স্বাস্থ্যের ফাইল গায়েবের ঘটনায় তোলপাড়

প্রকাশিত: ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০২১

স্বাস্থ্যের ফাইল গায়েবের ঘটনায় তোলপাড়

ডায়ালসিলেট ডেস্ক;:স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথি গায়েবের ঘটনায় ছায়া তদন্তে নেমেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল সিআইডির ক্রাইম সিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ ও নথি সংরক্ষণ করে রাখা আলমারি থেকে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করেছে। এ সময় তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৬ জন কর্মচারীকে আটক করে সিআইডি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হেফাজতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েবের ঘটনায় সচিবালয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব বলেছেন, ওইসব নথিতে গোপনীয় কোনো বিষয় নেই। এ ঘটনার পর সচিবালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এর আগেও গত বছর ওই দপ্তর থেকে একটি ক্রয়-সংক্রান্ত নথি গায়েব হয়েছিল। কিন্তু একসঙ্গে ১৭টি নথি গায়েব হওয়ায় বিস্মিত সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত ২৮শে অক্টোবর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব নাদির হায়দার ১৭টি নথি গায়েব হওয়ার বিষয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এতে সচিবালয়ের নিচতলার স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের একটি কক্ষ থেকে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়। শুক্র ও শনিবার মন্ত্রণালয় বন্ধ থাকায় রোববার ঘটনাস্থলে আসেন সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যরা। তারা সচিবালয়ের তিন নম্বর ভবনের নিচতলার ২৪ নম্বর কক্ষ থেকে আলামত সংগ্রহ করেন। এ কক্ষে কর্মরতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিআইডির কর্মকর্তারা। তারা সন্দেহভাজন ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর আঙুলের ছাপ নেন। আলমারিতে থাকা আঙুলের ছাপের সঙ্গে সন্দেহভাজনদের আঙুলের ছাপ মিলিয়ে দেখা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই কক্ষের ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুপুর সোয়া ১টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে সিআইডি কার্যালয়ে নেয়া হয়। তারা হলেন জোসেফ, আয়শা, বাদল, বারী, মিন্টু ও ফয়সাল। এদের মধ্যে জোসেফ ও আয়শার কাছে আলমারির চাবি থাকতো বলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সিআইডির পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা এসেছি ছায়া তদন্ত করতে। তদন্ত শেষে আমরা এ বিষয়ে হয়তো আরও বলতে পারবো। পরে পুরো ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ফাইল মিসিংয়ের বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের অফিসারদের সেখানে খবর নেয়ার জন্য পাঠাই। পরে আমরা নিশ্চিত হই যে, ফাইল মিসিং হয়েছে। মিটিং শেষ করে আমি স্পটে যাই। অতিরিক্ত সচিবরা আমার সঙ্গে ছিলেন। তিনি আরও বলেন, আমি পুলিশকে খবর দিলাম। একজন এডিসিসহ পুলিশের আরও দু’জন কর্মকর্তা এখানে এসেছেন। তারা বিষয়গুলো দেখেছেন। দেখার পর আমি তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রী মহোদয় ও ক্যাবিনেট সচিব মহোদয়কে অবহিত করি এবং পুলিশকে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলি। আমি যখন মিটিংয়ে ছিলাম, জিডি করার কার্যক্রম তারা সম্পন্ন করেছে। সচিব বলেন, সিআইডিকে অনুরোধ করি, বিষয়টি দেখার জন্য। ফাইল তো আমাদের উদ্ধার করতে হবে, যেভাবেই হোক। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। কখন, কীভাবে হলো তা জানতে হবে। এখন সিআইডি তদন্ত করছে। আমাদের অফিসাররা সার্বিক সহযোগিতা করছেন। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব বলেন, সেই কমিটি কাজ শুরু করেছে। আমরা আশা করছি, শিগগিরই জানতে পারবো, কারা-কীভাবে কাজটি করেছে এবং কেন করেছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, আমরা তো সত্যিকারভাবেই জানি না, কে কাজটি করেছে। আমি তো মনে করি, আমরা সবাই সন্দেহের মধ্যে আছি। আমরা পুলিশকে বলেছি, আপনারা সবাইকেই ইনক্লুড (যুক্ত) করবেন, যাতে আমরা তথ্যটি জানতে পারি, নথিগুলো উদ্ধার করতে পারি। প্রাথমিকভাবে জিডি হলেও মামলা হয়নি কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি তদন্তাধীন। এখন তদন্তের অগ্রগতি জানার পর ফিডব্যাক নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। ফাইলগুলো কী সংক্রান্ত ছিল- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো ক্রয় সংক্রান্ত। এগুলোতে তেমন গোপন কিছু নেই। প্রতিটি ফাইলের তথ্য আমাদের অন্যান্য বিভাগেও আছে, আমাদের কম্পিউটারেও আছে, আমাদের ডিজি অফিসগুলোতেও আছে। এ নিয়ে তেমন সমস্যা হবে না। কিন্তু মূল বিষয় হচ্ছে ফাইল মিসিং হওয়া। এদিকে নথি গায়েবের ঘটনায় স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. শাহ্‌ আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (চিকিৎসা শিক্ষা) মো. আহসান কবীর এবং উপসচিব (চিকিৎসা শিক্ষা-১) মোহাম্মদ আবদুল কাদের। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডায়ালসিলেট এম/

0Shares