একরাম হত্যা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বাপ্পি ৭ বছর পর গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২১

একরাম হত্যা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বাপ্পি ৭ বছর পর গ্রেপ্তার

ডায়ালসিলেট ডেস্ক::আলোচিত ফুলগাজী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জিয়াউর রহমান বাপ্পীকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আসামির পরিচয় শনাক্ত নিয়ে বিভ্রান্ত থাকায় শনিবার সন্ধ্যায় তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে চালান দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজাম উদ্দিন।

গ্রেপ্তার বাপ্পী ফেনী সদর উপজেলার মোটবি ইউনিয়নের মো. হানিফের ছেলে। একরাম চেয়ারম্যান হত্যার সময় বাপ্পি তার পরিবারের সাথে ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো।

পুলিশ জানায়, ২০১৪ সালের ২০ মে প্রকাশ্য দিবালোকে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় ফুলগাজীর উপজেলা পরিষদের ততকালীন চেয়ারম্যান একরামকে গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে স্ব-দলীয় প্রতিপক্ষের দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক ৩৯ জন আসামির মৃত্যুদন্ডের রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৭ জন আসামি পলাতক রয়েছে।

এদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে একরাম হত্যা মামলার ফাঁসির দন্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি জিয়াউর রহমান বাপ্পী তার শ্বশুর বাড়ি অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ফেনী সদর উপজেলার ধোনসাদ্দা এলাকার শ্বশুর বাড়ি থেকে বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর বাপ্পীর বাবার নাম মো. হানিফ বলে জানালেও ওই মামলার চার্জশিটে বাপ্পির বাবার নাম আজিজ লিপিবদ্ধ থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের পর পরিচয় শনাক্ত নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।

পরবর্তীতে পুলিশ বাপ্পীকে ৫৪ ধারায় আদালতে চালান দিয়ে আদালতকে বিস্তারিত অবহিত করেন। আদালত বাবার নাম সংশোধন করে বাপ্পিকে একরাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে সিদ্ধান্ত প্রদান করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওসি নিজাম উদ্দিন।

ফেনী জজ আদালতের সরকারী কৌঁসুলী হাফেজ আহম্মদ জানান, চেয়ারম্যান একরাম হত্যা মামলায় ৫৬ জন আসামির মধ্যে ৩৯ জন আসামীর ফাঁসির আদেশ প্রদান করেছিলেন বিচারক। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেল, ফেনী পৌরসভার তৎকালীন কাউন্সিলর আবদুল্লাহ হিল মাহমুদ শিবলুসহ ২২ জন আসামি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার, কুমিল্লা কারাগারসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় দন্ডপ্রাপ্ত অপর ১৭ আসামি পলাতক ছিলো।দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরা হলেন- ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন জিহাদ, ছাত্রলীগ নেতা আবিদুল ইসলাম আবিদ, চৌধুরী মো. নাফিজ উদ্দিন অনিক, আরমান হোসেন কাউসার, জাহেদুল হাসেম সৈকত, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, জসিম উদ্দিন নয়ন, এমরান হোসেন রাসেল ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রাসেল, রাহাত মো. এরফান ওরফে আজাদ, একরাম হোসেন ওরফে আকরাম, শফিকুর রহমান ওরফে ময়না, কফিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, মোসলে উদ্দিন আসিফ, ইসমাইল হোসেন ছুট্টু, মহি উদ্দিন আনিছ, বাবলু, টিটু। পলাতকদের মধ্যে চার জন ছাড়া বাকীরা জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

এদের মধ্যে জিয়াউর রহমান বাপ্পিকে শুক্রবার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এখনও ওই মামলায় ১৬ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।

পিপি আরও বলেন, নিম্ম আদালতে রায় হওয়া মামলাটি উচ্চ আদালতে শুনানীর অপেক্ষায় রয়েছে। গত কয়েক বছরে করোনা পরিস্থিতির কারনে বিষয়টি কার্য তালিকায় আসতে পারেনি বলে উচ্চ আদালতের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে

ডায়ালসিলেট এম/

0Shares