মেডিকেল ভর্তি প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ জানাতে চেয়েছিলেন তিনি

প্রকাশিত: ১০:০২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২১

মেডিকেল ভর্তি প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ জানাতে চেয়েছিলেন তিনি

ডায়ালসিলেট ডেস্ক::মারা যাওয়ার আগে অনেক কথা বলে গেছেন পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞান বিষয়ক কর্মসূচির জনক ড. আবদুল কাদের খান (একিউ খান)। গত রোববার সকালে তিনি মারা যান। এর ১১ ঘণ্টা আগে তিনি ডন পত্রিকাকে বলেন, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাবেন তিনি। কারণ এ প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ। এ বিষয়ে সোমবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টে পিটিশন দেয়ার কথা ছিল তার। তিনি ডন’কে বলেছিলেন, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে ত্রুটি আছে। তাই সোমবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করতে যাচ্ছি। এই ভর্তি প্রক্রিয়ার কারণে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান মেডিকেল কমিশন ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার পর শনিবার সন্ধ্যায় ডনকে এ কথা বলেন তিনি।
পাকিস্তানে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় কমপক্ষে শতকরা ৬৫ ভাগ নম্বর পেতে হয়। মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার শিক্ষার্থী ওই পাস নম্বর পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। এতে বিরক্ত বোধ করেন আবদুল কাদের খান। তাই তিনি এ পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তিনি নিজের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, তিনি কোভিড-১৯ আক্রান্ত। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবু পুরো সুস্থ হওয়ার আগেই তাকে হাসপাতাল ছাড়তে হয়েছে। পাকিস্তানের এই কিংবদন্তি বিজ্ঞানী তার স্বাস্থ্য নিয়ে বলে, এখনো আমার পুরো শরীরে ব্যথা।
তিনি এখন আর নেই। তাহলে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চ্যালেঞ্জ জানানোর যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, তা তার পরিবারের সদস্যদের কেউ চালিয়ে নেবেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে একিউ খান ডন’কে বলেছিলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে বর্তমান শাসকরা তার স্বাস্থ্য বিষয়ে খোঁজখবর নেয়নি। এ জন্য তাদের ওপর তিনি সন্তুষ্ট নন। সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহকে সম্প্রতি একটি চিঠি লিখেছেন তিনি। তাতে তিনি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের মনোভাবে তিনি অসন্তুষ্ট। তিনি লিখেছেন, কি চমৎকার অনুভূতি! প্রধানমন্ত্রী, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী, বেলুচিস্তান আমার মৃত্যুর শুভ সংবাদ শোনার জন্য অপেক্ষায় আছে।
উল্লেখ্য, ১৯৩৬ সালে ভারতের ভুপালে জন্ম এই কৃর্তীমান বিজ্ঞানীর। তিনি জীবনে অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন। ১৯৯৮ সালে পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। এরপরই তাকে নিয়ে চারদিকে পরিবেশ গরম হয়ে ওঠে। তারপর থেকেই তিনি এক কঠিন জীবনযাপন করতে থাকেন। কর্তৃপক্ষ বলে তিনি ‘নিরাপত্তা হেফাজতে’ আছেন তার ই-৭ বাসভবনে। সঙ্গে আছেন ডাচ স্ত্রী হেনি খান। স্বভাবগতভাবে একিউ খান প্রতিদিন সকালে বন্ধুবান্ধব এবং ভক্ততের শুভেচ্ছা জানাতেন সূর্যোদয়ের আগে এবং এবং ফজরের নামাজের পরে। কিন্তু রোববার সকালে তার ফোন বাজেনি। কোনো ভক্ত তার শুভ কামনা পাননি। স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে তিনি আর কোনো শুভেচ্ছা জানিয়ে যেতে পারেননি। তার মৃত্যুতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ড. আরিফ আলভি, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, বিরোধী দলের নেতা শেহবাজ শরীফ সহ রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞানী, পেশাদার-অপেশাদার সব মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন। তারা একিউ খানের চলে যাওয়াকে পাকিস্তানের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে বর্ণনা করেন।

ডায়ালসিলেট এম/

0Shares