সৈয়দ শাহ মোস্তফা (র:) পৌর ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে ৩টি জামাত : বর্ধিত অংশের সংস্কার ও নির্মাণ কাজ শেষে এখন দৃষ্টি নন্দন ঈদগাহ

প্রকাশিত: ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ, মে ১, ২০২২

সৈয়দ শাহ মোস্তফা (র:) পৌর ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে ৩টি জামাত : বর্ধিত অংশের সংস্কার ও নির্মাণ কাজ শেষে এখন দৃষ্টি নন্দন ঈদগাহ

স্টাফ রিপোর্টার॥ সম্প্রসারিত অংশের দৃষ্টি নন্দন নির্মাণ শৈল্পিক কারুকার্য শেষে বর্ণিল আয়োজনে প্রস্তুত সিলেট বিভাগের অন্যতম মৌলভীবাজার হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (র:) পৌর ঈদগাহ। ইসলামী স্থাপত্যশৈলী অনুকরণে দৃষ্টি নন্দন কারুকার্যে বর্ধিত অংশের নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শেষ হওয়ায় আর্কষণীয় হয়ে উঠেছে। ১৫৮ শতক আয়তনের ঈদগাহের বর্ধিত অংশের সংস্কার ও নির্মাণে ব্যয় (দানকৃত জায়গার মূল্য ব্যতিত) হয়েছে ৩ কোটি ৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৪ শত ৩৮ ত্রিশ টাকা। জানা যায় সর্বশেষ ঈদগাহের চুড়ান্ত সম্প্রসারণের প্রয়োজনে শহরের পশ্চিম ধরকাপন নিবাসী মরহুম সৈয়দ তাহির আলী তোতা মিয়ার উত্তরাধিকারীরা দান করেন ১৬ শতক ভূমি। যার বাজার মূল্য ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা।
জানা যায় হযরত শাহ জালাল ইয়েমেনি (রঃ) এর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সহচর হযরত সৈয়দ শাহ্ মোস্তফা বোগদাদী শের-ই সওয়ার চাবুকমার (রঃ) এর মাজার শরীফ ঘেঁষে উত্তর পাশে ১৯৩৩ সালে প্রায় ৫১ শতক ভূমি নিয়ে প্রথম ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করা হয়। খ্যাতিমান ওই সাধকের মাজার শরিফকে কেন্দ্র করে দুই পাশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় স্থাপনা গড়ে উঠে। ১৯৩৩ সালে জনসংখ্যা অনুযায়ী ৫১ শতক ভূমি ছিল পর্যাপ্ত। ওই স্থানেই শুরু হয় প্রথম ঈদের জামাত। সময়ের সাথে যুগের পরিবর্তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরবর্তীতে ক্রমবর্ধমান মুসল্লিদের স্থান সংকুলান নিশ্চিত করার প্রয়োজনে বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তিবর্গ ঈদগাহ সম্প্রসারণের জন্য ভূমি দান করে ঈদগাহের আয়তন বৃদ্ধি করেন।
২০০০ সালে পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে পুরাতন ঈদগাহকে নতুন আঙ্গিকে পূন: নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে পুরাতন ঈদগাহের ভিতরে ৭৯ শতক ভূমি আছে এবং বাহিরে আরও ১৩ শতক ভূমি রয়েছে।
২০১৪ সালে সাবেক সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী মরহুম সৈয়দ মহসীন আলীর নেতৃত্বে পুরাতন ঈদগাহের সম্মুখস্থ প্রায় ৪৩.৬৫ শতক ভুমি দখলমুক্ত করে মাটি ভরাটের মাধ্যমে ঈদগাহ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে পৌরসভার বর্তমান মেয়র ফজলুর রহমান নেতৃত্বে ঈদগাহের চুড়ান্ত সম্প্রসারণ করে নান্দনিক ইসলামিক স্থাপত্যে নির্মাণ করার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। করোনার কারণে দুই বছর ঈদের জামাত বন্ধ থাকার পর আগামী ঈদের জামাত খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যেই ঈদগাহকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জায়। পৌর মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান জানান দীর্ঘদিন পর সংস্কার ও বর্ধিত অংশের নির্মাণ কাজ শেষে এই প্রথম সৈয়দ শাহ্ মোস্তফা (র.) পৌর ঈদগাহ ময়দানে ঈদের ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত নামাজ আদায় হবে সকাল সাড়ে ৬ টায়, সাড়ে ৭ টায় ও সাড়ে ৮ টায়। তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে পৌর এলাকার মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য প্রায় অর্ধশতাধিক মসজিদ ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

0Shares

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ