বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু

প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২১

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের  ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা  শুরু

এমরান ফয়সল ::বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আজ সোমবার শুরু হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠী আজ। আজ থেকে শুরু হচ্ছে পূজার মূল পর্ব। মহাষষ্ঠীতে দশভুজা দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। মাতৃরূপে আজ মন্ডপে মন্ডপে ঠাঁই নেবেন দেবী। শঙ্খ ধ্বনি, ধূপের সুঘ্রাণ ঢাক-ঢোলের সঙ্গে ভক্তি মন্ত্রে মেতে উঠবে পূজামন্ডপ। পঞ্জিকা মতে এবার দেবীর ঘোটকে (ঘোড়ায়) আগমন আর দোলায় গমন। এবার দেবীর ঘোটকে (ঘোড়ায়) আগমন ও দেবীর দোলায় (পালকি) গমন, ফলম মড়কং ভবেৎ অর্থাৎ বিশে^ অসুখ বিসুখ বাড়বে। ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। মাতৃরূপে মন্ডপে মন্ডপে ঠাঁই নেবেন দেবী। ঢাকে পড়বে কাঠি, ধূপের ধোঁয়া আর ঢাক-ঢোলের সঙ্গে ভক্তিমন্ত্রে মেতে উঠবে পূজা মন্ডপ। খড়গ-কৃপাণ, চক্র, গদা, তীর-ধনুক, ত্রিশুল আর কল্যাণ নিয়ে উপস্থিত হবেন এবং মহিষাসুর বধ করে হেসে উঠবেন দেবী। আজ সোমবার কল্পারম্ভ। কল্পারম্ভ হলো পূজার পরিকল্পনা শুরু। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী এই তিন দিনে মায়ের বিশেষ পূজার সংকল্প বা পরিকল্পনা হয় এই কল্পারম্ভে। কল্পারম্ভ হতেই শ্রী শ্রী চন্ডী পাঠ হয়ে থাকে। এ চন্ডীতে মায়ের পূজার দার্শনিকভাব ও প্রতিমায় বিশেষ করে মাটির প্রতিমায় পূজার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। দুর্গাপূজার অধিবাস হলো বিভিন্ন সুগন্ধি ও মাঙ্গলিক দ্রব্য স্পর্শ করে অতিথি বরণ করে নেয়ার মতো মা দুর্গাকে প্রতিমায় ও নব পত্রিকায় বরণ করে নেয়া। দুর্গাপূজা হয় আশ্বিনের শুক্লা ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত। আসুরিক শক্তির বিনাশ আর শান্তি, কল্যাণ আর সমৃদ্ধি লাভের জন্য হিন্দু সম্প্রদায় যুগ যুগ ধরে মা দুর্গার আরাধনা করে আসছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য এবং দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনে বিশ^ব্যাপী মঙ্গল ধ্বনি দিয়ে মা দুর্গা এ সময় কৈলাশ ছেড়ে মর্ত্যে আসেন। পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম বসন্তকালে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। পরে শ্রী রামচন্দ্র তাঁর পতœী সীতাদেবীকে উদ্ধারের জন্য শরৎকালে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। শরৎকালে দেবতারা ঘুমিয়ে থাকেন। তাই, শরৎকালের এই পূজাকে অকাল বোধন বলা হয়। বোধন মানে জাগ্রত করা বা জাগানো। বোধন হয় বেল গাছের তলায়। দেবতারাও বেল গাছের তলায় বোধন করেছিলেন। বেল গাছের অন্য নাম শ্রীবৃক্ষ। শ্রী অর্থ সম্পদ বা সৌন্দর্য। তাই, পূজারীরা সম্পদ বা সৌন্দর্য বা সংসারের উন্নতির জন্য, জ্ঞান ভক্তি লাভের জন্য বিল্ববৃক্ষের মূলে দুর্গাপূজার বোধন করেন। বোধনে ঘট স্থাপন করা হয়। ঘট হল হৃদয়ের প্রতীক। ঘটের জলে যেমন প্রতিবিম্ব পড়ে, সেরকম ভক্তের হৃদয়েও মায়ের ভাব বা স্বরূপের ধারণা হয়। সেই ধারণা অনুযায়ী প্রতিমা তৈরী হয়। অন্যদিকে, আবার এই প্রতিমা দেখেই ভক্তের মনের ভাব প্রকাশিত হয়। তাই, ভক্ত নিজের হৃদয়ে, ঘটে এবং প্রতিমায় মায়ের পূজা করে থাকেন। আগামীকাল মঙ্গলবার মহাসপ্তমী পূজা। শঙ্খ-ধ্বনি, উলুধ্বনি আর নব পত্রিকায় প্রবেশের মধ্য দিয়ে আগামীকাল শুরু হবে দেবী মহিষাসুর মর্দিনীর আরাধনা। দুর্গা পূজায় প্রতিদিনই অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগ আরতির আয়োজন করা হবে। এ বছর সিলেট বিভাগে পারিবারিক, বারোয়ারি ও সার্বজনীন পূজামন্ডপ (স্থায়ী ও অস্থায়ী) ২৫৮৪ টি। পুরো বিভাগে গত বছর থেকে এবার ১৭১ টি কম। আর বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজা মৌলভীবাজার জেলায় ৮৭৩টি। গত বছর ছিল সিলেট বিভাগে পারিবারিক, বারোয়ারি ও সার্বজনীন পূজামন্ডপ (স্থায়ী ও অস্থায়ী) ২৭৫৫ টি। এ বছর সিলেট জেলায় ৬০৫ টি মন্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। যা গত বছর থেকে ২১টি বেশী। সিলেট মহানগর এলাকায় সার্বজনীন ও পারিবারিক মিলিয়ে মোট ৬৫টি পূজার আয়োজন করেছেন পূজারীরা। সিলেট সদর উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ৫৮টি। দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ২২টি পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ৬১টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। যা গত বছর থেকে ৩টি বেশী। বালাগঞ্জ উপজেলায় ৩২টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। কানাইঘাট উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ৩৮টি। জৈন্তাপুর উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ২৩টি। বিশ্বনাথ উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ২৫টি। যা গত বছর থেকে ১টি কম। গোয়াইনঘাট উপজেলায় এবার ৩৬টি পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর থেকে ৩টি কম। জকিগঞ্জ উপজেলায় জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপজেলায় এবার সার্বজনীন পূজা ৯৯টি। গত বছর থেকে ১৫টি বেশী। বিয়ানীবাজার উপজেলায় ৪৬ টি মন্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর থেকে ৫টি কম। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ২৮টি মন্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর থেকে ১টি কম। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ৩৮টি পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর থেকে ১টি বেশী। আর ওসমানীনগর উপজেলায় ৩৫টি পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর থেকে ২টি বেশী। এছাড়া, মৌলভীবাজার জেলায় ১০৮৩টি পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর থেকে এবার ২১০টি পূজা কম। এর মধ্যে মৌলভীবাজার পৌরসভায় ১৬টি, সদর উপজেলায় ৭৫টি, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৫৪টি, বড়লেখা উপজেলায় ১৩৬টি, জুড়ি উপজেলায় ৬৭টি, রাজনগর উপজেলায় ৮০টি, কমলগঞ্জ উপজেলায় ১৪৩টি ও কুলাউড়া উপজেলায় সর্বোচ্চ ২০২টি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জে এবার ৪২০টি পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গতবছর থেকে ৮টি পূজা বেশী। গত বছর পূজা ছিল ৪১২টি। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ২৩টি, সদর উপজেলায় ২৩টি

ডায়ালসিলেট এম/

0Shares