বিষমুক্ত সবজি চাষ করেন শিক্ষক শান্তু মনি সিংহ

প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৩

বিষমুক্ত সবজি চাষ করেন শিক্ষক শান্তু মনি সিংহ

ডায়ালসিলেট ডেস্ক ::  গাছের ডালে দুলছে বেগুন। ফুলের মতো ফুটে আছে ফুলকপি- বাঁধাকপি। ডগাই ডগাই কচি লাউ। থরে থরে সরিষা, কাঁচামরিচসহ নানান সবজি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় সবজিগুলোর ভারে যেকোনো সময় ভেঙে পড়বে গাছের ডাল। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই উৎপাদন হচ্ছে এসব সবজি। বাজারে নিতে হয় না। বাড়িতে এসে ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান কিনে। সুস্বাদু ও বিষমুক্ত হওয়ায় এ সবজির চাহিদাও অনেক।বলছি একজন শিক্ষকের সবজি বাগানের কথা। যিনি টিউশনি করানোর পাশাপাশি ধরে রেখেছেন মাটির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। তবে এখনও আগলে রেখেছেন পূর্বপুরুষের পেশাকে। নিজের হাতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করেন। ছাত্রদের তিনি শেখান নিজের শিকড় ভুলতে নেই। পূর্বপুরুষের পেশাকে অশ্রদ্ধা করতে নেই। মা আর দেশের মাটির চেয়ে খাঁটি কিছু নেই। কৃষিপ্রাণ এই মানুষটির নাম শান্তু মনি সিংহ। তিনি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের তেতইগাঁও রশিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি জানান, তার দাদা যাদব সিংহ কৃষিকাজে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনিই শিখিয়েছেন মাটিকে ভালোবাসলে মাটি তার প্রতিদান দেয়। তাই তো মাঠে কাজ করতে কোনো দ্বিধা নেই তার। বরং নিজ হাতে উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজি অন্যের ঘরে পৌঁছাতে পারলেই যেন তার তৃপ্তি। শিক্ষক শান্তু মনি সিংহ প্রতিবছরের মতো এবারও নিজ উদ্যোগে কমলগঞ্জ উপজেলার তিলকপুর গ্রামে পূর্ব পল্লীতে সবজি চাষ করেছেন।শান্তু মনি সিংহ জানান, এবার ৩০ শতক ফসলি জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকার মতো। ইতোমধ্যে ২০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। পুরো জমিতে সবজি আছে এখনও। খরচের টাকা বাদে লাখ খানেক টাকা আয় হওয়ার আশা তার। সবজি চাষে ছেলেকে সঙ্গ দেন ৬৫ বছর বয়সী মা রাজেশ্বরী সিনহা। তিনি জানান, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব সবার বাড়িতে এই সবজি পাঠানো হয়। আবার জমিতে এসেও যে যার মতো সবজি নিয়ে যান। কোনো ধরনের রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহার হয় না বলে সবজিগুলো খেতেও অনেক সুস্বাদু। রাজেশ্বরী সিনহা বলেন, আমার ছেলে খুব সকাল ঘুম থেকে উঠে আমাকে সঙ্গে নিয়ে আগে জমিতে যায়। সেখানে জমিতে কী লাগবে, কোন গাছের কী অবস্থা, কী করতে হবে, তা মা-ছেলে মিলে পরামর্শ করে নিই। পরে ছেলে স্কুলে চলে যায়। আবার স্কুল থেকে এসে জমিতে কাজ করে।উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়ন থেকে আসা আলমগীর হোসেন বলেন, আমি রাস্তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। দেখলাম এখানে সবজি বিক্রি করছেন। কিছু টাটকা সবজি কিনলাম। দামও সস্তা, খুব সুস্বাদু হবে আশা করছি।

সবজি কিনতে আসা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এখানে অল্প মূল্যে বিষমুক্ত ভালো সবজি পাওয়া যায়। তাই এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বিশ্বজিত রায় বলেন, কমলগঞ্জে কৃষকরা শীতকালীন সবজি চাষে মাঠে প্রান্তরে অনেক সময় ব্যয় করছেন। জমির পরিচর্যার পাশাপাশি বীজতলা তৈরি, চারা উৎপাদন, রোপণের বিষয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। শিক্ষক শান্তু মনি সিংহ সবজি চাষের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়।

0Shares

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ