মুহিবুল্লাহ হত্যা: আরও তিন রোহিঙ্গা রিমান্ডে

প্রকাশিত: ৩:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২১

মুহিবুল্লাহ হত্যা: আরও তিন রোহিঙ্গা রিমান্ডে

ডায়ালসিলেট ডেস্ক::কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার আরও তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। এ নিয়ে মোট পাঁচজনকে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিলো আদালত। কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহ পুলিশের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে আজ (বুধবার) এই আদেশ দেন বলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান। রিমান্ডে পাঠানো তিন আসামি হলেন- উখিয়া উপজেলার লম্বাশিয়া ১-ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-১৫ ব্লকের আব্দুস সালাম (৩২), কুতুপালং ৮-ডব্লিউ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-৫৪ ব্লকের জিয়াউর রহমান (৩০) এবং কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. ইলিয়াছ (৩৫)। পরিদর্শক চন্দন বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত রোববার সালাম ও জিয়াউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। বিচারক তখন বুধবার শুনানির দিন রাখেন। আর ইলিয়াসকে সোমবার আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। তার শুনানির জন্যও বুধবার দিন ধার্য করেন বিচারক। সে অনুযায়ী তিন আসামিকে আজ সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে আনা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তিন আসামির প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। এর আগে গত রোববার মো. সলিম (৩৩) ও শওকত উল্লাহ (২৩) নামে দুজনকে এ মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল একই আদালত। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ায় লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৪৮ বছর বয়সী মুহিবুল্লাহকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে একদল অস্ত্রধারী। তিনি ছিলেন ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ নামে রোহিঙ্গাদের একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুর এলাকার স্কুলশিক্ষক মুহিবুল্লাহ পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমে ‘রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। মুহিবুল্লাহকে হত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘ, ইউএনএইচসিআরসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। রোহিঙ্গাদের আরেকটি সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) মুহিবুল্লাহকে হত্যা করেছে সন্দেহ তার পরিবারের। ওই হত্যাকাণ্ডের পর শুক্রবার সকালে উখিয়ার লম্বাশিয়া ১-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থেকে মো. সলিমকে গ্রেপ্তার করে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ান-এপিবিএন। আর উখিয়া থানা পুলিশ মধুরছড়া ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-১৫ ব্লক থেকে শওকত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। এরপর শনিবার ভোররাতে লম্বাশিয়া ক্যাম্প থেকে আব্দুস সালাম, কুতুপালং ক্যাম্প থেকে জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয় কুতুপালং ক্যাম্প থেকে।

ডায়ালসিলেট এম/

0Shares