গু মোকাবেলা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও প্রচার উপ-খাতসহ সরকারি বিশেষ মঞ্জুরী খাতে ৩১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা, অন্যান্য প্রকল্প মঞ্জুরী বাবদ ১ কোটি টাকা, সিলেট সিটি কর্পোরেশন অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প ৯০ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ১৩০ কোটি টাকা, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় (২০১৮ সনে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প খাতে ২৮ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা, সিলেট মহানগরীর নাগরিক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের জন্য আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সরবরাহ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ২৬ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা, নগর ভবনের উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ প্রকল্প খাতে ২০ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমা এলাকায় শেখ হাসিনা শিশু পার্কে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প খাতে ২ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীর যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প খাতে ৫ কোটি টাকা, বিভিন্ন ছড়া খনন ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ প্রকল্প খাতে ১০ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশন এসফল্ট প্লান্ট স্থাপন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে জমি অধিগ্রহণ খাতে ৩০ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ফিলিং স্টেশন স্থাপন খাতে ৫ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশনের প্লাষ্টিক রিসাইক্লিং প্লান্ট স্থাপন খাতে ৫ কোটি টাকা, কুমারপাড়ায় সিটি কর্পোরেশনের নগর মাতৃসদন ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন খাতে ৫ কোটি টাকা, লালমাটিয়া ডাম্পিং গ্রাউন্ড উন্নয়ন প্রকল্প খাতে ২০ কোটি টাকা, তোপখানা পানি শোধনাগার এর উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও বোতলজাত করে বিক্রয় প্রকল্প খাতে ৩০ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমা বাস টার্মিনাল আধুনিকায়ন প্রকল্প ৩ কোটি টাকা, উৎপাদন নলকুপ স্থাপন খাতে কোটি টাকা, সুরমা নদীর উত্তর তীর ঘেষে সার্কিট হাউসের সম্মুখ হতে হযরত গাজী বুরহান উদ্দিন সড়ক পর্যন্ত রিটেইনিং ওয়াল এবং ওয়াকওয়েসহ রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প খাতে ২০ কোটি টাকা, যানজট নিরসনে ৪টি পার্কিং ব্যবস্থা নির্মাণ খাতে ৪ কোটি টাকা, ৪টি গরুর হাট নির্মাণ খাতে ৪ কোটি টাকা, ৪টি জবাইখানা নির্মাণ খাতে ৪ কোটি টাকা, ৪টি খেলার মাঠ নির্মাণ খাতে ৪ কোটি টাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন খাতে ২০ কোটি টাকা, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, মাজার, কবরস্থান, শশ্মান ঘাট, ঈদগাহ উন্নয়নে ১০ কোটি টাকা, ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরগণের স্থায়ী অফিস স্থাপন প্রকল্প ২ কোটি টাকা।

উন্নত পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে কোটি টাকা, এমজিএসপি প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ ও পূর্ত কাজের পাওনাদী পরিশোধের জন্য বরাদ্দ বাবদ কোটি টাকা, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আরবান রেজিলেন্স প্রকল্পের আওতায় EOC নির্মাণ প্রকল্প ৫ লক্ষ টাকা, সুয়ারেজ মাস্টার প্লান এর ফিজিবিলিটি স্টাডিকরণ প্রকল্প ৫ কোটি টাকা, ৫০ এমএলডি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের জন্য ১৩.১৩ একর জমি অধিগ্রহণ ৫ কোটি টাকা, আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রকল্প খাতে ৫০ লক্ষ টাকা, নগরীর বস্তি সমুহের উন্নয়ন প্রকল্প খাতে ২ কোটি টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব উন্নয়ন প্রকল্প খাতে মার্কেট নির্মাণ বাবদ প্রাপ্ত সালামী ও সিটি কর্পোরেশন আবাসিক প্রকল্পের নির্মাণ বাবদ মোট ৪৭ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

এছাড়া বাজেটে রাজস্ব খাতে ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয় সর্বমোট ৮০ কোটি ৫৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

এর মধ্যে সাধারণ সংস্থাপন খাতে ৩২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা, শিক্ষা খাতে ৬ কোটি ৮ লক্ষ টাকা, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান খাতে ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, স্বাস্থ্য ও প্রয়ঃপ্রণালী খাতে ১৩ কোটি ১৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ খাতে ৫০ লক্ষ টাকা, বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ২০ লক্ষ টাকা, মোকদ্দমা ফি ও পরিচালনা ২৫ লক্ষ টাকা, জাতীয় দিবস উদযাপন ৭০ লক্ষ টাকা, বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন খাতে ১ কোটি টাকা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি খাতে ১৫ লক্ষ টাকা, মেয়র কাপ ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্ট খাতে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, মেয়র কাপ ব্যাটমিন্টন টুর্নামেন্ট খাতে ৩০ লক্ষ টাকা, রিলিফ/জরুরী ত্রাণ খাতে ১ কোটি টাকা, আকস্মিক দুর্যোগ/বিপর্যয়/করোনা খাতে ২ কোটি টাকা, রাস্তা আলোকিত করণ ব্যয় ৩ কোটি টাকা, কার্যালয়/ভবন ভাড়া বাবদ ১ কোটি টাকা, নিরাপত্তা/সিকিউরিটি পুলিশিং খাতে ৫০ লক্ষ টাকা, ডিজিটাল মেলা আয়োজনে ৩০ লক্ষ টাকা।

অন্যান্য ব্যয় খাতে ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পানি সরবরাহ শাখার সংস্থাপন ব্যয়সহ পানির লাইনের সংযোগ ব্যয়, পাম্প হাউজ, মেশিন, পাইপলাইন মেরামত ও সংস্কারসহ সর্বমোট ১২ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

পাশাপাশি বাজেটে রাজস্ব খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয় বাবদ মোট ২৮ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তন্মধ্যে রাস্তা নির্মাণ, রাস্তা মেরামত/সংস্কার, ব্রিজ/কালভার্ড নির্মাণ, ব্রিজ/কালভার্ড মেরামত/সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ/মেরামত, সরঞ্জাম যন্ত্রপাতি ও সম্পদ ক্রয়, সিটি কর্পোরেশনের ভবন নির্মাণ/মেরামত, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ ও সংস্কার, ঢাকায় সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব লিঁয়াজো অফিসের জন্য ফ্ল্যাট জন্ম, কসাই খানা নির্মাণ/ময়লা আবর্জনা ফেলার জায়গা উন্নয়ন, সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন রক্ষায় গ্যারেজ নির্মাণ, সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন রক্ষণ-বেক্ষনে ওয়ার্কসপ নির্মাণ, হাট বাজার উন্নয়ন, বাস টার্মিনাল সংস্কার ও উন্নয়ন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পাঠাগার নির্মাণ, নাগরিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, গভীর নলকূপ স্থাপন, এমজিএসপি প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের নিজস্ব অর্থ ব্যয়, সিটি কর্পোরেশনের জন্য জীপ গাড়ী ও ২টি আধুনিক এ্যাম্বুলেন্স ক্রয় এবং নারীদের উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ ইত্যাদি খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য বলে তুলে ধরেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে সিলেটকে একটি আধুনিক, স্মার্ট ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে মেয়র আরিফ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

এসময় সিলেটের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সকল সাংবাদিক, নাগরিক প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

0Shares