কালিহাতিতে এক কিশোরীর কলাকাটা লাশ ও পাশে রক্তাক্ত কিশোর উদ্ধার

প্রকাশিত: ১:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২১

কালিহাতিতে এক কিশোরীর কলাকাটা লাশ ও পাশে রক্তাক্ত কিশোর উদ্ধার

 

ডায়ালসিলেট ডেস্ক ::  টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গলাকাটা লাশ এবং একই স্থান থেকে আরও এক কিশোরকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তারও গলায় ধারাল অস্ত্র চালানো হয়েছে। নিহত কিশোরীর নাম  ছুমাইয়া আক্তার (১৬)। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। মনির হোসেন (১৭) নামে কিশোরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

আজ বুধবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার এলেঙ্গা শামছুল হক কলেজের সামনে রাস্তার পাশের খোকন নামের এক ব্যক্তির নির্মানাধীন ভবনের সিঁড়ির নিচ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

 

নিহত ছুমাইয়া আক্তার কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পালিমা গ্রামের ফেরদৌসুর রহমানের মেয়ে। তারা সপরিবারে এলেঙ্গা পৌরসভার রিসোর্ট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ছুমাইয়া এলেঙ্গা রানী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। আহত মনির হোসেন এলেঙ্গা পৌর এলাকার মশাজান গ্রামের মেহের আলীর ছেলে। সে বাসচালকের সহকারী বলে জানা গেছে।

 

নিহত কিশোরীর বাবা ফেরদৌসুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আজ সকাল ৬টায় তার মেয়ে প্রাইম একাডেমিতে প্রাইভেট পড়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে পরে তিনি স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পান, ছুমাইয়াকে কে বা কারা জবাই করে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখেছে। পাশেই অপর একজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের মৃতদেহ দেখতে পান। তবে পাশেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ছেলেটিকে তিনি চিনেন না বলে জানান।

 

আহত মনিরের খালা রোজিনা বেগম সাংবাদিকদের জানান, মনির পেশায় বাসের চালকের সহকারী। গতকাল মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বাড়ি থেকে মনির বের হয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে স্থানীয় লোকজনদের কাছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মনিরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে জবাই করে হত্যা করা মেয়েটি তাদের পরিচিত না বলে জানান।

 

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, সকালে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জবাই করা এক কিশোরী ও এক কিশোরকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে একজন নিহত ও একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আহত মনিরকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার ঘাড়সহ বিভিন্ন স্থানে ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এটি প্রেমঘটিত কোনো কারণ কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে মূল ঘটনায় থাকা দোষীদেরকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে হবে বলে তিনি জানান।

 

0Shares

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ